খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা অনেক পরিবারের সঙ্গে এবার আবরারের পরিবারও যুক্ত হলো। এরপর কে কখন কাকে ধরে নিয়ে হত্যা করবে, বলা মুশকিল। বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্নমতের সহপাঠীকে মেরে ফেলছেন সতীর্থরা। রাজনৈতিক ক্ষতিপক্ষকে মেরে ফেলছে আরেক দল। নিজ দলের কর্মীও ক্ষতিহিংসা থেকে রেহাই পাচ্ছেন না। নির্যাতিতের স্বজনের হাহাকার ও বিলাপে ভেসে যাচ্ছে এই মানবজমিন। উচ্চশিক্ষা অর্জন করতে এসে লাশ হয়ে কাফনে মুড়ে বাড়ি ফেরা আর কত দিন চলবে? আর তারা বিচার পাবে কি এমন প্রশ্ন এখন সর্বত্র? 
আবরারের হত্যাকান্ডে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিন্দার ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তবে এক সময় নতুন ঘটনায় চাপা পড়ে যাবেন আববার। আবরারের খুনিরা ছাড়া পেয়ে গণপূর্তের প্রধান প্রকৌশলীর পদ অলংকৃত করলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। আবরারকে একদিন আমরা ভুলে যাব কিন্তু এই হত্যাকান্ড সামাজিক অধঃপতনের ইঙ্গিত দেয়। এই ইঙ্গিত ভয়াবহ। সমাজ ভেঙে পড়ার ইশারা এ ঘটনায় বিদ্যমান। শিক্ষা ক্ষতিষ্ঠানগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার কারিগর তৈরির কারখানা। এই কারিগরেরাই যদি খুনি-ধর্ষক হিসেবে বের হন, তবে রাষ্ট্র হিসেবে শক্ত জমিনের ওপর দাঁড়ানো কঠিন। রাষ্ট্র যেই জমিনের ওপর শক্ত হয়ে দাঁড়ায়, সেই জমিন যদি খুবই নরম হয় তবে টিকে থাকা কঠিন।
এ ঘটনায় কয়েকজনকে পুলিশ আটক করেছে বটে কিন্তু জনসাধারণ আশ্বস্ত হতে পারছে না। কারণ কোটা সংস্কার আন্দোলনে অংশ নেওয়ায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তরিকুল ইসলামকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে হাড় ভেঙে দেওয়া হয়েছিল। হাতুড়ি দিয়ে মারধর করার পর পিটুনিবীর আবদুল্লাহ বীরপর্দে টেলিভিশনে সাক্ষাৎকারও দিয়েছেন হাসি মুখে। কিন্তু আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে ক্ষশাসন বা বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ কেউই কোনো ব্যবস্থা নেয়নি।
দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে নির্যাতন, হত্যা, হামলার সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে। এই লাশের তালিকায় নতুন নতুন নাম যুক্ত হচ্ছেই। সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে পাঠাতে অধিকাংশ অভিভাবককে যে কী পরিমাণ কাঠখড় পোড়াতে হয়, তা আমাদের অধিকাংশেরই জানা। দীর্ঘদিনের শ্রম ও ঘামকে পানি করে সন্তানকে বিশ্ববিদ্যালয়ে দেন পিতামাতা। সন্তানকে রাষ্ট্রের কারিগর হওয়ার জন্য পাঠান যে বড় হয়ে পরিবারের পাশাপাশি রাষ্ট্রের খুঁটিটাকে শক্ত করে ধরবে, লাশের ভারী কফিন বাড়ি বয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য না। কিন্তু রাষ্ট্র তার ভবিষ্যৎ কারিগরদের নিরাপত্তা দিতে পারছে না। তাই খুন হয়ে যায় আবরার, দ্বীপ, সাদ, জুবায়ের, আবু বকর। ক্ষণের কী মর্মান্তিক অপচয়! 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ