খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ৩০ কার্তিক ১৪২৬ |

সড়কে নতুন আইনের যথাযথ প্রয়োগ হোক

০১ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

সড়কে নতুন আইনের যথাযথ প্রয়োগ হোক

অবশেষে আজ ১ নভেম্বর থেকে সড়কে নতুন আইন কার্যকর হতে যাচ্ছে। নিরাপদ সড়কের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের পর গত বছর সংসদে এই আইনটি পাস হয়। গত ২২ অক্টোবর এই আইনটির গেজেট প্রকাশিত হয়েছে। তারপর ১১ মাস রাষ্ট্র নিশ্চুপ। পাত্তা ছিল না সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮-এর। গত বছরের ২৯ জুলাই রাজধানীর বিমানবন্দর সড়কে বাসচাপায় দুই শিক্ষার্থী নিহতের ঘটনায় শিক্ষার্থীরা নিরাপদ সড়ক আন্দোলন শুরু করলে নড়েচড়ে বসে সরকার। শিক্ষার্থীদের দাবির প্রেক্ষিতে সরকার সড়ক পরিবহন আইন প্রণয়নের কাজ শুরু করে। কার্যকর হওয়ার মধ্য দিয়ে অবশেষে এই আইন আলোর মুখ দেখলো।
নিরাপদ সড়কের দাবিতে যারা কাজ করেন, তাদের সকলের দাবি ছিল এই আইনটিতে ‘সড়ক নিরাপত্তা’ শব্দটি থাকুক এবং চালকদের শিক্ষাগত যোগ্যতা হোক সর্বনিম্ন এসএসসি। সেটি না করে করা হয়েছে ৮ম শ্রেণী। এরপরও একটি নতুন আইন কার্যকর হচ্ছে, এটিই বড় অর্জন এবং এজন্য সরকারকে ধন্যবাদ দিতে চাই।  ১৯৮৩ সালে সামরিক সরকারের সময়ে জারি করা ‘দ্য মোটর ভেহিক্যাল অর্ডিনেন্স’ (মোটরযান অধ্যাদেশ) টি আদালতের নির্দেশে পরিবর্তন করে সড়ক পরিবহন আইন নামে পাস হওয়া আইনে সড়কে উদ্দেশ্য প্রণোদিত হত্যাকান্ডের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানসহ বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ ধারা রাখা হয়েছে। 
আমরা জানি, কি কারণে বেশি দুর্ঘটনা ঘটে এবং কি পদক্ষেপ গ্রহণ করলে দুর্ঘটনার হার কমিয়ে আনা সম্ভব। অতিরিক্ত গতিতে, ঝুঁকিপূর্ণ যান নিয়ে, বিশেষ করে বাসচালকদের বেপরোয়া মনোভাবের কারণেই বেশিরভাগ দুর্ঘটনা ঘটে। একই সঙ্গে আইনের রক্ষকদের ঢিলেঢালা ভাব ও দুর্নীতির কারণে গাড়িচালকদের মধ্যে আইন ভাঙার প্রবণতা বাড়ে। পথচারীদেরও গুরত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে, বিশেষ করে ট্রাফিক আইন মেনে চলার ব্যাপারে আমাদের মানসিকতার আমূল বদল প্রয়োজন। পরিবহন খাতে সরকারের চ্যালেঞ্জ দুর্ঘটনা নিয়ন্ত্রণ করে প্রাণহানি কমানো। চালক, সড়ক, যানবাহন এবং ব্যবস্থাপনা কোনোটিই ঠিক নেই দেশে। দুর্ঘটনা এড়াতে কড়া আইনের পাশাপাশি এসব বিষয়ের উন্নতি প্রয়োজন। জনমানসে সচেতনতাও প্রয়োজন। অনেক সময়েই দেখা যায়, ঝুঁকি নিয়ে রাস্তা পার হতে গিয়ে কিংবা চলন্ত বাস থেকে ওঠানামা করার সময়ে দুর্ঘটনা ঘটছে। 
আমরা মনে করি, দুর্ঘটনায় মৃত্যুর হার কমাতে আইনের কড়াকড়ি ও সচেতনতা বৃদ্ধি যেমন দরকার, তেমনি ট্রাফিক বিভাগের কাঠামোরও উন্নয়ন প্রয়োজন।  তাড়াহুড়ো করে গাড়ি চালাতে গিয়ে পথচলতি মানুষকে পিষে দিয়ে যাচ্ছে, কখনও রেষারেষি করতে গিয়ে মানুষের প্রাণ কেড়ে নিচ্ছে প্রতিদিনের এই ছবিটি বদলাতেই হবে। সড়ক আইনের বিরুদ্ধে যারা রাস্তায় শ্রমিকদের নামিয়ে মানুষের মুখে পোড়া মবিল লাগিয়ে দিয়ে পুরো জাতিকে অপমান করেছিল, তাদের জন্য বার্তা কোনও পরিবর্তন ছাড়াই এই আইন বাস্তবায়িত হতে চলেছে। তাদের জন্য আরও বার্তা এই যে, বেপরোয়া গাড়ি চালালে আইনি ব্যবস্থা থেকে ছাড়া পাবেন না তারা। পুলিশের কাছেও মানুষের দাবি নতুন আইন কার্যকর হলেই তারা নিশ্চিন্ত থাকবেন না, যথাযথ প্রয়োগ করবেন সেই আইন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০








ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ