খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ |

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

আজ ৩ নভেম্বর, ঐতিহাসিক জেলহত্যা দিবস। ১৯৭৫ সালের এই দিনে পরিকল্পিতভাবে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী অবস্থায় হত্যা করা হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনাকারী জাতীয় চার নেতা বাংলাদেশের প্রথম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি সৈয়দ নজরুল ইসলাম, প্রধানমন্ত্রী তাজউদ্দীন আহম্মেদ, মন্ত্রিসভার সদস্য ক্যাপ্টেন এম মনসুর আলী এবং এ এইচ এম কামরুজ্জামানকে। এটি ছিল ১৯৭৫ সালের কলঙ্কজনক দ্বিতীয় অধ্যায়। এর আগে একই বছরের ১৫ আগস্ট বাংলাদেশের স্থপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যা করা হয়। চার নেতার হত্যা পরবর্তী সময় থেকে প্রতিবছর এ দিনটি জেলহত্যা দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।
কারাগারের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকা জাতীয় চার নেতাকে সেদিন গুলি করে হত্যার পর গুলিবিদ্ধ দেহকে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে ক্ষত-বিক্ষত করা হয়। আজও বর্বরোচিত এ ধরনের হত্যাকান্ড পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল হয়ে আছে। হত্যা পরবর্তী দিন অর্থাৎ ৪ নভেম্বর তৎকালীন কারা উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি প্রিজন) আব্দুল আউয়াল লালবাগ থানায় একটি হত্যা মামলা করেন। তবে দীর্ঘ ২১ বছর এ বিচার প্রক্রিয়াটি থেমে ছিল। ১৯৯৬ সালে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসলে মামলাটি সক্রিয় হয়। ১৯৯৮ সালের ১৫ অক্টোবর এ মামলায় ২৩ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয় পুলিশ। দীর্ঘদিন পর ২০০৪ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকার মহানগর দায়রা জজ আদালতের বিচারক মতিউর রহমান রায় ঘোষণা করেন। রায়ে ২০ আসামির মধ্যে ১৫ সাবেক সেনা কর্মকর্তার শাস্তি এবং অপর পাঁচ জনকে খালাস দেয়া হয়। পলাতক আসামি রিসালদার (ক্যাপ্টেন) মোসলেহ উদ্দিন, দফাদার মারফত আলী শাহ ও দফাদার মোঃ আবুল হাশেম মৃধাকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ এবং ১২ জনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেয়া হয়। আর সাবেক মন্ত্রী কে এম ওবায়দুর রহমান, শাহ মোয়াজ্জেম হোসেন, নুরুল ইসলাম মঞ্জুর ও তাহেরউদ্দিন ঠাকুরকে খালাস দেয়া হয়। উচ্চ আদালত থেকে চলতি বছর আপিল বিভাগের রায়ের মাধ্যমে এই মামলার বিচারকাজ শেষ হয়।
কে কবে শুনেছে জেলখানায় বিনা বিচারে আবদ্ধ মানুষকে নৃশংসভাবে হত্যা করতে।  এ হত্যার কাহিনী হিটলারের নিষ্ঠুরতাকেও ছাড়িয়ে যায় । জাতি আজ প্রিয় চার জাতীয় নেতাকে যথাযথ শ্রদ্ধা প্রদর্শনের মাধ্যমে দেশের ইতিহাসের অন্যতম বর্বরোচিত এই কালো অধ্যায়টিকে স্মরণ করবে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এবং আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন দল সংগঠনের উদ্যোগে সারাদেশে পালিত হবে শোকাবহ এই দিবস। যতদিন এই  বাংলাদেশ থাকবে ততদিন খুনীরা ঘৃণিত হয়ে থাকবে এই বাংলার প্রতিটি ঘরে ঘরে। 
আজ জাতির সামনে সময় এসেছে অবিসংবাদিত চার নেতার মূল্যায়নের। যারা বঙ্গবন্ধুর অবর্তমানে এতবড় একটি মুক্তিযুদ্ধকে সুচারুভাবে পরিচালনা করে দেশকে স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন, মুক্তিযুদ্ধের যৌক্তিকতা বহির্বিশ্বে তুলে ধরতে সমর্থ হয়েছেন, যারা পাহাড় সমান মনোবল নিয়ে যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়তে দেশবাসিকে উদ্বুদ্ধ করতে পেরেছেন, যারা পাক হানাদারদেরকে মাত্র নয় মাসের ব্যবধানে পরাজিত করে বিশে¡র বুকে এক নতুন ইতিহাস রচনা করতে সমর্থ হয়েছেন, এসব স্বাধীনতাকামী নেতারা দেশের জন্য কি না করেছেন, কতটা রাত তাঁরা নির্ভাবনায় ঘুমিয়েছেন, কতটা দিন তারা পরিবারের সংগে, ছেলে মেয়েদের সংগে কাটিয়েছেন। যারা দেশের জন্য এত ত্যাগ স্বীকার করলেন হায়েনারা তাদেরকে শারিরিকভাবে হত্যা করলেও তোমরা অমর হয়ে আছ প্রতিটি বাঙ্গালীর হৃদয়ে । তোমাদের অবদান কোনদিন ইতিহাস থেকে মুছে যাবে না । তোমরা বাংলার সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান, তোমরা আমাদের গর্ব। তোমাদের রক্তের ঋণ বাঙালী কোনদিন ভুলবে না।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০










ব্রেকিং নিউজ