খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে শিশুরা কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

২৭ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে শিশুরা কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি

জলবায়ুর পরিবর্তনের ঝুঁকি সংক্রান্ত খবরাখবর বিভিন্ন সময়েই পত্র-পত্রিকায় উঠে এসেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে কতটা ঝুঁকির মুখে পৃথিবী এ নিয়েও আলাপ-আলোচনা চলছে। সম্প্রতি জানা গেল, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের ১ কোটি ৯০ লাখেরও বেশি শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে। এসব শিশুর এক-চতুর্থাংশের বয়স পাঁচ বছরের কম। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
বাংলাদেশের ৬০ শতাংশেরও বেশি মানুষ কৃষির ওপর জীবিকা নির্বাহ করে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে খরা ও বন্যায় দেশটির কৃষি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। তার মানে দরিদ্র পরিবারের শিশুদের না খেয়ে থাকার পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। খাদ্য উৎপাদন কম হওয়ায় দাম বেড়ে যায় এবং দরিদ্র পরিবারগুলোর ওপর এর বিরূপ প্রভাব পড়ে। এছাড়া বন্যা ও নদী ভাঙনের মতো সমস্যা তো রয়েছেই। যে কারণে অনেক পরিবারকে শহরের বস্তিতে গিয়ে গাদাগাদি, ঠাসাঠাসি করে বসবাস করতে হচ্ছে। সেখানে নিয়মিত স্বাস্থ্যকর খাবার, শিক্ষা, পর্যাপ্ত স্বাস্থ্যসেবা, স্যানিটেশন এবং নিরাপদ খাবার পানির সংকটে থাকে তারা। আর এসব বস্তিতে বসবাসকারী শিশুরা অপুষ্টির ঝুঁকিতে রয়েছে। সেখানে শিশুশ্রম, বাল্যবিবাহ, সহিংসতা ছাড়াও বিভিন্ন ধরনের নিপীড়নের শিকার হতে হয় শিশুদের। সম্প্রতি ইউনিসেফের ‘দ্য স্টেট অব দ্য ওয়ার্ল্ড চিলড্রেন-২০১৯, চিলড্রেন, ফুড এ্যান্ড নিউট্রেশন, গ্রোয়িং ওয়েল ইন এ চেঞ্জিং ওয়ার্ল্ড’ শিরোনামে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। 
তথ্য মতে, ২০১৮ সালে দক্ষিণ এশিয়ায় ৫ বছরের নিচের বয়সী ৫ কোটি ৮৭ লাখ শিশুর বর্ধন হয়নি। আর বিকশিত হয়নি প্রায় ২ কোটি ৫৯ লাখ শিশু। শিশু ও তরুণরা বেঁচে থাকছে ঠিকই, কিন্তু তাদের মধ্যে খুব সামান্যই বিকাশ বা বৃদ্ধি ঘটছে এমন বিষয়ও সামনে আসছে। আমরা মনে করি, যখন ইউনিসেফ বলছে, পরিবর্তিত জলবায়ু পরিস্থিতি, অপরিকল্পিত নগরায়ণসহ নানা কারণে শিশুসহ তাদের পরিবারের মধ্যে হেপাটাইটিস-এ, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড, ডেঙ্গু, চিকুনগুনিয়া জ্বরসহ বিভিন্ন ধরনের রোগ ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতি অত্যন্ত উদ্বেগের বলেই প্রতীয়মান হয়। সঙ্গত কারণেই এই বিষয়টিকে সহজ করে দেখার কোনো সুযোগ নেই। ফলে সংশ্লিষ্টদের কর্তব্য হওয়া দরকার পরিস্থিতি আমলে নেয়া এবং সৃষ্ট পরিস্থিতি অনুধাবন করে কার্যকর পদক্ষেপ নিশ্চিত করা।
প্রসঙ্গত এ বছর জলবায়ু পরিবর্তন কৌশল এবং এ্যাকশন প্লানের দ্বিতীয় পর্যায় শুরু করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ সরকার। ওই পরিকল্পনায় দরিদ্রতম এবং সবচেয়ে ঝুঁকিতে থাকাদের চাহিদার ভিত্তিতে ক্ষেত্রগুলোকে গুরুত্ব দেয়া হবে। এ ছাড়া শিশুপুষ্টি, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, স্যানিটেশনের মতো বিষয়গুলো নিশ্চিতের চেষ্টা করা হবে এমনটিও জানা গেছে। আমরা মনে করি, সার্বিক উদ্যোগ গ্রহণের পাশাপাশি ইউনিসেফের এই প্রতিবেদনটিকে আমলে নিতে হবে এবং জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাংলাদেশের শিশু সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে এই বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে করণীয় নির্ধারণ সাপেক্ষে সুষ্ঠু বাস্তবায়ন নিশ্চিত করতে হবে।
সর্বোপরি আমরা বলতে চাই, জলবায়ু ঝুঁকি মোকাবিলায় যথাযথ প্রস্তুতির কোনো বিকল্প নেই। এর পাশাপাশি মনে রাখতে হবে, যেহেতু জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে শিশুরা ঝুঁকির মুখে-তখন শিশুর সুরক্ষা এবং সামগ্রিক পরিস্থিতিতে করণীয় কী-এমন লক্ষ্যকে সামনে রেখে উদ্যোগী হতে হবে। আর যখন এমনটিও বলা হচ্ছে, জলবায়ু পরিবর্তন বাংলাদেশে শিশুর পুষ্টির জন্যও হুমকি। এই তথ্যকে আমলে নিয়ে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় উদ্যোগ করতে হবে। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ