খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আইসিটি মামলায় বিপ্লবসহ তিনজন কারাগারে

ভোলা ঘটনায় মামলা : অজ্ঞাত আসামি ৫ হাজার, সভা সমাবেশে নিষেধাজ্ঞা

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৭:০০


ভোলায় হযরত মোহাম্মদ (সাঃ) কে নিয়ে ফেইসবুকে হিন্দু ছেলের কটূক্তির ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুলিশ ও জনতার সংঘর্ষে ৪ জন নিহত ও পুলিশসহ দেড় শতাধিক আহত হওয়ার ঘটনায় ৪ থেকে ৫ হাজার অজ্ঞাত ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। রবিবার রাতে বোরহানউদ্দিন থানার এসআই আজিজুল হক বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন (নং ১৮ তাং ২০/১০/২০১৯)। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বোরহানউদ্দিন থানার ওসি ম. এনামুল হক। অন্যদিকে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে ঘটনায় জেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে প্রশাসন। 
ভোলার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। পরবর্তী আদেশ না দেয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বলবৎ থাকবে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ভোলা সদর ও বোরহানউদ্দিন উপজেলায় পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ ৪ স্তরের নিরাপত্তা জোরদার করে প্রশাসন। 
এদিকে এ হামলার প্রতিবাদে সোমবার বেলা ১১টায় ৬ দফা দাবি নিয়ে ভোলা সরকারি স্কুল মাঠে সমাবেশের ডাক দেন ‘সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। অন্যদিকে রবিবার রাত ১১টা থেকে ভোলার আন্তঃজেলা সড়কে এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সকল যান চলাচল বন্ধ করে দেন প্রশাসন। বাস বন্ধের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভোলা জেলা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মিজানুর রহমান। 
এদিকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সমাবেশের অনুমতি না পেয়ে সোমবার সকালে এক পর্যায়ে বাধার মুখে পরে সমাবেশ স্থগিত রাখার পর ভোলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। ইসলাম নিয়ে ব্যঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির আইন পাসসহ ছয় দফা দাবি আদায়ে ভোলায় সংবাদ সম্মেলন করে সর্বদলীয় মুসলিম ঐক্য পরিষদ। আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে তাদের দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয় সম্মেলনে।
এতে লিখিত বক্তব্যে ঐক্য পরিষদের যুগ্ম-আহ্বায়ক মিজানুর রহমান চারজন নিহত হওয়ার ঘটনায় পুলিশকে দায়ী করে ভোলার পুলিশ সুপার (এসপি) সরকার কাউসার ও বোরহানউদ্দিন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) মু এনামুল হককে প্রত্যাহার দাবি তোলেন। 
দাবিগুলো হচ্ছে তদন্ত সাপেক্ষে গুলি করার হুকুমদাতা ও গুলীবর্ষণকারীদেরকে আইনের আওতায় আনা, মহানবী (সাঃ) ও মহান আল্লাহ তায়ালা এবং ইসলাম নিয়ে ব্যাঙ্গ ও কটূক্তিকারীর বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তির আইন করা, বিপ্লব চন্দ্র শুভকে সবোঁচ্চ শাস্তি ফাঁসি দেয়া, বোরহানউদ্দিনের সংঘর্ষে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন তাদের পরিবারকে সর্বোচ্চ ক্ষতিপূরণ দেয়া, সরকারি খরচে আহতদের উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা এবং ঘটনায় গ্রেফতারকৃতদের নিঃশর্ত মুক্তি দেয়া ও হয়রানী মূলক মামলা দিয়ে কাউকে আটক না করার দাবি  তোলেন। এছাড়াও আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে বৃহত্তর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন তারা।
সম্মেলনে আজ মঙ্গলবার সব উপজেলায় বিক্ষোভ, বৃহস্পতিবার (২৪ অক্টোবর) মানববন্ধন ও শুক্রবার (২৫ অক্টোবর) নিহতদের স্মরণে দোয়া ও মোনাজাত করা হবে বলে কর্মসূচিতে ঘোষণা করা হয়।
সংবাদ সম্মেলন শেষে বিভিন্ন শ্লোগান নিয়ে ভোলা পৌর শহরের প্রদান প্রদান সড়কে বিক্ষোভ করেন তারা। সেখানে বিপুল সংখ্যক পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি মোতায়েন রয়েছে। 
ভোলা পুলিশ সুপার সরকার মোহাম্মদ কায়ছার বলেন, যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ও বিশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে জেলায় চার প্লাটুন বিজিবি, দুই প্লাটুন র‌্যাব ও বিপুল পরিমাণ পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
আইসিটি মামলায় বিপ্লবসহ তিনজন কারাগারে : ফেসবুক ম্যাসেঞ্জার থেকে মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে কথিত কটূক্তির অভিযোগে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য শুভসহ তিনজনকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মামলায় কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। গতকাল সোমবার ভোলার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফরিদ আলম তাদের কারাগারে পাঠানোর এই আদেশ দেন।
কারাগারে পাঠানো অন্য দুইজন হলেন বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া ইউনিয়নের মোঃ ইমন (১৮) ও রাফসান ইসলাম শরীফ ওরফে শাকিল (১৮)। এর মধ্যে শাকিলকে রবিবার পটুয়াখালীর গলচিপা এবং ইমনকে বোরহানউদ্দিনের কাচিয়া থেকে গ্রেফতারের কথা জানিয়েছে পুলিশ।
অন্য সাত-আট জন অজ্ঞাতনামা আসামির সঙ্গে ‘পরস্পর যোগসাজশে’ ফেসবুক ম্যাসেঞ্জারে ইসলাম ধর্ম ও মহানবীকে (সাঃ) নিয়ে ‘কটূক্তি’ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে তা ছড়ানোর অভিযোগ আনা হয়েছে তাদের বিরুদ্ধে। রবিবার বোরহানউদ্দিন থানার উপ-পরিদর্শক দেলোয়ার হোসেন তাদের বিরুদ্ধে আইটি আইনে মামলাটি দায়ের করেন। বোরহানউদ্দিন থানার ওসি এনামুল হক এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
আসামিদের মধ্যে বিপ্লব চন্দ্র বৈদ্য বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের খারাকান্দি গ্রামের চন্দ্র মোহনের ছেলে। ইমনের বাড়ি উপজেলার উদয়পুর এলাকায় এবং শাকিল উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের নুরে আলমের ছেলে। শাকিল পটুয়াখালীর কলাপাড়া তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রে স্টোর কিপার হিসেবে চাকুরি করেন।
প্রসঙ্গত, ফেসবুকে মহানবীকে (সাঃ) কটূক্তির অভিযোগে বরিবার বেলা ১১টায় ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার ঈদগাহ মসজিদ চত্বরে জনতার ব্যানারে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ ডাকা হয়। তবে পুলিশের হস্তক্ষেপে সকাল ১০টার মধ্যেই সংক্ষিপ্ত মোনাজাতের মধ্যদিয়ে কর্মসূচি শেষ হলে পরে আসা লোকজন মোনাজাত পরিচালনাকারী দুই ইমামের ওপর চড়াও হয়। এতে বাধা দিতে গেলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে জনতা। এ সময় পুলিশ গুলি ছুড়লে চারজন নিহত হন। সংঘর্ষে ১০ পুলিশসহ দেড়শতাধিক মানুষ আহত হন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ