খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

প্রকল্পের নামে লুটপাট : প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি

১৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

প্রকল্পের নামে লুটপাট : প্রশাসনের জবাবদিহি বাড়ানো জরুরি

নৈতিকতা, মূল্যবোধ, সততা, দেশপ্রেম, দায়িত্বশীলতা এসব যেন নিছক অভিধানে থাকা কিছু শব্দ হয়ে গেছে। অন্তত এ দেশের সরকারি কর্মকর্তাদের আচার-আচরণ ও দায়িত্ব-কর্তব্যবোধ দেখে তাই মনে হয়। রাষ্ট্রীয় অর্থ তথা জনগণের অর্থ লুটপাট ক্রমেই যেন একটি স্বাভাবিক বিষয় হয়ে উঠছে। বড় বড় কেনাকাটার তো কথাই নেই, সামান্য একটি বালিশ কেনার বাজেটও হয় ছয় হাজার টাকা। হাসপাতাল বা বৃদ্ধাশ্রমের পর্দা-হাঁড়ি-পাতিল কিনতেও লাগে বাজারমূল্যের ১০ গুণ টাকা। নির্মাণের খরচ অস্বাভাবিক রকম বেশি। তার পরও ভবন তৈরিতে রডের পরিবর্তে ব্যবহার করা হয় বাঁশ। প্রধানমন্ত্রীও আক্ষেপ করে বলতে বাধ্য হন, সরকারি প্রকল্পে অর্থের সঠিক ব্যবহার হলে বাংলাদেশ এত দিনে আরো অনেক দূর এগিয়ে যেত। কিন্তু কাদের দিয়ে অর্থের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করবেন তিনি? সরকারের প্রকল্পে যৌক্তিক বাজেট প্রণয়ন, বাজেটে অস্বাভাবিক ব্যয় চিহ্নিত করা ও কাটছাঁট করা, কাজের মান নিশ্চিত করা, হিসাবপত্র নিরীক্ষা করা প্রতিটি কাজের জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা রয়েছেন। দুঃখজনক হলেও সত্য যে তাঁরা নিজেরাই সরকারি অর্থের লুটপাটে জড়িয়ে যাচ্ছেন।
চীন ও ভারতে এক কিলোমিটার সড়ক নির্মাণে খরচ হয় ১১ থেকে ১৫ কোটি টাকা। বাংলাদেশে খরচ হয় ৫৫ থেকে ১০০ কোটি টাকার মতো। মাতারবাড়িতে ২১ কিলোমিটার দীর্ঘ দুই লেনের একটি সড়ক নির্মাণে যে বাজেট দেওয়া হয়েছে, তাতে কিলোমিটার প্রতি খরচ পড়ছে ১৬১ কোটি টাকা। অজুহাত দেওয়া হচ্ছে, উপকূলীয় এলাকাটিতে মাটি সড়ক নির্মাণের উপযোগী না হওয়ায় বালু ভরাট করতে হবে এবং জলোচ্ছ্বাস থেকে রক্ষায় সড়কটি ২১ ফুট উঁচু করতে হবে। অথচ পটুয়াখালীর পায়রাবন্দর এর চেয়েও নিচু এলাকা। সেখানে চার লেনের যে সড়ক নির্মিত হয়েছে, তাতে খরচ হয় কিলোমিটার প্রতি ৬০ কোটি টাকা। মাতারবাড়িতে ড্রেজিংয়ের জন্যও অস্বাভাবিক খরচ ধরা হয়েছে। পায়রা সমুদ্রবন্দরের রামনাবাদ চ্যানেলে যেখানে ড্রেজিংয়ে খরচ হচ্ছে ঘনমিটারপ্রতি ৩৫০ টাকা। একই ধরনের ড্রেজিংয়ের জন্য মাতারবাড়িতে খরচ ধরা হয়েছে ঘনমিটার প্রতি ১০ হাজার ৯৪২ টাকা। এ যেন কল্পনাকেও হার মানায়! মাতারবাড়ি প্রকল্পের অর্থায়নে রয়েছে জাপানি উন্নয়ন সংস্থা জাইকা। তারাও মনে করে, এই খরচ হওয়া উচিত সাড়ে ৩০০ টাকার মতো। পরিকল্পনা কমিশন থেকে এই খরচ নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। কিন্তু আমাদের প্রশ্ন, যাঁরা এই খরচ প্রাক্কলন করেন, তাঁরা কিসের ভিত্তিতে এমন অবাস্তব হিসাব বানালেন? এই কাজের জন্য তাঁদের জবাবদিহির আওতায় আনা উচিত নয় কি?
সরকারি কর্মকর্তাদের বেতন-ভাতা, সুযোগ-সুবিধা কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে। উদ্দেশ্য ছিল, প্রশাসন পরিচালনায় তাঁদের সততা, নিষ্ঠা, দেশপ্রেম নিয়ে কাজ করাসহ সরকারি কাজের মান ও গতি নিশ্চিত করা। এসব কি তারই উদাহরণ! প্রায় কোনো প্রকল্পই সময়মতো শেষ হয় না, তিন বছরের প্রকল্প ১০ বছরেও শেষ হয় না। খরচ বাড়তে থাকে। কাজের মান সন্তোষজনক হয় না। রাষ্ট্রীয় প্রশাসনের এই দুরবস্থা কবে দূর হবে?


 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ