খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হোক মানুষ গড়ার কারখানা 

২৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিশ্ববিদ্যালয়গুলো হোক মানুষ গড়ার কারখানা 

পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা পার করছে। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের এই ভেঙে পড়া অবস্থা একদিনে তৈরি হয়নি। বিশ্ববিদ্যালয় বলে এখন আর কিছু নেই কোথাও। শুধু দালানকোঠা, সেই দালানকোঠায় এপাশ-ওপাশ করছেন শিক্ষার্থী-শিক্ষকেরা। আর বাইরে যেটি, তা হলো অধিকারহীনতা, অসম্মান, প্রতি পদে পদে নিগৃহীত হওয়ার ঝুঁকি। আর যখনই এগুলোতে বড়সড় ঝাঁকুনি লাগে, তখনই সবার নাক ছাত্র রাজনীতির গন্ধ শুঁকতে থাকে। মনে হয় সব নষ্টের গোড়া ওই ছাত্র রাজনীতি।
আমরা ধরেই নিচ্ছি, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করা হলো। এখন তাহলে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হাজির করছি। ছাত্র রাজনীতি না থাকলে শিক্ষার্থীদের সবাই কি আবাসিক হলগুলোতে সিট পাবেন? তাঁরা কি কোনো ধরনের নিপীড়নের শিকার হবেন না? বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়রদের মাধ্যমে জুনিয়রদের ওপর র‌্যাগ দেওয়ার যে সংস্কৃতি জারি আছে, তা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হল এবং খোদ কর্তৃপক্ষের সামনেই, সেগুলো কি তাঁরা কঠোরভাবে দমাতে পারবেন? আমরা জানি, প্রতিবছরই র‌্যাগিংয়ের কারণে অনেক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় ছেড়ে চলে যেত বাধ্য হন। গত বছর জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে ছেলেটি চলে গেছেন, প্রশাসন কি সেটির বিষয়ে ব্যবস্থা নিয়েছিল? যেখানে সাম্প্রতিক সময়েই ছাত্র আবরার মারা যাওয়ার পর খোদ বুয়েট উপাচার্য ঘটনাস্থলে আসতে কয়েক ঘণ্টা দেরি করেন এবং এই দেরির ব্যাখ্যা হিসেবে কোনো ধরনের অপরাধবোধকে হাজির না করে অবলীলায় সামনে নিয়ে আসেন ওপরের মহলের সঙ্গে কথা বলার বিষয়টিকে। তখন ছাত্র রাজনীতিকে কীভাবে দুষবেন? অথচ উপাচার্যের খবরটি শোনার সঙ্গে সঙ্গেই কষ্টে, আতঙ্কে, সন্তান হারানোর বেদনায় নুয়ে যাওয়ার কথা। তাঁর দৌড়ে ছুটে আসার কথা। শিক্ষার্থীর মৃত্যুর চেয়ে একজন শিক্ষকের কাছে কষ্টের কিছু হতে পারে না। আবরারের বাবা আর শিক্ষকদের একই ব্যথায় পরস্পরকে চিনে নেওয়ার কথা। কিন্তু সেই অনুভূতিগুলো বর্তমানে বিকিয়ে গেছে ক্ষমতার আকাঙ্খায়। তাই তিনি আসতে পারেন না, আসতে চান না। ক্ষমতার জাল ছিন্ন করে তিনি বুক পেতে নিতে পারেন না প্রিয় ছাত্রের মরদেহকে। বলতে পারেন না, ‘এ লাশ আমি রাখব কোথায়?’ হ্যাঁ, ক্ষমতার সেবক শিক্ষকদের এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর কর্তৃপক্ষের এই ফাউস্টীয় চরিত্রই বিশ্ববিদ্যালয়ে বিচারহীনতার জন্য দায়ী।
শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সম্পর্ক আস্থা-ভালোবাসা আর সম্মানের সম্পর্ক। কিন্তু সেই শিক্ষক যখন যৌন নিপীড়ক হন, যখন তাঁর বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অনৈতিকতার অভিযোগ ওঠে। যখন তিনি শিক্ষার্থীর মৃত্যুর খবর শুনেও ‘ওপর মহলের নির্দেশনা’র জন্য অপেক্ষা করেন, তখন আসলে ছাত্র রাজনীতির বিষয়টি অনেক দূরের হয়ে ওঠে। এই আস্থাহীনতার সম্পর্কই শিক্ষাঙ্গনকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে বেশি। তাই প্রধান সমস্যাগুলোকে চিহ্নিত করেই এগোতে হবে। অযথা শিক্ষার্থীদের প্রতিবাদের অধিকারটুকুও ছিনতাই করে অরাজনৈতিক মানুষ হিসেবে তৈরি করার আরেক কারখানা খোলা হবে সত্যিই আত্মঘাতী। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়কে ঐতিহাসিক রাজনৈতিক মানবিক মানুষ গড়ার কারখানা হিসেবেই দেখতে চাই।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ








বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০




ব্রেকিং নিউজ