খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

দিনের পর দিন চিঠি দিয়েও যন্ত্রপাতি ও জনবল মিলছে না

খুমেক হাসপাতালের নতুন আইসিইউ ভবন পড়ে আছে দেড় বছর : সেবা পাচ্ছে না রোগীরা

বশির হোসেন | প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩২:০০

বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার খাদিজা বেগম গত ১৫ সেপ্টেম্বর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন কর্তব্যরত চিকিৎসক বলেছিলেন ১৪ সেপ্টেম্বর রাতে যখন রোগীকে খুবই কম প্লাটিলেট থাকা অবস্থায় নিয়ে আসে তখনই তার আইসিইউ সেবার খুব প্রয়োজন ছিলো। কিন্তু খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মাত্র ৪টি বেডে তখন আরও খারাপ রোগী থাকায় তাকে আইসিইউ সেবা প্রদান করা সম্ভব হয়নি। এমন অবস্থা খুলনা মেডিকেলে প্রায়ই ঘটছে। অথচ হাসপাতালে দৃষ্টিনন্দন আলাদা আইসিইউ ভবন উদ্বোধন হয়েছে দেড় বছরের বেশি হলো। কিন্তু যন্ত্রপাতি ও পর্যাপ্ত জনবলের অভাবে তা এখনও চালু যায়নি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নবনির্মিত আইসিইউ ভবন প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করেছেন ২০১৮ সালের মার্চ মাসে। অথচ যন্ত্রপাতির অভাবেই চালু হচ্ছে না অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই বিভাগটি। একাধিকবার মন্ত্রণালয়ে পত্র দিয়েও কোন সুফল মেলেনি। সাধারণ রোগীরা বলছে, এতদূর এসে শুধুমাত্র যন্ত্রপাতির কারণে খুলনাবাসীর দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি আইসিইউ বিভাগ বন্ধ থাকতে পারে না। 
সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আলাদা কোন আইসিইউ বিভাগ নেই। হাসপাতালের ৩য় তলায় পোস্ট অপারেটিভ ইউনিটের চারটি বেড আইসিউ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। ডাঃ মোঃ ফরিদুল ইসলাম একান্ত প্রচেষ্টায় এ বেড চারটি স্থাপন করেন এবং নিজেই পরিচালনা করেন। তবে আইসিইউ বলতে যা বোঝায় খাতা কলমে তা না থাকলেও নিজের মেধা দিয়ে এক প্রকার জোড়াতালির আইসিইউ চালু রেখেছেন তিনি। তবে যেখানে ১২শ’র বেশি রোগী প্রতিদিন ভর্তি থাকে সেখানে মাত্র ৪টি বেড যে খুবই অপ্রতুল তা বলার অপেক্ষা রাখে না।
সূত্র জানায়, সাড়ে ১১ কোটি টাকা টাকা ব্যয়ে খুমেক হাসপাতালের পূর্ব পাশ ও নার্সিং ইনস্টিটিউটের মাঝে নির্মাণ কাজ শুরু হয় সতন্ত্র আইসিইউ ভবনের। দুইতলা বিশিষ্ট এই ভবনের দ্বিতীয় তলায় ৪টি কেবিন, ১০টি আইসিইউ, ১৬ টি পোস্ট অপারেটিভ বেড নিয়ে ৩১ শয্যা বিশিষ্ট পূর্ণাঙ্গ আইসিইউ সেবা। আর নীচ তলায় রয়েছে অতি জরুরি সার্জারি রোগীদের সেবা দেয়ার জন্য ইমার্জেন্সি সার্জারি ইউনিট। গত বছরের ৩ মার্চ প্রধানমন্ত্রীর খুলনা সফরকালে ৯৫ শতাংশ কাজ বাকি রেখেই উদ্বোধন করা হয় খুমেক-এর আইসিইউ ভবন। কাজ সম্পন্ন করে ১ মাসের বেশি সময় আগে গণপূর্তের কাছ থেকে ভবন বুঝে নেয় খুমেক কর্তৃপক্ষ। তবে জনবল ও যন্ত্রপাতির কারণে চালু হচ্ছে না এই ভবন। জনবল নিয়োগের জন্য ১৪৪ জনের একটি দাবি মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বছরের পর বছর পার হলেও পূর্ণাঙ্গ জনবল দেয়া হয়নি। এছাড়া চিকিৎসা সহায়ক সামগ্রীর চাহিদা পাঠিয়ে বার বার যোগাযোগ করা হলেও মন্ত্রণালয় থেকে কোন সুখবর মেলেনি।
আইসিইিউ বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডাঃ ফরিদ উদ্দিন আহমেদ। তিনি বললেন, খুব অল্প সময় চাকুরি আছে, এখন আইসিইউ ভবনটি ভালোভাবে চালু করাই একমাত্র লক্ষ্য। এর পেছনেই সারাদিন সময় ব্যয় করি। এ প্রতিবেদককে তিনি বলেন, মন্ত্রণালয়ে জনবল ও যন্ত্রপাতি চেয়ে একাধিক চিঠি দিয়েছি। কিন্তু কোন উত্তর পাচ্ছি না। তবে খুলনা মেডিকেল কলেজের নিয়মিত কিছু যন্ত্রপাতি কেনা হচ্ছে। সেখানে কিছু যন্ত্রপাতি কেনার জন্য ডিমান্ড দিয়েছি। সেগুলোও যদি পাই তাহলে জনবল যা আছে তাই দিয়ে শুরু করে দেবো। যে কোন ভাবেই আইসিইউ বিভাগ চালু করতে চাই।
বিএমএ খুলনার সাধারণ সম্পাদক ও খুমেক এর উপাধ্যক্ষ ডাঃ মেহেদী নেওয়াজ বলেন, খুলনাসহ আশপাশের জেলায় কেউ গুরুতর অসুস্থ হলে তাকে সবার আগে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসে। দক্ষিণবঙ্গের সর্ববৃহৎ হাসপাতালে আইসিইউ সেবা থাকবে না তা কল্পনাও করা যায়না। অতি দ্রুত যন্ত্রপাতি ও জনবল সমন্বয়ের মাধ্যমে আইউসিইউ চালু করা উচিত।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ