খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে  শিক্ষারমান নিশ্চিত করতে হবে

২৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে  শিক্ষারমান নিশ্চিত করতে হবে

দীর্ঘ ৯ বছর পর দুই হাজার ৭৩০টি বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্ত করা হয়েছে। গত বুধবার দুপুরে গণভবনে এসব প্রতিষ্ঠানকে এমপিওভুক্তির ঘোষণা দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। যদিও এ ক্ষেত্রে উল্লেখ করা সমীচীন এর আগেই শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে এমপিওভুক্তির এই সিদ্ধান্ত গত জুলাই থেকে কার্যকর হবে। এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা মাসে বেতনের মূল অংশ ও কিছু ভাতা সরকার থেকে পেয়ে থাকেন। সর্বশেষ ২০১০ সালে ১ হাজার ৬২৪টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছিল। এরপর থেকেই থেমে থেমে আন্দোলন করে আসছিলেন এমপিওভুক্ত নয় এমন বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা।
২৭৩০ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির ঘোষণার মধ্য দিয়ে বহু শিক্ষক-কর্মচারীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণ হলো। সব যোগ্য প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, 'যাদের এমপিওভুক্ত করা হলো তাদের এই যোগ্যতা ধরে রাখতে হবে। নীতিমালা অনুযায়ী যোগ্যতা ধরে রাখতে না পারলে এমপিও বাতিল করা হবে।’ আমরা বলতে চাই, শিক্ষার সুফল তখনই পাওয়া সম্ভব যখন শিক্ষার মান যথাযথভাবে নিশ্চিত হবে। সঙ্গত কারণেই এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোতে সংশ্লিষ্টরা শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে কার্যকর প্রচেষ্টা জারি রাখবেন এমনটিই কাম্য। শিক্ষামন্ত্রী বলেছেন, শিক্ষাব্যবস্থায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে ও শিক্ষার মান বাড়াতে মনিটরিং ব্যবস্থা বাড়ানো হবে। এ ছাড়া সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থাকে আরও এগিয়ে নেয়া হচ্ছে।
আমরা মনে করি, এই বিষয়টি অত্যন্ত ইতিবাচক। কেননা, এটা মনে রাখা দরকার, একটি দেশের সামগ্রিক সমৃদ্ধি অর্জনের প্রশ্নে শিক্ষার অগ্রগতি ছাড়া গত্যন্তর নেই। আর শিক্ষা তখনই ফলপ্রসূ হতে পারে যখন মানের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেয়া হবে না। ফলে সামগ্রিকভাবে শিক্ষা ব্যবস্থায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা এবং শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনে কঠোরভাবে উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। এ কথা মনে রাখা দরকার যে, বিভিন্ন সময়েই শিক্ষা ক্ষেত্রে অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা ঘটেছে। শিক্ষার্থীদের ক্লাস বাদ দিয়ে কোচিং নির্ভর হয়ে পড়া, ফি বৃদ্ধি, প্রশ্নফাঁসসহ বিভিন্ন ধরনের ঘটনা ও অভিযোগও সামনে এসেছে। এই ধরনের ঘটনা শিক্ষার অগ্রতিতে প্রতিবন্ধক। ফলে মনিটরিং নিশ্চিত করাসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে যথাযথ উদ্যোগ গ্রহণ অপরিহার্য বলেই আমরা মনে করি।
আমরা বলতে চাই, শিক্ষকরা যদি আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত থাকেন তবে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান কঠিন। ফলে যখন ২৭৩০ বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্ত হলো তখন এসব প্রতিষ্ঠানের কর্তব্য হওয়া দরকার শিক্ষারমান নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ ও তার সুষ্ঠু বাস্তবায়ন করা। আমরা মনে করি, সামগ্রিকভাবে যত শিক্ষা প্রতিষ্ঠান আছে এবং শিক্ষার পরিবেশ পর্যবেক্ষণ সাপেক্ষে উদ্যোগী হতে হবে সরকার সংশ্লিষ্টদেরই। শিক্ষা ক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের অনিয়ম বা বিশৃঙ্খলা কিংবা অনাকাক্সিক্ষত ঘটনা রোধে সংশ্লিষ্টদের সর্বাত্মক উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। সার্বিক পরিস্থিতি আমলে নিয়ে সংশ্লিষ্টরা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা জারি রাখুক এমনটিই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ