খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আ’লীগ সভাপতির নির্দেশনা জানিয়ে দিচ্ছেন সাধারণ সম্পাদক

তৃণমূলে শুদ্ধি অভিযানের ঘোষণায় আতঙ্কে খুলনার বিতর্কিতরা

এন আই রকি | প্রকাশিত ২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:০০:০০

সহযোগী সংগঠনে শুদ্ধি অভিযানের পর এবার সেটি আওয়ামী লীগের বিভিন্ন স্তর ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তৃতি হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি থেকেও বিতকির্ত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর আগে অক্টোবর মাসের প্রথম দিকে সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরে চিঠির মাধ্যমে বিতর্কিত ও অনুপ্রবেশকারীরা যাতে কোনোভাবেই দলে কোনো পদ পেতে না পারেন সে বিষয়টিও নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। এমনকি সম্মেলন প্রস্তুতি কমিটিতেও বিতর্কিতদের না রাখার কথা বলা হয়েছে।
এ রকম পরিস্থিতি খুলনার ইউনিয়ন, উপজেলা, জেলা, ওয়ার্ড এবং নগর পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে নানা শঙ্কা কাজ করছে। কারণ ইতোমধ্যে খুলনায় বিতর্কিত নেতা-কর্মীদের তালিকা করার কাজ শুরু হয়েছে। 
আ’লীগের মহানগর ও জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতাদের সাথে আলাপকালে জানা যায়, টানা দীর্ঘদিন দল ক্ষমতায় থাকায় কিছুটা অস্থিতিশীল অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। দলের নাম ভাঙিয়ে অনেকেই অনেক কিছু করেছেন, যা বিভিন্ন সময়ে পত্র-পত্রিকায় এসেছে। এসব কিছুর কারণে দলের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়েছে। কিন্তু বিতর্কিতদের বিরুদ্ধে ইচ্ছা থাকা সত্ত্বেও ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব হয়ে উঠেনি। তবে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা পাওয়ার পর বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে। 
সূত্রটি আরও জানায়, নগর ও জেলায় আ’লীগসহ অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নাম ব্যবহার করে সরকারি ও স্বায়ত্বশাসিত প্রতিষ্ঠানগুলোতে টেন্ডারবাজি, রাস্তা ও ড্রেন দখল করে দলীয় অফিস নির্মাণ, জমি ও ভবন দখলের মাধ্যমে ভূমিদস্যূতা, মাদক ব্যবসা, ক্লাবগুলোতে জুয়ার আসর পরিচালনা করা, সরকারি রেলের তেল চুরির মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় ক্ষতি, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজি, কলেজ-ক্যাম্পাসগুলোতে হল দখল, নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনায় বিব্রতকর অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কারণ ছিল দলীয় গ্র“পিং এবং অনুপ্রবেশকারীদের শক্ত অবস্থান। 
এদিকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বৃহস্পতিবার আজারবাইজানের বাকু যাওয়ার আগে সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে তৃণমূল পর্যায়ের কমিটি থেকেও বিতর্কিত ব্যক্তিদের বাদ দেওয়ার নির্দেশনা দিয়ে গেছেন। গত শুক্রবার থেকে সাংগঠনিক জেলার সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের কাছে এ-সংক্রান্ত নির্দেশনা সংবলিত চিঠি পাঠানো শুরু হয়েছে। এটি সম্প্রতি শুরু হওয়া ‘শুদ্ধি’ অভিযানের অংশ বলে দলটির নীতিনির্ধারণী সূত্র থেকে বলা হয়েছে।
সূত্রটি আরও জানিয়েছেন, দলের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরের স্বাক্ষর করা চিঠি সাংগঠনিক জেলা ও মহানগরে পাঠানো শুরু হয়। কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে চিঠি। আজ বা কাল থেকে চিঠি পাওয়া শুরু করবেন তৃণমূলের নেতারা। ক্যাসিনো, জুয়া, অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে চলমান অভিযান এত দিন আ’লীগের সহযোগী সংগঠনগুলোর মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। ধীরে ধীরে তা মূল সংগঠন আ’লীগের বিভিন্ন স্তর ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে বিস্তৃত হচ্ছে। 
এদিকে গোয়েন্দা সংস্থা ও আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো যে বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করছে, সেগুলো হচ্ছে ক্যাসিনো ও জুয়ার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, নব্য আওয়ামী লীগার হয়ে ক্ষমতার দাপট দেখানো এবং বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ও অবৈধ সম্পদ অর্জন।
নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান সময়ের খবরকে বলেন, এখনও কোন চিঠি আমি হাতে পাইনি। তবে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী দল পরিচালিত হবে। বিতর্কিতদের কোন অবস্থায় দলে রাখা হবে না। 
জেলা আ’লীগের সভাপতি শেখ হারুনুর রশিদ সময়ের খবরকে গতকাল শনিবার রাতে বলেন, বিষয়টি নিয়ে শুক্রবার সাধারণ সম্পাদকের (ওবায়দুল কাদের) সাথে কথা হয়েছে। তিনি মৌখিকভাবে জানিয়েছেন। আমরাও প্রস্তুতি নিচ্ছি। বিগত দিনে যাদের জন্য দল বিতর্কিত হয়েছে এমন নেতা-কর্মীদের দলে রাখা হবে না। এ রকম তালিকায় রয়েছে ১৫/২০ জন নেতা-কর্মী।

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ










জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৩




ব্রেকিং নিউজ