পিকআপ ও ইউটিএম মেশিন ক্রয়ে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ


খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (কেডিএ)-র তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কেনা ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ইউটিএম মেশিন অন্তত তিন মাস যাবত খোলা আকাশের নিচে প্যাকেটবন্দি অবস্থায় পড়ে আছে। ক্রয়নীতি অনুসরণ না করা ও অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ উঠায় ওই মেশিন বুঝে নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তবে সংস্থাটির চেয়ারম্যান বলেছেন, “অনিয়ম হলে কঠোর পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”
কেডিএ’র তথ্য অনুযায়ী, খুলনা নিরালা থেকে সিটি বাইপাস, খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়ের মহল এবং দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণে পরিকল্পনা গ্রহন করে সংস্থাটি। এর মধ্যে প্রথম সড়কটি নিরালা ১নং সড়ক হয়ে দীঘির পাশ দিয়ে সোজা বাইপাসে গিয়ে মিশবে। এ সড়কটি হবে আড়াই কিলোমিটার। দ্বিতীয় সড়কটি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে রায়ের মহল পর্যন্ত ৪ দশমিক ৬ কিলোমিটার এবং তৃতীয় দৌলতপুর কৃষি কলেজ (পুরাতন সাতক্ষীরা রোড) থেকে বাস্তুহারা পর্যন্ত ২ দশমিক ৭ কিলোমিটার। এই তিনটি সড়কের ব্যয় ধরা হয়েছে তিন কোটি ৯৫ লাখ টাকা। ২০১৮ সালের ফেব্র“য়ারিতে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদন মেলে। কিন্তু এখনও মাঠ পর্যায়ে কাজ শুরু না হলেও সম্প্রতি এ প্রকল্পের কাজ দেখাশোনার জন্য ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে একটি পিকআপ ও রড পরীক্ষায় ১ কোটি ৩০ লাখ টাকা ব্যয়ে ২ হাজার কেএন ক্ষমতার একটি ইউটিএম মেশিন কেনা হয়েছে। নিয়োগকৃত ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান শেল কর্পোরেশন এ মেশিন সরবরাহ করেছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে পিকআপ ও মেশিন কেনায় ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। কারণ ক্রয়কৃত এ পিকআপের বর্তমান বাজার দর মাত্র ৪০ লাখ টাকা এবং দুই হাজার কেএন ক্ষমতার চায়না ইউটিএম মেশিনের বাজার দর মাত্র ৫৫-৬০ লাখ টাকা। সঠিক দামে কিনলে ভ্যাট, শিপিং ও আনুষাঙ্গিক খরচসহ মেশিনের ন্যায্য খরচ দাঁড়াবে সর্বোচ্চ ৯০ লাখ টাকা। তবে কম টাকায় কিনে এ ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ মূল্য দেখানো হয়েছে। এছাড়া নিয়ম হলো এ মেশিন ক্রয়ের ক্ষেত্রে আগে ঠিকাদারী কোম্পানির যাবতীয় অভিজ্ঞতার কাগজপত্র ভেটিং, চায়না কোম্পানিতে গিয়ে মডেল চেক এবং কেডিএ’র নামে এলসি করতে হবে। তারপর সংস্থার একটি কারিগরি কমিটি ওই মডেল ও যন্ত্রাংশ মিলিয়ে মালামাল বুঝে নেবেন। কিন্তু এ ক্ষেত্রে এসব কোন নিয়ম-কানুন মানা হয়নি। নিয়ম ভেঙে সরাসরি ঠিকাদারের মাধ্যমে নিজেই মেশিন গ্রহণ ও টেন্ডারের শর্ত ভেঙে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে ৩০ লাখ টাকা অগ্রিম প্রদান করেছেন প্রকল্পের পিডি মুজিবুর রহমান। অন্যদিকে ক্রয়নীতি অনুসরণ না করায় কেডিএ কর্তৃপক্ষ ওই মেশিন বুঝে নিতে অনাগ্রহ প্রকাশ করেছে। ফলে সংস্থাটির গ্যারেজের সামনে খোলা আকাশের নিচে প্যাকেটবন্দি হয়ে পড়ে আছে মেশিন।
তবে একাধিক সূত্র জানিয়েছে, প্রকল্পের আওতায় পিকআপ গাড়ি ও ২ হাজার কেএন ক্ষমতার চায়না ইউটিএম মেশিন ক্রয়ে প্রায় অর্ধ কোটি  টাকার মতো দুর্নীতি হয়েছে। যা সঠিকভাবে তদন্ত করলে বেরিয়ে আসবে।
সুজন-এর জেলা সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা বলেন তিনটি সংযোগ সড়ক নির্মাণ প্রকল্পে কেনা-কাটায় যে অনিয়ম-দুর্নীতি হচ্ছে, তা তদন্ত করে সরকারের উচিত শুদ্ধি অভিযান পরিচালনা করা। জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা নিশ্চিত করা। তাহলে কর্মকর্তাদের বা প্রকল্প পরিচালকদের মধ্যে এ ধরনের প্রবণতা কমে আসবে।
কেডিএ অথরাইজড অফিসার ও প্রকল্প পরিচালক মুজিবর রহমান এ বিষয়ে তেমন কোন বক্তব্য প্রদানে রাজি হননি। শুধু তিনি বলেছেন ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এনে রেখে গেছে। কিন্তু মেশিন এখনও বুঝে নেয়া হয়নি। এর বেশি কোন কথা চেয়ারম্যানের অনুমতি ছাড়া বলা যাবে না। 
কেডিএ’র চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোঃ আব্দুল মুকিম সরকার গতকাল রবিবার মুঠোফোনে বলেন, তিনি ঢাকাতে আছেন। আর এসব বিষয় তার নলেজে ছিলো না। যেহেতু তিনি জানতে পারলেন, তাই অফিসে গিয়ে কঠোর পদক্ষেপ ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন।


footer logo

© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত।

এই ওয়েবসাইটের কোনো লেখা বা ছবি অনুমতি ছাড়া নকল করা বা অন্য কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।