খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

স্বাস্থ্য প্রশাসন দর্শকের ভূমিকায়

খুলনায় অবৈধভাবে রক্ত পরিসঞ্চালনের কাজ করছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো

বশির হোসেন | প্রকাশিত ০২ নভেম্বর, ২০১৯ ০১:০০:০০

যে কোন মাঝারি থেকে বড় ধরনের অপারেশনে রক্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। এছাড়াও একজন রোগীর শরীরে হিমোগ্লোবিন অতিরিক্ত মাত্রায় কমে যাওয়াসহ নানা চিকিৎসায়ও রক্ত পরিসঞ্চালন এর প্রয়োজন হয়। মাত্র দুই থেকে তিনটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া খুলনার আর কোন বেসরকারি হাসপাতাল বা ক্লিনিকে রক্ত পরিসঞ্চালনের অনুমোদন নেই। অথচ অবৈধভাবেই চলছে বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোতে রক্ত ক্রস ম্যাচিং, রক্তের বিভিন্ন পরীক্ষা ও রক্ত পরিসঞ্চালন। 
নিরাপদ রক্ত পরিসঞ্চালন আইন-২০০৮ অনুযায়ী বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে রক্ত পরিসঞ্চালন কার্যক্রম পরিচালনার সুর্নিদিষ্ট নীতিমালা রয়েছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, খুলনা সরকারি হাসপাতালগুলোর বাইরে শুধুমাত্র আদ-দ্বীন আকিজ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ট্রান্সফিউশনের নিবন্ধন আছে। এর বাইরে শুধুমাত্র গাজী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সকল নিয়ম মেনে আবেদন করেছে। এছাড়া অন্য কোন প্রতিষ্ঠানেই রক্ত পরিসঞ্চালনের কোন অনুমোদন নাই। অথচ নগরীর বেশিরভাগ ক্লিনিকে যেখানে রোগী ভর্তির ব্যবস্থা আছে প্রায় প্রত্যেকটি প্রতিষ্ঠানেই ডোনার এর শরীর থেকে রক্ত টেনে তা রোগীর শরীরে দিচ্ছে যা সম্পূর্ণ বেআইনি।
বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য মতে নগরীর কেডিএ এভিনিউ এলাকার ডক্টরস পয়েন্ট স্পেশালাইজড হাসপাতাল, সোনাডাঙ্গা বাস টার্মিনাল এলাকার হেলথ কেয়ার প্রাইভেট হাসপাতালে সংরক্ষণ করা না হলেও রক্ত ক্রস ম্যাচিং করে রোগীর শরীরে সরবরাহ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণ বেআইনি। একই অবস্থা ইসলামী ব্যাংক হাসপাতাল, খুলনা সিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, নার্গিস মেমোরিয়াল হাসপাতাল, রূপসার ড্যাপস ক্লিনিকে, ও মুজগুন্নী মহাসড়কে বিশ্বাস ক্লিনিকেও। সরেজমিন কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে দেখা যায় এসব ক্লিনিকে নেই কোন পেশাদার টেকনিশিয়ান, নেই রক্ত নেয়ার আধুনিক সরঞ্জাম।
সাধারণ মানুষকে রক্ত সংগ্রহ করে দেয়ার খুলনার বৃহৎ সংগঠন খুলনা ব্লাড ব্যাংক এর অন্যতম সংগঠন মোঃ আসাদ জানান, তারা বেশিরভাগ সময়ই সরকারি হাসপাতালে ব্লাড দেন। তবে রোগীর প্রয়োজনে বেসরকারি ক্লিনিকেও রক্ত দিতে যান। তবে বেসরকারি বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠানে রক্ত নেয়ার লোকজন তেমন অভিজ্ঞ না। এতে ডোনারের কষ্ট হয়। 
খুলনা মেডিকেল কলেজের ব্লাড ট্রান্সফিউশন বিভাগের মেডিকেল অফিসার ডাঃ জিল্লুর রহমান তরুণ এ প্রতিবেদককে বলেন, শুধু খুলনা নয় দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ এবং সর্বাধুনিক ব্লাড ব্যাংক খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংক, যা সপ্তাহে ৭ দিন ২৪ ঘন্টাই খোলা থাকে। উন্নত মানের রি-এজেন্ট আর দক্ষ টেকনোলোজিস্ট দিয়ে এখানে সেবা দেয়া হয় ও রক্ত সংরক্ষণ করা হয়। রক্তের ক্রসম্যাচিংসহ প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করা হয়। এছাড়া খুলনার একমাত্র সেল সেপারেটর মেশিনটিও খুমেক হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে আছে। তাই রোগীদের উচিৎ অননুমোদিত যায়গা প্রত্যাখ্যান করে অল্প খরচে সরকারিভাবে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্লাড ব্যাংকে এসে রক্ত সঞ্চালন করা।
খুলনা সিভিল সার্জন ডাঃ এস এম আব্দুর রাজ্জাক এ প্রতিবেদককে বলেন, রক্ত পরিসঞ্চালন এর অনুমোদন ব্যাতিত কোন প্রতিষ্ঠানই রক্ত ক্রসম্যাচিং  ও সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা ও রক্ত পরিসঞ্চালন করতে পারবে না। কোন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ এলে তাদের বিরুদ্ধে অবশ্যই আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে। জেল ও জরিমানাসহ কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে অনুমোদনহীনভাবে রক্ত পরিসঞ্চালন করলে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ