খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

আবারও পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা দ্রুত বিচারেও দমছে না বর্বরতা!

২৮ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

আবারও পায়ুপথে বাতাস ঢুকিয়ে হত্যা দ্রুত বিচারেও দমছে না বর্বরতা!

সমাজ কি দিনের পর দিন অন্ধকারের দিকে যাচ্ছে? এই প্রশ্ন ফের আমাদের সামনে দাঁড় করিয়েছে বগুড়ার কাহালুর জুট মিলের শিশু শ্রমিক আলাল হোসেন হত্যাকান্ড। আলালের সহকর্মী যতন কুমার গত শুক্রবার সকালে মেশিন পরিস্কার করা হাওয়া মেশিনের পাইপ আলালের পায়ুপথে ঢুকিয়ে তাকে হাওয়া দিতে থাকলে আলাল অসুস্থ হয়ে পড়ে। তাকে এ অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয় এবং চিকিৎসাধীন অবস্থায় ওই দিন বিকেলে আলাল মারা যায়। এই ঘটনাটি আমাদের অধিকতর উদ্বিগ্ন করে এ কারণে যে, হত্যাকারীও একজন শিশু শ্রমিক। হত্যাকারী যতনকে পুলিশ আটক করে এবং প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছে, দুষ্টুমির ছলে সে এ কাজ করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ কি মানসিক বিকারের মর্মান্তিক ফল, নাকি অপসংস্কৃতির কুফল। আমাদের স্মরণে আছে, খুলনায় একইভাবে রাকিব হত্যার কথা। দৃষ্টান্ত আরও দেওয়া যাবে।
খুলনার কিশোর রাকিব হত্যা মামলার রায় আমাদের আদালতে দ্রুত বিচারের ইতিহাসে দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। সেটি এ কারণে নয় যে, আসামিরা সর্বোচ্চ শাস্তি পেয়েছিল। নৃশংসতার কারণে ওই মামলা যেমন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছিল, ঠিক তেমনি দ্রুততম বিচার দেশবাসীকে আশ্বস্ত করেছিল। দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরও বায়ু ঢুকিয়ে হত্যা থামছে না কেন? আরও নানাভাবে এমনকি পারিবারিক বিরোধের বড় শিকার হচ্ছে শিশুরা। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের দিরাইয়ের তুহিন হত্যাকান্ড এরই নজির। এ রকম নজির আরও আছে। শিশুবান্ধব পরিবেশ গড়ে তোলা যাচ্ছে না। দেশে শিশু শ্রমও বন্ধ করা যায়নি। শিশুর প্রতি সহিংসতা ক্রমেই বাড়ছে। সমাজ কেন শিশুর প্রতি বৈরী হচ্ছে তা বিশ্লেষণের দাবি রাখে। কিন্তু আলাল হত্যাকান্ড আরও নতুন জিজ্ঞাসার সৃষ্টি করেছে। কী করে একটি শিশুও হন্তারক হয়ে ওঠে, তাও এখন বিশ্লেষণের দাবি রাখে। আলাল হত্যাকান্ডের দ্রুত বিচারের পাশাপাশি এই অনুসন্ধানও চালাতে হবে। এই আত্মজিজ্ঞাসা করতে হবে পরিবারের সদস্যদেরও।
এটা সত্য, সমাজের একশ্রেণীর বর্বর পাষন্ড মানুষের হাতে অনেকের জীবনই বিপন্ন হয়ে পড়ছে, অবলীলায় জীবন চলে যাচ্ছে। ঠুনকো কারণে শিশুদের হত্যা করা হচ্ছে। আপনজনের হাতেও শিশুর জীবন চলে যাচ্ছে। কেবল তাই নয়, আমাদের কোমলমতি শিশুরা অবলীলায় নির্যাত ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। অথচ শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সমাজ তথা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। কারণ আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ কান্ডারি। কাজেই সমাজে শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি হয়ে পড়েছে। শিশুর সুস্থ বিকাশ কীভাবে হবে এ ব্যাপারে রাষ্ট্রের নতুনভাবে ভাবা উচিত। আমরা দীর্ঘদিন থেকে লক্ষ্য করে আসছি, শিশুশ্রম বন্ধের কথা বলা হলেও এ ব্যাপারে কোনো ধরনের কার্যকর উদ্যোগ চোখে পড়ছে না যেটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। যেভাবেই হোক শিশু নির্যাতন ও হত্যা বন্ধ করতে হবে। বন্ধ করতে হবে শিশুশ্রম।
আমরা মনে করি, রাষ্ট্রের মধ্যে শৃঙ্খলা না থাকলে সামাজিক শৃঙ্খলা ভেঙে পড়বে এটাই স্বাভাবিক। যারা সমাজকে, রাষ্ট্রকে পদে পদে কলুষিত করছে, সমাজকে ভারসাম্যহীন ও দূষিত করে তুলছে, সমাজের মানুষের নিরাপত্তা ও অধিকার ক্ষুন্ন করছে, বিপন্ন করছে শিশুদের জীবন, তাদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে হবে। সামাজিক সুস্থতা আনায়নের পাশাপাশি নতুন সমাজ নির্মাণের জন্য এ ধরনের অপরাধ ও অবক্ষয়কে প্রতিরোধ করতে হবে যে কোনো মূল্যে। এ জন্য ব্যাপকভাবে গড়ে তুলতে হবে সামাজিক আন্দোলন এবং এর কোনো বিকল্প নেই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০








ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

ঐতিহাসিক জেল হত্যা দিবস আজ

০৩ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ব্রেকিং নিউজ