খুলনা | শনিবার | ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না’

স্ত্রীসহ মেননের ব্যাংক হিসাব তলব বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০৫:০০

ক্যাসিনো বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগে ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন এবং তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাব তলব করেছে বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিট। একই সাথে রাশেদ খান মেননের আয়কর হিসাব এবং তার সম্পত্তির বিবরণী রাজস্ব বিভাগ থেকে চাওয়া হয়েছে। সূত্র : বাংলা ইনসাইডার।
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রগুলো বলছে যে, রাশেদ খান মেননের বিরুদ্ধে ক্যাসিনোর টাকা নেওয়ার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ উঠেছে। ক্যাসিনো বাণিজ্যের অন্যতম হোতা ইসমাইল হোসেন চৌধুরী সম্রাট রিমান্ডে জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন যে তিনি রাশেদ খান মেননকে প্রতি মাসে টাকা দিতেন। এ কারণেই রাশেদ খান মেননের সম্পদের হিসাব তলব করা হচ্ছে। একই সাথে তার বিদেশ যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য সুপারিশ করেছে আইনপ্রয়োগকারী সংস্থা। কারণ তারা মনে করছে, যেকোনো সময় রাশেদ খান মেননকে জিজ্ঞাসাবাদের প্রয়োজন হতে পারে। তিনি যেন দেশ থেকে পালিয়ে না যান সেজন্য ব্যবস্থা নিতে সংশ্লি¬ষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তদন্তকারী কর্মকার্তারা অনুরোধ জানিয়েছেন। 
মেনন ছাড়াই বৈঠক ১৪ দলের : একাদশ জাতীয় নির্বাচনের ভোটগ্রহণ নিয়ে মন্তব্য করে ক্ষমতাসীনদের তোপের মুখে ১৪ দলের শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। আ’লীগের নেতা-কর্মীরা ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় আপাতত কয়েক দিন দলটির কার্যালয়ে কোনো অনুষ্ঠানে না যেতে আ’লীগসহ ১৪ দলের নেতারা মেননকে পরামর্শ দেন বলেও গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়। ফলে মঙ্গলবারের ১৪ দলের বৈঠকে মেনন যোগ দেবেন কি-না, তা নিয়ে মানুষের কৌতূহল ছিল।
শেষ পর্যন্ত মানুষের এই কৌতূহলের অবসান হয়েছে। বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেননকে ছাড়াই চলছে ১৪ দলের জরুরি বৈঠক। বৈঠকে আ’লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ও ১৪ দলের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিমসহ প্রায় সব শীর্ষ নেতা উপস্থিত রয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় বঙ্গবন্ধু এ্যাভিনিউয়ে আ’লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়।
সম্প্রতি ১৪ দলের শরিকদের মধ্যে নানা ইস্যুতে বিরোধ চাঙ্গা হয়ে ওঠার বিষয়টি দৃশ্যমান হয়। শরিকদের নানা কর্মকাণ্ডের মধ্য দিয়ে এ বিরোধ প্রকাশ্যেও আসে। গতকাল মোহাম্মদ নাসিমের বাসায় চা চক্রে ১৪ দলের সব শরিককে দাওয়াত দেওয়া হলেও বাংলাদেশ জাসদ ও ন্যাপের নেতারা সেখানে যাননি।
রাশেদ খান মেনন ছাড়াই চা চক্রে উপস্থিত ছিলেন জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু ও সাধারণ সম্পাদক শিরীন আখতার, ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক ফজলে হোসেন বাদশা, সাম্যবাদী দলের সাধারণ সম্পাদক দিলীপ বড়ুয়া, জাতীয় পার্টি-জেপির মহাসচিব শেখ শহীদুল ইসলাম, তরীকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী, বাসদের আহ্বায়ক রেজাউর রশীদ খান প্রমুখ। 
চা চক্রে দেশের সাম্প্রতিক নানা ইস্যু আলোচনায় আসে। এ সময় নজিবুল বশর মাইজভাণ্ডারী সম্প্রতি বরিশালে রাশেদ খান মেননের একাদশ জাতীয় নির্বাচনে কোনো ভোট হয়নি বলে দেওয়া বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন। তিনি মেননকে ডেকে তাঁর কাছ থেকে এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চাওয়ার দাবি জানান। 
জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু বলেন, 'উনি (মেনন) সমস্যা তৈরি করেছেন, এটা উনিই সমাধান করবেন। এটা নিয়ে উনার উপস্থিতিতে আলোচনা হলে ভালো হয়।’ ১৪ দলের শরিক একটি দলের শীর্ষ নেতা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, চা চক্রে আজ (মঙ্গলবার) সকালে বঙ্গবন্ধু এভিনিউর আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের মিলনায়তনে ১৪ দলের আয়োজনে প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফর প্রসঙ্গে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া গোলটেবিল বৈঠকের বিষয়েও আলোচনা হয়।
এক পর্যায়ে মোহাম্মদ নাসিম বলেন, আপাতত কয়েক দিন মেনন ভাইয়ের ওই দিকে যাওয়ার দরকার নেই। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে উনি যাবেন। চা চক্রে উপস্থিত অন্য নেতারাও এ বক্তব্যকে সমর্থন করেন। ফলে ১৪ দলের গোলটেবিল আলোচনায় রাশেদ খান মেনন উপস্থিত থাকছেন না।
চা চক্রে আলোচনায় চলতি সপ্তাহেই ১৪ দলের একটি আনুষ্ঠানিক বৈঠক ডেকে সেখানে রাশেদ খান মেননের একাদশ জাতীয় নির্বাচন নিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ব্যাখ্যা চাওয়া হবে বলে সিদ্ধান্ত হয়।
পদত্যাগের প্রশ্নই আসে না : মেনন : বিতর্কিত বক্তব্যের জন্য পদত্যাগ করবেন না বলে জানিয়েছেন ১৪ দলীয় জোটের শরীক ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন। তিনি বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করব না। আর পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না।’ খবর ডয়চে ভেলে।
এদিকে বিতর্কিত বক্তব্যের কারণে রাশেদ খান মেননের পদত্যাগ করা উচিৎ বলে মন্তব্য করেছেন ১৪ দলের শরীক সাম্যবাদী দলের প্রধান দিলীপ বড়ুয়া। তিনি বলেন, ‘রাশেদ খান মেনন কেন বলেছেন, তার কথা সঠিক কিনা সেটার জবাব আমি দেব না। তবে তিনি যা বলেছেন তা পদত্যাগ করেই বলা উচিত ছিল। তিনি যা বলেছেন তার জন্য এখন তার পদত্যাগ করা উচিত। তার দু’টি অবস্থানতো একসঙ্গে হয় না।’
দিলীপ বড়ুয়ার এ বক্তব্যের জাববে রাশেদ খান মেনন বলেন, ‘আমি পদত্যাগ করব না। পদত্যাগের প্রশ্ন আসে না। এটাতো শুধু নৈতিকতার প্রশ্ন নয়, এর সঙ্গে রাজনৈতিক প্রশ্ন জড়িত আছে। ১৯৮৬ সালেও তো বলা হয়েছিল মিডিয়া ক্যু হয়েছিল। তারপরওতো সবাই পার্লামেন্টে ছিলো। পদত্যাগ না করেও ভোটের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যাওয়া যায়।’
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ