খুলনা | শুক্রবার | ২২ নভেম্বর ২০১৯ | ৭ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

এনাল ফিশার: পুষে রাখা এক ভয়াবহ ব্যাধি

ডাঃ ফারুকুজ্জামান | প্রকাশিত ১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

রাজাত আলী শেখ (ছদ্ম নাম)। ৬২ বছরের বৃদ্ধ। জানালেন তিন বছর ধরে পায়খানার রাস্তায় সমস্যা। আগেও চিকিৎসা নিয়েছেন ডিসপেনসারির একজন ডাক্তারের কাছ থেকে।  ভালো ছিলেন বেশ কিছু দিন। এখন খুব ব্যথা। জানতে চাইলাম, পায়খানার রাস্তার কোনা পাশে ঘা হয়ে শক্ত হয়ে আছে কিনা? মাঝে মাঝে পুঁজ-পানি বা হালকা রক্ত যায় কিনা? ব্যথা এতটাই তীব্র কিনা যে পায়খানা করতে সমস্যা হচ্ছে? তিন বছর ধরে বার বার এই অবস্থার পুনরাবৃত্তি হচ্ছে কিনা? (মানে একদম ভালো হয়ে যাচ্ছেন, আবার একই সমস্যা হচ্ছে)? কিছুটা অবাক হলেন তিনি। জানালেন ঘটনা একদম তাই। এবার আমার অবাক হবার পালা। তিনি পকেট থেকে মোবাইল ফোন বের করলেন। পায়খানার রাস্তার ছবি তুলে এনেছেন তিনি। আজ আসুন আলোচনা করা যাক এই বৃদ্ধ মানুষটার সমস্যাটি নিয়ে ।
শব্দগত ভাবে “এনাল” মানে “পায়খানার রাস্তার” আর “ফিশার” মানে “চিরে/ছিড়ে যাওয়া বা ফাটল ধরা”।  প্রায় সব স্বাভাবিক মানুষেরই মাঝে মাঝে, বিশেষ করে শক্ত পায়খানার সময় পায়খানার রাস্তা চিরে যায়, কিছুটা ব্যথাও হয় । এটাই স্বাভাবিক ঘটনা । কিন্তু এই বিষয়টা নিয়ে জটিলতা কোথায়? একজন স্বাভাবিক মানুষের চিরে যাওয়া পায়খানার রাস্তা সাধারণত দু-এক দিনের মধ্যেই এমনি এমনিই ঠিক হয়ে যায় । কিন্তু যাদের পায়খানার রাস্তার স্ফীফিংটারের টোন বেশি, রক্ত চলাচল স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকায় পায়খানার রাস্তার সৃষ্ট ক্ষত সহজে পূরণ হতে চায় না। ক্ষত থেকে ঘা, তারপর ইনফেকশন। শুরু হয় তীব্র ব্যথা। ব্যথার কারণে পায়খানা করা দুরূহ হয়ে পড়ে। আস্তে আস্তে কোনো একটা সময়ে এসে ইনফেকশন কমে যায় (চিকিৎসার ফলে বা চিকিৎসা ছাড়াই), ঘা শুকিয়ে যায়, আবার স্বাভাবিক পায়খানা হয় । কিন্তু ক্ষতস্থানে শক্ত একটা গোটা রয়ে যায় দীর্ঘদিন (ফাইব্রোসিস-এর কারণে) । রোগীর কাছে মনে হয় যে তারা সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গেছে। আবার এক সময় এসে পায়খানা শক্ত হয় । আবার এই একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি। এই ঘটনা চলতে থাকে দিনের পর দিন। ইচ্ছা বা অনিচ্ছাকৃত ভাবে রোগীরা পুষতে থাকেন এই নোংরা রোগকে।
এখন জেনে নেই এই রোগীর স্থায়ী সমাধান । অপেরেশনের মাধ্যমে পায়খানার রাস্তার পাশ দিয়ে, ভিতরের স্ফীফিংটারের কিছু অংশ কেটে (খLateral internal anal sphincterotomy)পায়খানার রাস্তার টোন (Anal tone) কমিয়ে, রক্ত চলাচল স্থায়ী ভাবে বাড়িয়ে দেয়া। সেই সাথে অহধষ Anal stretching-এর মাধ্যমেও প্রসারিত করা হয় স্ফীফিংটারের মাংসপেশীকে। এই অপারেশন সম্পূর্ণ ব্যথা মুক্ত, কারণ এটা করা হয় স্পাইনাল অ্যানাসথেসিয়ার মাধ্যমে (মাজায় ইনজেকশন দিয়ে নাভির নিচ হতে শরীরের নিন্মাংশ সম্পূর্ণ অবশ ও অসাড় করে নিয়ে) তারপর সপ্তাহ খানেক রোগীকে হিপ বাথ (কুসুম গরম পানিতে বসে গরম শেক) নিতে হয়। এই অপারেশন সব সময় অভিজ্ঞ সার্জন দিয়ে করানো অত্যন্ত জরুরি। কারণ স্ফীফিংটার বেশি কেটে ফেললে Anal incontinence  (অপারেশন পরবর্তী সময়ে পায়খানার রাস্তা বেশি ঢিলা হয়ে যাওয়াতে, পায়খানা ধরে রাখতে না পারা সংক্রান্ত জটিলতা) সহ অন্য কিছু জটিলতা হওয়ার সম্ভবনা থেকে যায়।
যারা দীর্ঘ দিন এই রোগ নিয়ে অপারেশন করাতে পারছেন না, তাদের জন্য কিছু পরামর্শ :
১) পায়খানা নরম রাখা (নিয়মিত শাকসবজি ও ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি খাওয়া)।
২) ব্যথার সময় দিনে দু-তিন বার কুসুম গরম পানিতে বসে শেক নেয়া।
৩) চিকিৎসকের পরামর্শমতো এন্টিবায়োটিক, ব্যথার ঔষধ, নাইট্রোগ্লিসারিন মলমসহ অন্যান্য ঔষধ ব্যবহার করে সাময়িক সুফল পাওয়া যেতে পারে কিন্তু মনে রাখা জরুরী, এসবের কোনোটাই স্থায়ী সমাধান নয়।
ধন্যবাদ।
ডাঃ ফারুকুজ্জামান
এমবিবিএস (সিএমসি), বিসিএস (স্বাস্থ্য),
এফসিপিএস (সার্জারি), এমআরসিএস (এডিনবার্গ, ইংল্যান্ড),
এমএস(সার্জারি), বারডেম হাসপাতাল, ঢাকা।
সার্জারি বিশেষজ্ঞ,
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতা

 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

Lipoma (চর্বির টিউমার) কি? আসুন জানি ।

২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০৩


প্লাস্টিক সার্জারি কী ও কেন

প্লাস্টিক সার্জারি কী ও কেন

০৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০





ব্রেকিং নিউজ