খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

উদ্বিগ্ন মা কুলসুম বেগম শয্যাশায়ী

গ্রাম্য রাজনীতির বলির পাঠা হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ ছাত্র : শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কা

পারভেজ মোহাম্মদ | প্রকাশিত ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৪:০০

গ্রাম্য রাজনীতির বলির পাঠা হরিঢালী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ ছাত্র : শিক্ষাজীবন নিয়ে শঙ্কা

এসএসসি পাসের আগেই একমাত্র ছেলের শিক্ষাজীবন ধ্বংসের রাজ টিকিট (বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র) ডাকযোগে হাতে পেয়ে উদ্বিগ্ন মা কুলসুম বেগমের ঠাঁই হয়েছে বিছানায়। মানসিক যন্ত্রণায় ছুটে বেড়াচ্ছেন শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি এবং প্রশাসনের কর্তাব্যক্তিদের দ্বারে দ্বারে। একজন অভিভাবক, একজন নারী কিংবা একজন মা হিসেবে এতটুকু সান্ত্বনা কিংবা তার কথাগুলি শোনার সময় পর্যন্ত হয়নি কারও এমন অভিযোগ হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মীর রেস্তাদুল আলীর মা কুলসুম বেগমের (৪৬)। 
সরেজমিন সোনাতনকাটী গ্রামে তার বাড়িতে গেলে জানা যায়, উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে সাতক্ষীরায় বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি চলছে। এরই মধ্যে কান্না জড়িত কন্ঠে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, আমার সন্তানের কি অপরাধ আজও জানতে পারিনি। লোকমুখে শুনেছি বিদ্যালয়ের কিছু সমস্যা সমাধানের দাবিতে তারা আন্দোলন করেছে। যদি আমার সন্তান অপরাধ করে অভিভাবক হিসেবে আমার ছেলের রাজ টিকিট ডাকযোগে পাঠানোর আগে আমাকে স্কুল কর্তৃপক্ষের জানানো উচিৎ ছিল। ন্যায় সঙ্গত দাবি আদায়ের কথা বলে আমাদের প্রাপ্তি বিদ্যালয় ছাড়ার ছাড়পত্র। নিশ্চিত শিক্ষাজীবন ধংসের এমন নোটিশ পেয়ে কি করবো কিছুই ভেবে উঠতে পারছিলাম  না। অবশেষে শ্রেণী সহপাঠীরা আমাদের পাশে এসে দাঁড়ায়। সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিয়ে সমাধানের লক্ষে ম্যানেজিং কমিটি, শিক্ষক, সাংবাদিক, ইউএনও এমনকি এমপি’র দ্বারস্ত হয়। সবশেষ উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশ মোতাবেক ক্ষমা প্রার্থনা করে আবেদন নিয়ে যায় প্রধান শিক্ষকের দপ্তরে। স্কুলে সেদিন তিনি অনুপস্থিত থাকায় সহকারী প্রধান শিক্ষক আবেদন পত্র গ্রহণে অস্বীকার করেন এমনটি জানায় স্কুল ক্যাবিনেট ওয়ান মোঃ হাফিজুর রহমান।
জানা গেছে, ছাত্র-ছাত্রীদের দাবি ইতোমধ্যে প্রায় সবগুলি বাস্তবায়ন করেছে স্কুল কর্তৃপক্ষ। তবুও অনিশ্চয়তা আর অজানা আতঙ্ক তাড়া করে ফিরছে ছাড়পত্র পাওয়া ৬ ছাত্রের। শিক্ষাজীবন পুরোপুরি বন্ধে অশুভ হাতছানি দিচ্ছে তাদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের রোষানল এবং গ্রাম্য রাজনীতির বলির পাঠা হচ্ছে ঐতিহ্যবাহী এ বিদ্যাপীঠের ৬ জন মেধাবী ছাত্র।
উল্লেখ্য, নানা অনিয়ম-দুর্নীতি, অসদাচরণ ও খামখেয়ালীপনার জন্য হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাসের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দানা বাঁধে। দীর্ঘদিন এই অসন্তোষ চলতে থাকলে ২৮ আগস্ট সকালে শিক্ষার্থীরা ক্লাস বর্জন করে প্রধান শিক্ষকের অপসরনের দাবিতে স্কুল ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ মিছিল করে। খবর পেয়ে পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এমদাদুল হক শেখ সরেজমিনে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন। এ ঘটনায় বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গত ১৪ সেপ্টেম্বর প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস স্বাক্ষরিত বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর ছাত্র মীর রেস্তাদুল আলী, মোঃ রাশিদুল সরদার, পান্না লাল দাশ, তন্ময় বিশ্বাস ও মোঃ হাফিজুর রহমানকে বিদ্যালয় পরিত্যাগের ছাড়পত্র ডাকযোগে প্রদান করে। মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের কোন অনুমোদন ছাড়াই এ ঘটনায় কোমলমতি ছাত্রদের বিরুদ্ধে চিরতরে শিক্ষা কর্যক্রম বন্ধের এমনিতর সিদ্ধান্তে অভিভাবকসহ এলাকাবাসীর মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। অন্যদিকে ডাকযোগে ছাড়পত্র হাতে পাওয়ার পর গত বৃহস্পতিবার বেলা ১১টায় কপিলমুনি প্রেসক্লাবে এ ঘটনার প্রতিবাদে নবম শ্রেণীর অর্ধশত ছাত্র-ছাত্রী অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। 
বোর্ডের অনুমতি ছাড়া একযোগে হরিঢালী ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ৬ শিক্ষার্থীকে ছাড়পত্র দেয়ার বৈধতা আছে কিনা জানতে চাইলে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড যশোর এর পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মাধব চন্দ্র রুদ্র তাক্ষণিক কোন সদুত্তর দেননি। তবে বোর্ডের মাধ্যমিক শাখার অপর এক কর্মকর্তা ড. বিশ্বাস শাহিন আহম্মেদ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে এমনিতর সিদ্ধান্তের পূর্বে আরও বেশি সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত ছিল বলে জানান। গতকাল সোমবার সর্বশেষ অবস্থা জানতে স্কুলে যোগাযোগ করলে সহকারী প্রধান শিক্ষক হাফিজুর রহমান জানান, বহি®কৃত ছাত্ররা একটি আবেদন নিয়ে এসেছিল কিন্তু প্রধান শিক্ষক স্বপন কুমার বিশ্বাস ছুটিতে থাকায় সেটি গ্রহণ করতে পারিনি। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ