খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

নীতি অনুসরণ না করে নিয়োগ 

সরকারি মডেল স্কুলের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ

আশরাফুল ইসলাম নূর | প্রকাশিত ১৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:১৯:০০

এবার খুলনার সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। নিয়ম-নীতি অনুসরণ না করে পাঁচ শিক্ষক ও একজন কর্মচারী নিয়োগের পর এককালীন সরকারি ওই অর্থ তুলে নেয়া হয়েছে বলে অভিযোগ। শুধু তাই নয়; প্রতি মাসে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা বেতন-ভাতা তুলছেন তারা। এসব অভিযোগের প্রেক্ষিতে মডেল স্কুলের বর্তমান (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষককে দুই কার্যদিবসের মধ্যে নিয়োগের যাবতীয় বৈধ কাগজপত্রসহ অভিযোগের জবাব দিতে নোটিশ দিয়েছেন খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্। সরকারের চলমান শুদ্ধি অভিযানে দেশের বিভিন্ন স্থানে নানান অনিয়ম-দুর্নীতিতে মুখোশ উন্মোচনে সন্তুষ্ট জনসাধারণ। এমন পরিস্থিতিতে খুলনার মডেল স্কুলে এ রকমের অভিযোগ নড়েচড়ে বসেছে হিসাব ও শিক্ষা বিভাগ।
সংশ্লি¬ষ্ট সূত্রমতে, খুলনা বিভাগীয় কার্যালয়ের ডেপুটি ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্ কে এম মুশতাক আহমদ গত ৭ অক্টোবর সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বরাবর স্কুলে পাঁচ শিক্ষক ও একজন কর্মচারী অবৈধভাবে নিয়োগপত্র পেয়ে সরকারের এককালীন প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতিমাসে এক লাখ ৭০ হাজার অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উত্তোলনের বিষয়টি দুই কর্মদিবসের মধ্যে সকল বৈধ কাগজপত্রসহ জানাতে নোটিশ করেন। সাথে সংযুক্ত করেন অভিযোগপত্রের অনুলিপিও।
গত ২০ আগস্ট সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষিকাদের পক্ষে হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয়ে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। ওই অভিযোগপত্রটি বেনামি হওয়া সত্ত্বেও হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের দপ্তর থেকে বিষয়টি তদন্তের জন্য নির্দেশ দেয়া হয় খুলনা কার্যালয়কে। অভিযোগের স্বপক্ষে প্রমাণাদি সংযুক্ত করে বলা হয়-সরকারি মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পাঁচ শিক্ষক ও একজন কর্মচারী অবৈধভাবে নিয়োগ পেয়ে এককালীন সরকারের প্রায় এক কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং প্রতি মাসে এক লাখ ৭০ হাজার টাকা অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে উত্তোলন করছে।
অভিযোগপত্রে আরও উল্লে¬খ রয়েছে নগরীর মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়টি ২০১৬ সালের ২৫ ফেব্র“য়ারি জাতীয়করণ করা হয়। সরকারি বিধিমোতাবেক একজন শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রে কোন নিয়ম-নীতি অনুসরণ করা হয়নি। নিয়মানুসারে বিদ্যালয় পরিচালনা কমিটির নিয়োগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী রেজুলেশন, পত্রিকায় বিজ্ঞাপন প্রকাশ, নিয়োগ বোর্ড গঠন, ডিজি’র প্রতিনিধি নিয়োগ, নিয়োগ, নিয়োগ পরীক্ষা, নিয়োগের সিদ্ধান্তের রেজুলেশন, নিয়োগপত্র ইস্যু এবং সর্বোপরি যোগদানের কোনকিছুই বিধি মোতাবেক না থাকায় ওই পাঁচজন শিক্ষক ও একজন কর্মচারী কিভাবে নিয়োগ দেয়া হলো? এমন প্রশ্ন অভিযোগপত্রে। আরও উল্লে¬খ করা হয়, এ অবস্থায় বিদ্যালয়ের সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদ আলম তাদের চাকরি জাতীয়করণের জন্য ওই শিক্ষক ও কর্মচারীর কাছ থেকে মোটা অংকের অর্থ গ্রহণ এবং ভুয়া নিয়োগপত্র ও যোগদানপত্র তৈরি করে সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে প্রেরণ করেন। ২০১১ সালের ২৪ মার্চ খন্ডকালীন শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র দেয়া হয়; আবার একই দিনে তাদের নিয়মিত শিক্ষক হিসেবে নিয়োগপত্র ইস্যু ও চাকুরিতে যোগদান দেখানো হয়। এনটিআরটি’র সার্টিফিকেট ছাড়া কোন প্রার্থীই বেসরকারি বিদ্যালয়ে শিক্ষক পদে আবেদন করতে পারেন না, অথচ তাদের ক্ষেত্রে সে নীতি অনুসরণ না করেই তাদের নিয়োগ দেখানো হয়েছে। ভুয়া নিয়োগপত্রে অফিস স্মারক নং নেই। পাঁচ শিক্ষক ও একজন কর্মচারী প্রতিমাসে ডিসিএ খুলনা থেকে বেতন-ভাতা উত্তোলন করছেন, যা তদন্ত পূর্বক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয় অভিযোগপত্রে।
এ প্রসঙ্গে ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্ কেএম মুশতাক আহমদ গতকাল মঙ্গলবার বিকেলে সময়ের খবরকে বলেন, স্কুলের শিক্ষকদের নিয়োগ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দুই কার্যদিবসের মধ্যে জমা দেয়ার জন্য প্রধান শিক্ষককে একটা নোটিশ দেয়া হয়েছে। প্রধান শিক্ষক এক সপ্তাহের সময় চেয়েছেন। তাদের কাগজপত্র পেলে পরবর্র্তী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের (ভারপ্রাপ্ত) প্রধান শিক্ষক আবুল হোসেন সেখ গত সোমবার সকালে বলেন, “নোটিশ পেয়ে সাথে সাথে সংশ্লি¬ষ্ট শিক্ষকদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে বলেছি। কিন্তু তারা আমার কাছে দু’দিন সময় চেয়েছেন; তাই আমিও ডিসিএ কর্তৃপক্ষের কাছে এক সপ্তাহের সময় চেয়েছি। এ সময়ের মধ্যে কাগজপত্র দাখিল করতে পারবো। তাছাড়া আমি নতুন এসেছি; নিয়োগ প্রক্রিয়ার ওই সময়ে আমি স্কুলে ছিলাম না। তাই বিস্তারিত বলতে পারছি না।”
এদিকে, অভিযোগ অস্বীকার করে তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোঃ মাহমুদ আলম জানান, ‘সব নিয়োগ প্রক্রিয়া বিধি মোতাবেক হয়েছে। আমরা এ নোটিশের জবাব দিতে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজির হবো।’ তিনি আরও জানান, ‘স্কুলের সহকারী শিক্ষক রাবেয়া কবির আদালতে মামলা করেছিলেন। আদালত ওই পাঁচ শিক্ষক ও কর্মচারীর বেতন ছাড় দিতেও একটা নির্দেশনা দিয়েছেন। আদালতের সেই নির্দেশনা মোতাবেক তাদের বেতন ছাড় পেয়েছেন। এখানে তার বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগটা সঠিক নয় বলে দাবি করেন তিনি।’ মামলাটির খুলনার সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে আগামী ২৫ নভেম্বর জবাব দাখিলের তারিখ রয়েছে বলে জানা গেছে।
একাধিক সূত্রমতে, নিয়োগকৃত ওই শিক্ষকরা হলেন সহকারী শিক্ষক রাবেয়া কবির, ইন্দ্রা রাণী হালদার, ফারজানা ইব্রাহিম, ফারহানা দিবা, আরতি রাণী সাহা এবং অফিস সহকারী সজল ব্যানার্জী। এসব নিয়োগ প্রক্রিয়ায় দু’জন সাবেক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও ম্যানেজিং কমিটির শিক্ষক প্রতিনিধি সরাসরি নিয়ন্ত্রণ করেছেন বলে শিক্ষকদের একাধিক সূত্র জানিয়েছেন। ডিভিশনাল কন্ট্রোলার অব একাউন্টস্ অফিসের নোটিশ পেয়ে নড়েচড়ে বসেছেন সকলেই। অন্যদিকে নিয়োগ সংক্রান্ত কোন অভিযোগ করেননি মর্মে সাদা কাগজে এরকম অভিন্ন দরখাস্তে গত ১২ অক্টোবর শিক্ষকদের স্বাক্ষর করিয়েছেন ওই তিন শিক্ষক।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) খুলনার আঞ্চলিক উপ-পরিচালক নিভা রাণী পাঠক বললেন, “জাতীয়করণের পর ওই শিক্ষকদের তো বাদ দেয়া হয়েছিল। তারপর আর খোঁজ নেয়া হয়নি।” অভিযোগ শুনে তিনি আরও বললেন, ‘দেখি খোঁজ নিবো।’
 
 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ


এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

এইচএসসি পরীক্ষা শুরু ১ এপ্রিল

৩০ অগাস্ট, ২০১৯ ০০:৩১












ব্রেকিং নিউজ