খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

হলুদে বিষাক্ত সিসা ভেজাল রোধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরি

১২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

হলুদে বিষাক্ত সিসা ভেজাল রোধে আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ জরুরি

আইসিডিডিআর’বি ও যুক্তরাষ্ট্রের স্টানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথ গবেষণায় খাদ্যে ব্যবহৃত হলুদে বিষাক্ত সিসা পাওয়ার তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে ভোক্তা পর্যায়ে বিক্রীত হলুদের গুঁড়ার রং উজ্জ্বল করতে মারাত্মক বিষাক্ত সিসা (লেড ক্রোমেট) ব্যবহার করা হচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। দীর্ঘদিন ধরে এ ধরনের হলুদ ব্যবহারের ফলে এর ক্ষতিকর সিসা অস্থিমজ্জায় ক্রিয়া করে রক্তের স্বাভাবিক উৎপাদন ব্যাহত করতে পারে। এছাড়া শিশুদের মস্তিষ্কের স্বাভাবিক বিকাশ বাধস্ত্রস্ত করতে পারে। এমন কী মানবদেহে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। বিষয়টি উদ্বেগজনক। 
নিরাপদ খাদ্য আইন-২০১৩ অনুযায়ী, হলুদ প্রক্রিয়াজাতকরণে কোনো ধরনের উজ্জ্বল রং সংযোজন থেকে বিরত থাকার নির্দেশনা দেয়া হয়েছে। আশঙ্কার বিষয় হল, এ নির্দেশনা উপেক্ষা করে হলুদে রং বা লেড ক্রোমেট মেশানো হচ্ছে, যা বাজারে পিউরি, পিপড়ি, বাসন্তী রং, কাঁঠালি রং ইত্যাদি নামে পরিচিত। বস্তুত এসব রং ছবি আঁকা বা আলপনা আঁকার কাজে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। যে কোনো ভারি ধাতু মানবদেহের জন্য ক্ষতিকর। সিসা একটি মারাত্মক ভারি ধাতু। খাবারের মাধ্যমে বা অন্য যে কোনোভাবে মানুষ সিসা গ্রহণ করলে, তা রক্তে মিশে অস্থিমজ্জায় প্রভাব বিস্তার করে। একপর্যায়ে শরীরে স্বাভাবিক রক্ত উৎপাদন, বিশেষ করে লোহিতকণিকার উৎপাদন ব্যাহত করে। এতে শরীরে রক্তস্বল্পতা দেখা দেয়। এ অবস্থাকে বলা হয় হেমোক্রোমটেসিস, যা এক পর্যায়ে ক্যান্সার সৃষ্টি করতে পারে। উদ্বেগজনক হল, দেশে প্রায় প্রতিটি খাদ্যসামগ্রী নিয়েই চলছে ভেজালের মহোৎসব। বাজারের মাছ-মাংস, দুধ-ডিম ও ফলমূল থেকে শুরু করে এমন কোনো জিনিস নেই, যার মধ্যে ক্ষতিকর কেমিক্যাল ও ভেজাল মেশানো হচ্ছে না। মানহীন খাদ্যদ্রব্য প্রস্তুতের উপাদান হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে মারাত্মক রাসায়নিক উপাদান।
বারডেম পরিচালিত এক জরিপ প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, খাদ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক ব্যবহারের কারণে দেশে প্রতিবছর অন্তত আড়াই লাখ মানুষ ক্যান্সার, ২ লাখ ২০ হাজার ডায়াবেটিস এবং ২ লাখ কিডনি রোগে আক্রান্ত হওয়া ছাড়াও প্রায় পৌনে তিন লাখ মানুষ ফুসফুস ও শ্বাসতন্ত্রের রোগে আক্রান্ত হচ্ছে। এছাড়া পেটের পীড়া, লিভার, অ্যালার্জিসহ নানা রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশের লাখ লাখ মানুষ। অথচ রাসায়নিক মিশ্রিত ভেজাল, নকল ও ক্ষতিকর খাবার অবাধে বিক্রি হলেও দেশে ক্রেতাদের কোনো সংগঠন না থাকায় অসৎ সিন্ডিকেট ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কেউ দাঁড়াতে পারছে না। এর ফলে বিভিন্ন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান জরিমানা প্রদান শেষে পুনরায় একই অপকর্মে লিপ্ত হচ্ছে, যা মোটেই কাম্য নয়। আমরা আশা করব, আইনের সর্বোচ্চ প্রয়োগ ঘটিয়ে এবং সচেতনতামূলক বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের মাধ্যমে সরকার হলুদসহ প্রচলিত খাদ্যপণ্যে ভেজাল ও রাসায়নিক প্রয়োগের বিস্তার রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ