খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

বেতন বৈষম্য অবসানের পাশাপাশি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতাও কাম্য

২০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বেতন বৈষম্য অবসানের পাশাপাশি শিক্ষকদের দায়িত্বশীলতাও কাম্য

দেশের প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় সাড়ে তিন লাখ শিক্ষক বেতনবৈষম্য দূর করার জন্য রাজপথে নেমেছেন। আমাদের এই শিশুপ্রধান দেশে প্রাথমিক স্কুল যেমন বেশি, তেমনি এখানে কর্মরত শিক্ষকের সংখ্যাও প্রচুর। আন্দোলনের বিভিন্ন পর্যায়ে সরকারের নানা স্তর থেকে অনেক প্রতিশ্র“তি দেওয়া হলেও সেগুলো পূরণ হয়নি। এর ফলে শিক্ষকরা কঠিন সিদ্ধান্ত নিয়ে পথে নেমেছেন। পত্রিকার খবরে বলা হচ্ছে, প্রাথমিক শিক্ষকরা প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখোমুখি অবস্থানে আছেন। বস্তুতপক্ষে দেশের অধিকাংশ প্রাথমিক বিদ্যালয়ই সরকারি হওয়ায় তাদের দাবি আদায়ে সরকারের মুখাপেক্ষী হতে হয়। এখন সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের ঔদাসীন্যের ফলে এই মুখাপেক্ষী মানুষগুলো এখন মুখোমুখি দাঁড়াতে বাধ্য হয়েছেন।
সরকার ঘোষিত নতুন বেতন স্কেলে প্রাথমিকের প্রধান শিক্ষকদের দেওয়া হয়েছে একাদশ গ্রেড ও সহকারী শিক্ষকদের চতুর্দশ গ্রেড। আন্দোলনকারী শিক্ষকরা জানাচ্ছেন এই নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণার আগে সহকারী শিক্ষকদের সঙ্গে প্রধান শিক্ষকের বেতন-ভাতার ব্যবধান ছিল এক গ্রেডের। এখন এটি তিন গ্রেডে দাঁড়িয়েছে। তারা মূলত এই বৈষম্য দূর করার জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। তারা চাইছেন প্রধান শিক্ষকের বেতন হবে নতুন স্কেলের দশম গ্রেডে এবং সহকারী শিক্ষকদের বেতন হতে হবে নতুন স্কেলের একাদশ গ্রেডে। ফলে বলা যায়, তারা বৈষম্য দূর করার দাবির সঙ্গে সঙ্গে বেতন বৃদ্ধির দাবিও তুলেছেন। তাদের এই দাবিকে অবাস্তব বলা যাবে না। পৃথিবীর উন্নত দেশে প্রাথমিকের শিক্ষকদের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-ভাতায় বৈষম্য সাধারণত থাকে না। বরং স্কুল শিক্ষায় বিশ্বে সর্বাগ্রে থাকা ফিনল্যান্ডে ব্যাপারটি উল্টো অর্থাৎ প্রাথমিকের শিক্ষকদের বেতন-ভাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের চেয়ে বেশি। আমাদের প্রাথমিক শিক্ষকরা অতটা ভারসাম্যপূর্ণ সমাধান নিয়ে মাথা ঘামাচ্ছেন না। তারা বিষয়টি ন্যায়সঙ্গত মর্যাদাপূর্ণ সমাধান চান।
আমরা বলে থাকি শিক্ষাই জাতির মেরুদন্ড। আর শিক্ষার ক্ষেত্রে প্রাথমিকের ভূমিকাকে কোনো ভবনের ভিত্তিপ্রস্তরের সঙ্গে তুলনা করা যায়। এ ক্ষেত্রে মাধ্যমিক স্তরকেও গুরুত্বের সঙ্গে নিতে হবে। এ রকম ভাবনায় প্রাথমিক ও মাধ্যমিকে মেধাবী সৃজনশীল শিক্ষকদের নিয়োগ দিতে হবে। বেতন কাঠামো বর্তমান স্তরে রেখে একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী মেধাবী জনশক্তি নির্মাণ এক প্রকার অসম্ভব বলেই ধরে নিতে হবে। ফলে এদের দাবি সহানুভূতির সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।
আমরা শিক্ষকদের বেতন বাড়ানো ও বৈষম্য ঘোচানোর পক্ষে। তবে বছরের এই সময়ে বার্ষিক পরীক্ষা সামনে রেখে স্কুল কার্যক্রমে বিঘœ ঘটিয়ে সর্বাত্মক আন্দোলনে রাজপথে নেমে শিক্ষকরা ছাত্রদের প্রতি সুবিচার করলেন কিনা, সেটা ভাবতে বলব। আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিশু ও শিক্ষাবান্ধব। তার সরকারের কাছ থেকে ন্যায্য দাবি আদায় করা কঠিন হবে না বলে মনে হয়। আমরা বলব, দেশের সচেতন নাগরিকরাও প্রাথমিক শিক্ষকদের দাবির বিষয়ে সংবেদনশীল হবেন। এ আন্দোলন দীর্ঘায়িত হলে জাতীয় সংকটে রূপ নেবে। তা ছাড়া জাতিসংঘ ঘোষিত এসডিজির চাহিদা অনুযায়ী মানসম্পন্ন শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ