খুলনা | শুক্রবার | ১৫ নভেম্বর ২০১৯ | ১ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

আবরার হত্যাকান্ড : মেধাবীদের মেধা ও জাতির বিবেক প্রশ্নের সম্মুখীন

প্রকাশ চন্দ্র অধিকারী | প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০১:৪১:০০

যে জাতি গুণের কদর করতে জানে, তাদের উন্নতি অবশ্যসম্ভাবী, গুণ এবং মেধা একে অপরের সম্পূরক। মেধাকে যদি নদীর সাথে তুলনা করা হয় তবে তাদের মধ্যে একটা সাদৃশ্য খুজে পাওয়া যায়। নদী যেমন সকল ভাংগা গড়াকে মোকাবেলা করে একটা লক্ষে পৌঁছায় তেমনি মেধার লক্ষ্য হলো সকল চ্যালেন্সকে শক্ত হাতে মোকাবেলা করে উন্নতির স্বর্ণশিখরে পৌঁছানো।
মেধাবিদের চারণভূমি বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ^বিদ্যালয় গুলো নতুন নতুন জ্ঞান উদ্ভাবন ও তা প্রয়োগের স্থান হিসেবে বিবেচিত। উচ্চ শিক্ষা যেমন উচ্চ সম্মানের স্থান তদ্রুপ তাহা মানব কল্যানের সহায়ক হিসেবে বিবেচিত। জ্ঞান যেমন মানুষকে মুক্তির পথ দেখায় তেমনি তাহা সকল কালীমাকে বিদূরীত করে হৃদয়ের ভারধারাকে সপ্রসারিত করে। যুক্তির দ্বারা মুক্তি এবং জ্ঞানের দ্বারা মনুষত্বের বিকাশ উভায়ের মাঝে জাতীয় প্রগতির পথ নিহীত। আর বিশ^বিদ্যালয়ের উচ্চ শিক্ষা আমাদের মুক্তি ও মনুষত্বের পথকে উজ্জ্বল আলোর শাণিত প্রভায় আলোকিত করতে অপ্রতীভ হিসেবে বিবেচিত।
আমাদের ভাগ্যের চাকায় আর্থীক দীনতা আগের তুলনায় অনেক কমেছে কিন্তু মেধা ও মননে আত্মীক দৈন্যতা দিন দিন বেড়েই চলেছে। জ্ঞান চর্চায় আমাদের আগ্রহ বৃদ্ধি পেয়েছে কিন্তু জ্ঞানের আলোয় আলোকিত হয়ে হৃদয়ে সামাজিকতা চর্চায় আগ্রহে ভাটা দেখা দিয়েছে। আমাদের মনের মাঝের সাম্রাজ্যবাদী চেতনা আর পুঁজিবাদী দৌরত্ব বিবেক বোধকে আগুনের ধোয়ার মত ঢেকে ফেলছে।আমাদের সন্তানদের দিন দিন আত্ম সম্মানবোধের দিক নজর বাড়ছে কিন্তু তাদের আত্ম বিশ্লেষণ পূর্বক আত্ম সংবরণ ও আত্ম সংশোধনের জায়গা ক্রমে সংকুচিত হচ্ছে। যুব সমাজর জ্ঞানের সৃজনশীলধারা প্রয়োগের মাধ্যমে সমাজের উন্নতির দিক নজর কমছে। অনেক সময় কিশোরও যুবকরা আত্মতৃপ্তির অভিলাষকে পূর্ণতা দানে অনৈতিক ও অনভিপ্রেত অভিসন্ধিতে সম্পৃক্ত হতে উদ্ধত হতে দেখা যাচ্ছে। 
বর্তমান সময়ে মানুষের মাঝে উন্নতির আকাংঙ্খা দল ও গোষ্ঠির পরিবর্তে ব্যক্তি বিশেষের স্থান দখল করে নিতে যাচ্ছে। ক্ষমতার আধিপত্য আর বিত্ত বৈভবের অসম প্রতিযোগিতা সময় ও সংসারকে ঝাঁকুনি দিচ্ছে। ফলে সমাজের প্রবীন জ্ঞানী ও গুণিজনের যুব সমাজের আস্থার প্রতি ঘুন ধরতে শুরু করেছে। ফলশ্র“তিতে মানুষে মানুষে মমত্ববোধ, ভ্রাতিত্ববোধ, একে আপরের প্রতি দ্বায়িত্ববোধ ও বিশ^াস কালের গর্ভে ফিকে হতে শুরু করেছে।
আজকের বাস্তবতায় সন্তানদের নিকট পিতা-মাতার অতি উচ্চভিলাষী প্রত্যাশা বিপদগামী সমাজব্যবস্থা গঠনে অনুযোজক হিসেবে কাজ করছে। সন্তানদের আমরা পৃথিবীর সকল সুখ দেবার বাসনা করছি। বড় বড় বই পড়ে মস্তবড় ডিগ্রী অর্জণে উৎসাহ দিয়ে যাচ্ছি। ন্যায় হোক আর অন্যায় পথে হোক সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষায় সম্পদের পাহাড় গড়ে দিতে পিতা মাতাকে বেশি ব্যস্ত হতে দেখা যাচ্ছে। জ্ঞান অর্জনের দ্বারা পুঁজিবাদী বাজার ব্যবস্থায় সন্তানের সক্ষমতা অর্জণের প্রতি পিতা মাতার আগ্রহ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। প্রায়শ : আমরা ভুলেই যাই যে এসব অসম প্রতিযোগিতা ও অনাহুত ভাবনার কারণে সন্তানদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ আশাতীত ভাবে ব্যহত হচ্ছে। ফলে সন্তানেরা ও ব্যক্তিগত ভাল লাগাকে মূল্য দিতে গিয়ে সামাজিক দায় ভারকে ভুলে গিয়ে হর হামেশা অসামাজিক কাজে লিপ্ত হচ্ছে।
বর্তমান সমাজ ব্যবস্থায় পিতা-মাতার সাথে শিশুর সম্পর্ক প্রেমের পরিবর্তে অনেকটা ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আর ব্যবসার সম্পর্কটা এমন পর্যায়ে পৌছায়েছে যে আমরা শিশুর সুস্থ ধারার সামাজিক শিক্ষণ প্রক্রিয়াটা ভুলে যাচ্ছি। তাহাছাড়া বাধ ভাংগা অপসংস্কৃতির অনুপ্রবেশ যুব সমাজকে প্রলুব্ধ করায়  সমাজে বিকৃত রুচির মানসিকতার প্রাদূর্ভাব ঘটছে। মাদকের হাতছানি, শিক্ষাঙ্গনে অসুস্থধারার রাজনীতির অনুপ্রবেশ, ছাত্র শিক্ষক সম্পর্কে নেতিবাচক ধারা, বিভিন্ন ক্ষেত্রে রাজনীতির অপচর্চা, বিচার ব্যবস্থার  দীর্ঘসূত্রীতা সমাজে সন্ত্রাসকে উসকে দিচ্ছে। এ সব কারণে মেধাবিদের মেধা অনেক ক্ষেত্রে সুস্থ ধারার বিপরীতে অবস্থান করায় সমাজে অনাহুত ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে যা জাতীর বিবেককে দারুণভাবে আহত করছে।
চোখ বুজে থাকলে প্রলয় বন্ধ হয়ে যাবে-এমনটা ভেবে আমাদের সমাজে যারা নির্লীপ্ততার ভূমিকায় অবতীর্ণ রয়ে যাচ্ছি, এক দিন এ নির্লীপ্ততা তাদেরকে অমানিশার কাল ধাবার সদৃশ আহত করতে উর্দ্ধত হবে। এটাই সময়ের জবাব। মানবিক মূল্যবোধের অবক্ষয়ের যে চিত্র দিন দিন পরিপুষ্ঠতার রুপ লাভ করছে তাহা অবশ্যই উৎকন্ঠার সামীল। এ ক্ষেত্রে প্রথমে রাষ্ট্রযন্ত্রকে কঠোর অবস্থান গ্রহণ করতে হবে। পাশাপাশি সামাজিক পরিমন্ডলকে নতুন করে সব কিছু ভাবতে হবে। সামাজিক নিষ্ঠুরতাকে কঠোর হস্তে দমন করতে হবে। সন্তানদের সুস্থ ধারার মানসিকবোধ সৃষ্টি, সঠিক ধর্মীয় চেতনার বিকাশ, সুস্থির সামাজক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ, সুস্থধারার রাজনীতির প্রবর্তন, শিক্ষাঙ্গনে ছাত্র কল্যান কেন্দ্রীক পরিবেশ নিশ্চিতকরণ,পরিমিত জীবনবোধ ইত্যাদি পদক্ষেপ গ্রহন পূর্বক সমাজে সুস্থ ধারার পরিবেশ বজায়ে রাখা সম্ভব। মনে রাখতে হবে ‘ভাবীকালের হাস্যোজ্জ্বল বঙ্গমাতার অপূর্ব রুপ’ নির্মাণে দায়িত্ব আপনার, আমার সকলেরই।
লেখক : সহকারি অধ্যাপক ও মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষক, সরকারি সুন্দরবন আদর্শ কলেজ, খুলনা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১

এখন বর্ষাকাল : আরও গাছ লাগান

এখন বর্ষাকাল : আরও গাছ লাগান

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

ঘর হোক নারীর নিরাপদ স্থান

ঘর হোক নারীর নিরাপদ স্থান

০৪ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

জাতীয় শোক দিবসের অঙ্গীকার 

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪১


বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

বঙ্গমাতার প্রতিও শ্রদ্ধাঞ্জলি

১৫ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৪৩



ভারত ভ্রমণে নয় দিন

ভারত ভ্রমণে নয় দিন

০৮ মে, ২০১৯ ০০:৫৯

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

হাতে হাত রেখে গড়বো খুলনা

২৭ এপ্রিল, ২০১৯ ০০:১৬



ব্রেকিং নিউজ