খুলনা | শনিবার | ২৩ নভেম্বর ২০১৯ | ৮ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সংস্কার নয়, নতুন ভবন নির্মাণ : গণপূর্ত

খুলনা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারে সংস্কার নেই : ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে চলছে কার্যক্রম

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ২১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫৪:০০

খুলনা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার দীর্ঘদিন যাবত সংস্কার না হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে কার্যক্রম। ভবনের আস্তর খসে পড়েছে, বেরিয়ে গেছে ছাদের লোহার রড, বৃষ্টির পানি চুইয়ে পড়ে ভিজে নষ্ট হচ্ছে জরুরি গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র। গণগ্রন্থাগার কর্তৃপক্ষ সংস্কারের আবেদন করলেও গণপূর্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে সংস্কার নয় নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।
গণগ্রন্থাগার সূত্রে জানা যায়, ১৯৬২ সালে নগরীর খালিপুরের বৈকালী এলাকায় দুই কক্ষ বিশিষ্ট ২৮৫০ বর্গমিটারের দুইতলা ভবনের গণগ্রন্থাগার নির্মাণ করে সরকার। এরপর থেকে বিভিন্ন সময় সংস্কার হলেও বর্তমানে ভবনটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে ভবনের অভ্যন্তরে। মাঝে মাঝে বড় ধরনের বৃষ্টি হলে মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। খসে পড়ছে ছাদের পলেস্তরা।
২০১৭ সালে বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার পর্যবেক্ষণের পর গণপূর্ত অধিদপ্তর সার্ভে রিপোর্টে উল্লেখ করে, গণগ্রন্থাগারের জানালা, দরজা মেরামত, মূল ভবনে থাই জানালা লাগানো (গ্রীলসহ) সিলিং, বীম ও ওয়াল মেরামত, টয়লেট, সেমিনার রুম, পেপার স্টোর রুমসহ অন্যান্য রুমে টাইলস লাগানো, নতুন সেপটিক ট্যাঙ্ক, গার্ড রুম নির্মাণ, সীমানা প্রাচীর মেরামত, রং-এর কাজসহ দুইটি অংশেই বড় ধরনের মেরামত ও সংস্কার করা হলে ব্যবহার উপযোগী করা সম্ভব।
সার্ভের রিপোর্টের পর গণপূর্ত অধিদপ্তর সিদ্ধান্ত নেয় বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার সংস্কার নয় নতুনভাবে নির্মাণ করা প্রয়োজন। নতুন ভবন নির্মাণের লক্ষে ‘বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগার সমূহের উন্নয়ন শীর্ষক’ প্রকল্পের আওতায় গ্রন্থাগার ভবনের স্থাপত্য নকশা প্রণয়নে স্থাপত্য অধিদপ্তরের নিকট চাহিদাপত্র দিয়েছেন গণগ্রন্থাগার অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অশীষ কুমার সরকার। চাহিদাপত্রে নতুন বিভাগীয় গণগ্রন্থাগারের জন্য ৫০টি গাড়ী রাখার সংস্থান করতে হবে, বৈদ্যুতিক পাওয়ার স্টেশন (৫০০ কেভিএ উপকেন্দ্রের জন্য), ১৫০ আসন বিশিষ্ট একটি সেমিনার এবং ৩০ আসন বিশিষ্ট একটি সভাকক্ষ, ১৫০ আসন বিশিষ্ট  সাধারণ পাঠকক্ষ, ১শ’ আসন বিশিষ্ট বিজ্ঞান পাঠকক্ষ, ৫০ আসন বিশিষ্ট  রেফারেন্স পাঠকক্ষ, ৫০ জন শিশু-কিশোর, ৫০ জন প্রতিবন্ধী, ৫০ জন মহিলা পাঠক, ৩০ জন প্রবীণ পাঠক, উন্মুক্ত ১শ’ জন পাঠক, ২০ আসন বিশিষ্ট কম্পিউটার ল্যাব, ২০ আসন বিশিষ্ট সাইবার ক্যাফে, গার্ডেন স্পেস, ক্যাফেটারিয়, ডরমেটরী, আবাসিক সুবিধাসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় রেখেই নকশা করা কথা বলা হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, জরাজীর্ণ ভবনে দাপ্তরিক কার্যক্রম চলছে, পুরনো ভবনে চুইয়ে বৃষ্টির পানি পড়ছে অভ্যন্তরে। মাঝে মাঝে বড় ধরনের বৃষ্টি হলে মূল্যবান কাগজপত্র ভিজে নষ্ট হয়ে যায়। বর্তমানে সামান্য মেরামতের ফলে ভেতরে পানি কম প্রবেশ করে। ভবনটির সামনের অংশে প্রচুর পরিমাণে শিদলা পড়েছে। যার ফলে বৃষ্টিতে চলাচল বিপদজনক।
বিভাগীয় সরকারি গণগ্রন্থাগারের লাইব্রেরিয়ান ড. মোঃ আহছান উল্যাহ্ বলেন, সমস্যাগুলো নিয়ে আমি লিখিতভাবে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। ইতোমধ্যে ভবনের স্থাপত্য নকশার জন্য সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তরের নিকট চাহিদামালা প্রেরণ করা হয়েছে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশার পর জানা যাবে কবে থেকে নতুন ভবনের কাজ শুরু হবে।
খুলনা গণপূর্ত অধিদপ্তর-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ আব্দুল্লাহ আল মাসুম বলেন, আমরা বিভাগীয় গণগ্রন্থাগার পর্যবেক্ষণ করেছে, এটা সংস্কার করে লাভ নেই। নতুন ভবন নির্মাণ করতে হবে। স্থাপত্য অধিদপ্তরের নকশার জন্য অপেক্ষা করছি। নকশা পাওয়ার পর প্রকল্প গ্রহণ ও ব্যয় নির্ধারণ করা হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ