খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন সমাপনী  পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করে নয়

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রাথমিক শিক্ষকদের আন্দোলন সমাপনী  পরীক্ষার্থীদের জিম্মি করে নয়

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য নিরসনের আন্দোলন দীর্ঘদিনের। শিক্ষকদের এ ন্যায্য আন্দোলনে আমাদের সমর্থন রয়েছে। কিন্তু এ আন্দোলনের প্রভাবে প্রাথমিক সমাপনী নিয়ে শঙ্কা সৃষ্টি হওয়ার বিষয়টি আমরা গ্রহণযোগ্য বলে মনে করি না। প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা শুরু হবে ১৭ নভেম্বর থেকে আর আন্দোলনে থাকা শিক্ষকরা ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে বলেছেন, এ সময়ের মধ্যে দাবি না মানলে তারা প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষা বর্জন করবেন। শিক্ষকরা যেভাবে তাদের দাবি পূরণে শিক্ষার্থীদের জিম্মি করছেন, সেটি শিক্ষার স্বার্থেই মেনে নেওয়ার মতো নয়। দেশের সবচেয়ে বড় পাবলিক এ পরীক্ষার সঙ্গে কেবল ২৯ লাখ পরীক্ষার্থীই জড়িত নয় বরং আরও লাখ লাখ অভিভাবকও উদ্বিগ্ন। কোমলমতি এসব শিশুকে অনিশ্চয়তার মধ্যে ঠেলে দেওয়া কোনোভাবেই কাম্য নয়। 
এটা তো সত্য যে, শিক্ষার ভিত্তি প্রাথমিক শিক্ষা হলেও এখানে কর্মরত শিক্ষকরা নানাভাবেই বঞ্চিত হয়ে আসছেন। তাদের বেতন-ভাতা সামান্য, পদোন্নতিসহ অন্যান্য সুবিধা নেই বললেই চলে। ফলে বারবার শিক্ষকরা তাদের ন্যায্য দাবি আন্দোলনে রাজপথে নামেন, রাজধানীতে জড়ো হয়ে নিজেদের বঞ্চনার কথা জানান দেন। এদিকে আমরা দেখেছি, সরকারও বরাবরই তাদের আশ্বাস দিয়ে আসছে। এমনকি বর্তমান সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারে শিক্ষকদের বেতন বৈষম্য দূরীকরণের কথা থাকলেও শিক্ষকরা কেন বঞ্চিতই থাকছেন, সেটি প্রশ্ন। আমাদের মনে আছে, ২০১৪ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণীতে উন্নীত করে নতুন করে বেতন স্কেল নির্ধারণের ফলে প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের বেতন স্কেলে পার্থক্য অনেক বেড়ে যায়। প্রধান শিক্ষকের ১১তম গ্রেড আর সহকারী শিক্ষকের ১৪তম গ্রেডে থাকাটা স্পষ্ট বৈষম্য। এ বৈষম্য কমাতে প্রধান শিক্ষকের দশম গ্রেড আর সহকারী শিক্ষকের ১১তম গ্রেডের আন্দোলনকে ন্যায্য হিসেবে নিয়ে বিবেচনার জন্য আমরা সরকারকে অনুরোধ জানাই। মানুষ গড়ার কারিগর শিক্ষকদের এ দাবি অযৌক্তিক নয়। সরকার তাদের দাবি মেনে নিলে আমাদের শিক্ষার মানসহ সার্বিক দুরবস্থার উত্তরণ ঘটতে পারে। কিন্তু এখন প্রাথমিক সমাপনী পরীক্ষার বিষয়টি অবশ্যই দেখতে হবে। আমরা মনে করি, এখানে সরকার ও শিক্ষক নেতৃবৃন্দ উভয়েরই দায় রয়েছে। পরীক্ষা নিয়ে উদ্বেগের অবসানও তারাই ঘটাতে পারেন। শিক্ষকরা পরীক্ষা বর্জন না করে শিক্ষা কার্যক্রম অব্যাহত রেখেই সরকারের সঙ্গে কীভাবে আলোচনা করে তাদের দাবি-দাওয়া আদায় করতে পারেন, সেদিকে দৃষ্টি দেওয়ার আহ্বান আমাদের। একই সঙ্গে সরকারের তরফ থেকে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলরাও শিক্ষকদের ন্যায্য দাবি আমলে নিয়ে দ্রুত সময়ে তা বাস্তবায়নের ব্যবস্থা করবেন বলে আমরা মনে করি। কেবল আশ্বাস নয়, আমরা সেটা কাজে দেখতে চাই। শিক্ষকরা বলছেন, তাদের পিঠ দেয়ালে ঠেকে গেছে। শিক্ষার স্বার্থে, সর্বোপরি দেশের জন্যই তাদের দাবি আমলে নিতে হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০








ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ