খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী ইফতির

আবরার হত্যায় ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহাসহ আরও তিনজন গ্রেফতার

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৩৫:০০

বুয়েট ছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় আলোচিত ছাত্রলীগ নেতা অমিত সাহা, আবরারের রুমমেট মোঃ মিজানুর রহমান, এবং এজাহারভুক্ত আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে গ্রেফতার করেছে গোয়েন্দা পুলিশ। এ নিয়ে আলোচিত এ মামলায় মোট ১৬ জনকে গ্রেফতার করা হল, যাদের মধ্যে তিনজনের নাম মামলার এজাহারে ছিল না।
সিভিল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ছাত্র অমিত সাহা বুয়েট ছাত্রলীগের আইন বিষয়ক উপ-সম্পাদক। আলোচিত এ হত্যাকান্ডের অন্যতম সন্দেহভাজন হিসেবে তার নাম আসার পরও মামলায় তার নাম না থাকা নিয়ে গত দু’দিন ধরেই নানা আলোচনা চলছিল।
ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (মিডিয়া) মাসুদুর রহমান জানান, বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে রাজধানীর সবুজবাগ এলাকায় এক আত্মীয়ের বাসা থেকে অমিতকে গ্রেফতার করা হয়। বুয়েটের শেরে বাংলা হলের যে ২০১১ নম্বর কক্ষে গত রবিবার রাতে কয়েক ঘণ্টা ধরে নির্যাতন চালিয়ে আবরার ফাহাদকে হত্যা করা হয়, সেই কক্ষেরই আবাসিক ছাত্র অমিত। সেদিন আবরারকে ওই কক্ষে ডেকে নেওয়ার আগে অমিত মেসেঞ্জারে আবরারের খোঁজ করেন তার এক সহপাঠীর কাছে, যার স্ক্রিনশট পরে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।
তড়িৎ কৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র আবরার থাকতেন শেরে বাংলা হলের ১০১১ নম্বর কক্ষে। তার রুমমেট মোঃ মিজানুর রহমানকেও বৃহস্পতিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই কক্ষ থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মিজান বুয়েটের ওয়াটার রির্সোসেস ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র। আবরারের বাবার করা হত্যা মামলায় ১৯ জনের মধ্যে মিজানেরও নাম ছিল না। ওই মামলার এজাহারের ১১ নম্বর আসামি হোসেন মোহাম্মদ তোহাকে বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে গাজীপুরের মাওনা থেকে গ্রেফতার করা হয় বলে উপ-কমিশনার মোহাম্মদ মাসুদুর রহমান জানান। যন্ত্র প্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র তোহা থাকতেন শেরে বাংলা হলের ২১১ নম্বর কক্ষে। তিনিও হল শাখা ছাত্রলীগের সঙ্গে জড়িত ছিলেন বলে শিক্ষার্থীদের ভাষ্য।
বুয়েট ছাত্রলীগের কয়েকজন গত রবিবার রাতে আবরারকে ডেকে নিয়ে যায় ২০১১ নম্বর কক্ষে। ফেসবুকে মন্তব্যের সূত্র ধরে শিবির সন্দেহে জিজ্ঞাসাবাদের এক পর্যায়ে তাকে লাঠি ও ক্রিকেট স্টাম্প দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করা হয় বলে পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে।
বুয়েট ছাত্রলীগের নেতা-কর্মীরাই যে মাতাল অবস্থায় আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করেছে, তা উঠে এসেছে ক্ষমতাসীন আ’লীগের এই ভ্রাতৃপ্রতীম সংগঠনের নিজস্ব তদন্তেও। বুয়েট ছাত্রলীগের ১১ জনকে ইতোমধ্যে সংগঠন থেকে বহিষ্কারও করা হয়েছে। হত্যাকান্ডের পর সোমবারই এ মামলার দশ আসামিকে গ্রেফতার করে পুলিশ। মঙ্গলবার গ্রেফতার করা হয় আরও তিনজনকে। ওই ১৩ জনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ইতোমধ্যে ৫ দিন করে রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ। 
এদিকে বৃহস্পতিবার ডিবি কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের প্রধান অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক মনিরুল ইসলাম বলেন, এজাহারে নাম না থাকলেও তদন্তে তাদের সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে কারণে তাদের গ্রেফতার করা হয়েছে। তিনি বলেন, প্রথম দফায় গ্রেফতার হওয়া দশ বুয়েট শিক্ষার্থীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং তথ্যপ্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে ওই হত্যাকান্ডে তাদের জড়িত থাকার বিষয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়েছে। যাদের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। আবরার হত্যাকান্ডে অভিযুক্তদের অধিকাংশই ছাত্রলীগের রাজনীতি করে বলে প্রমাণিত হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে মনিরুল বরেন, কে কোন দলের সাথে জড়িত, পদ-পদবী কি তা আইনে দেখার সুযোগ নেই, এটি দেখাও হচ্ছে না। পাশাপাশি সামাজিক অবস্থান তদন্তের ক্ষেত্রে যেন প্রভাব বিস্তার না করে সে ব্যাপারে চৌকশ টিমগুলো কাজ করছে। 
আবরার হত্যার বিষয়ে কোনো তথ্য থাকলেও তা পুলিশকে দেওয়ার অনুরোধ জানিয়ে তিনি বলেন, আবরার হত্যার চার্জশীট যখন বিচারে উঠবে, তখন সাক্ষ্যপ্রমাণগুলো আবার নতুনভাবে উপস্থাপিত হবে। বিচারক নিরপেক্ষভাবে সেগুলো বিচার করবেন, তখন এই সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে বিচার কাজ সম্পন্ন হবে। কারও কাছে কোনো তথ্য থাকলে তা আমাদের জানান।
প্রথম স্বীকারোক্তি ইফতির : বুয়েটছাত্র আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডে গ্রেফতার আসামিদের মধ্যে প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছেন ইফতি মোশাররফ সকাল। বুয়েটের বায়ো মেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ইফতি বুয়েট ছাত্রলীগের উপ-সমাজসেবা সম্পাদক ছিলেন।
রিমান্ডে থাকা ইফতি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিতে রাজি হয়েছেন জানিয়ে বৃহস্পতিবার দুপুরে তাকে ঢাকার হাকিম আদালতে নিয়ে যায় পুলিশ। দুপুর থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তিনি মহানগর হাকিম সাদবির ইয়াসির আহসান চৌধুরীর আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দেন বলে জানান ঢাকা মহানগর পুলিশের অপরাধ তথ্য ও প্রসিকিউসন বিভাগের কর্মকর্তা উপ-কমিশনার জাফর হোসেন। তিনি বলেন, “ইফতি মোশাররফ সকাল আদালতে বিচারকের খাস কামরায় ১৬৪ ধারায় জবানবন্দী দিয়েছেন।”
জবানবন্দীতে এই আসামি কী বলেছেন-জানতে চাইলে জাফর বলেন, “কারও নাম বলেছেন কি না, নিজেকে জড়িয়েছে কি না বা নিজেকে বাইরে রেখে অন্যদের জড়িয়েছে কি না, একথা আমি বলতে পারব না। “আমি জবানবন্দীটি দেখিনি। আদালতের সাধারণ নিবন্ধন কর্মকর্তা জবানবন্দীটি এনে দিলে আমি সিলগালা করে রেখে দিয়েছি।” জবানবন্দি নেওয়ার পর বুয়েটছাত্র ইফতিকে কারাগারে পাঠিয়ে দেন বিচারক।
আবরার হত্যাকাণ্ডের পরপরই সোমবার যে ১০ জন গ্রেফতার হন, তার একজন হলেন ইফতি। তাকেসহ ওই ১০ জনকে পাঁচ দিনের হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছিল পুলিশ। তার মধ্যে ইফতিই প্রথম স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিলেন।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









১০ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১০৪

১০ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১০৪

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৭





ব্রেকিং নিউজ