খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

নুসরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর হোক

২৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

নুসরাত হত্যার রায় দ্রুত কার্যকর হোক

অধ্যক্ষের যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ করায় ফেনীর সোনাগাজীর মাদ্রাসাছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে পুড়িয়ে হত্যা মামলায় ১৬ আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে আদালত। হত্যাকান্ডের সাত মাসের মাথায় ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক গত বৃহস্পতিবার এ রায় দেন। দন্ডিত আসামিদের মধ্যে সোনাগাজীর ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদ- দৌলা এই হত্যাকান্ডের হুকুমদাতা। আদালতে সাক্ষ্য প্রমাণাদির ভিত্তিতে অভিযুক্তরা দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় আদালত এই রায় দিয়েছে এবং তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় বাদীপক্ষের আইনজীবী এই রায়কে বলেছেন দৃষ্টান্তমূলক। 
চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকান্ডের ঘটনায় সারাদেশে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে সারাদেশে বিক্ষোভও হয়। সঙ্গত কারণে এই রায়ের দিকেই দেশবাসীর দৃষ্টিনিবদ্ধ ছিল। এছাড়া দেশি বিদেশী মিডিয়াতেও বিষয়টি ফলাও করে প্রচার করা হয়। রায় প্রদানের পর সারাদেশের মানুষ খুশি হয়েছেন, নুসরাতের পরিবারের সদস্যরাও এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। একজন শিক্ষকের কাছে শিক্ষার্থী হবেন সন্তানতুল্য। সেই সন্তানের ওপর কুদৃষ্টি যারা দেয় এবং যৌন নিপীড়ন করে তারা শিক্ষকের মতো মর্যাদাপূর্ণ পদে থাকতে পারে না। দেশের প্রতিটি শিক্ষালয়ে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে শিক্ষার্থী-শিক্ষক সবার সম্মিলিতভাবে এমন পরিবেশ নিশ্চিত করা দরকার যাতে করে অনৈতিক আচরণ করার কোনো ধরনের সাহস কেউ না পায়। উল্লেখ্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বার্ন ইউনিটে নেয়ার সময়ও নুসরাত বলেছিলেন মামলা তুলে নিতে অধ্যক্ষের অনুসারীদের চাপ দেয়ার কথা। তিনি দৃঢ়তার সঙ্গেই বলেছিলেন, তিনি প্রতিবাদ করে যাবেন, কোনো ছাড় দেবেন না। নুসরাতের মৃত্যুর পরও মামলা তুলে নিতে ক্রমাগত হুমকি দেয়া হয়েছিল নুসরাতের পরিবারকে। কিন্তু তারা কিছুতেই পিছু হটেনি। এই মামলার তদন্ত করছিলেন সোনাগাজী থানার পরিদর্শক কিন্তু ওসিসহ পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে হত্যাকান্ডের সময় গাফিলতির অভিযোগে তদন্তভার আসে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) ওপর। পিবিআইর পরিদর্শক শাহ আলম এজাহারভুক্ত আট আসামির সঙ্গে আরও আটজনকে যুক্ত করে ১৬ জনকে আসামি করে ৫ মে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। ২০ জুন অভিযোগ গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ১৬ আসামির বিচার। ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮৭ জনের সাক্ষ্য নেয়ার পর এই রায় দেয়া হলো। বহুল আলোচিত এই হত্যাকান্ডের রায়ে সরকারও স্বস্তি প্রকাশ করেছে।
আমরা বলতে চাই, স্বল্প সময়ের মধ্যে নুসরাত হত্যা মামলার রায় প্রদান নিঃসন্দেহে একটি দৃষ্টান্ত। নুসরাতকে পুড়িয়ে হত্যা মামলার রায়ে আবারও প্রমাণিত হলো, অপরাধ করে কারো নিস্তার নেই। এখন এই রায় যাতে দ্রুততার সঙ্গে কার্যকর হয়, সে দাবি জানিয়েছেন নুসরাতের পরিবার। আমাদেরও প্রত্যাশা, জঘন্য ওই খুনিদের রায় বিধি অনুসারেই সংশ্লিষ্টরা কার্যকরের ব্যবস্থা করবেন। ৬২ কার্যদিবস শুনানির পর দেয়া এই রায় বাংলাদেশের ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে থাকবে বলেই আমরা মনে করি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ

বান কি মুন ঢাকায়  আসছেন আজ

বান কি মুন ঢাকায়  আসছেন আজ

২২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৪