খুলনা | শনিবার | ২৫ জানুয়ারী ২০২০ | ১২ মাঘ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বান্দার দো’আ আল্লাহ’র অধিক পছন্দের

মুহাম্মদ মাহফুজুর রহমান আশরাফী | প্রকাশিত ১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২১:০০

মানব জাতি মহান আল্লাহর সৃষ্টি। জগতে যা কিছু সৃষ্টি মহান আল্লাহ্ তায়ালা মানুষের জন্য করেছেন। আর মানুষকে সৃষ্টি করেছেন ইবাদত ও দুনিয়ার খিলাফতের জন্য মানুষ ভুল করবে এটাই স্বাভাবিক তার জন্য রয়েছে “তাওবাহ” এর ব্যবস্থা। আর যখন কোন কিছুর প্রয়োজন হবে, তখন দোয়ার মাধ্যমে মহান আল্লাহর দরবারে প্রার্থনা করবে, কেননা দোয়া হচ্ছে একটি ইবাদত। মহান আল্লাহর কাছে কিছু চাওয়া হলো দোয়া। মহান আল্লাহর রহমতের ভান্ডার বান্দার জন্য সবসময় খোলা থাকে। আল্লাহর কাছে চাইলে তিনি অনেক খুশী হন। পবিত্র কুরআনে উল্লেখ আছে, “তোমরা আমাকে ডাকো আমি তোমাদের ডাকে সাড়া দিবো ( মুমিন-৬০)”। অন্যত্র স্থানে উল্লেখ আছে, “তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করবো (বাকারাহ্ : ১৫২)”। নবী করিম (সাঃ) এরশাদ করেন, “আল্লাহর নিকট বান্দার দোয়া অপেক্ষা অধিক মূল্যবান জিনিস আর নাই।
মহান আল্লাহ্ তায়ালা আরো উল্লেখ করেন। “হে নবী আমার বান্দারা যখন আপনার কাছে আমার সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করে তখন আপনি তাদের বলে দিন আমি এত নিকটবর্তী যে কেউ যখন আমাকে ডাকে আমি তার ডাক শুনি অর্থাৎ তার দোয়া কবুল করি। সুতরাং তারা আমার কথা অন্তর দিয়ে গ্রহণ করুক এবং আমার প্রতি ইমান আনুক যাতে তারা সঠিক পথে এসে যায় (বাকারাহ্ : ১৮৬)”।
দোয়া’র আদব : দোয়া একটি ইবাদত। মহান আল্লাহ্র পক্ষ থেকে কোন কিছু পাওয়ার জন্য দোয়া করার সময় সঠিক আদব সহকারে দোয়া করতে হবে।
যেমন ঃ-
(১) একনিষ্ঠতার সাথে আল্লাহ্ কে ডাকা : দোয়া একমাত্র আল্লাহ্র কাছে করতে হবে। আল্লাহর সাথে অন্য কাউকে ডাকা যাবে না। মহান আল্লাহ্ বলেন, “মসজিদ সমূহ আল্লাহ্ তাআলার ইবাদতের জন্য, তোমরা আল্লাহ্র সাথে অন্য কাউকে ডেকো না (জিন : ১৮)”।
(২) আল্লাহর প্রশংসা করা ও রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দরুদ পাঠ করা : দোয়া করার আগে আল্লাহর হামদ ছানা বা প্রশংসা করতে হবে। সাথে সাথে রাসূল (সাঃ) এর প্রতি দরূদ পাঠ করতে হবে।
(৩) বিনয়, একাগ্রতা, আল্লাহর অনুগ্রহের আশা ও শান্তির ভয় থাকা : যখন বান্দা আল্লাহর নিকট দোয়া করবে, তখন বিনয়, একাগ্রতা, সাথে করবে। মহান আল্লাহর বানী “তোমার প্রতিপালককে মনে মনে ক্রন্দনরত ও ভীত সম্রন্ত অবস্থায় স্মরণ কর (আরাফ : ২০৫)”। মহান আল্লাহ্ তায়ালা আরো উল্লেখ করেন : “তারা সৎকর্মে ঝাঁপিয়ে পড়ত, তারা আশা ও ভীতি সহকারে আমাকে ডাকত এবং তারা ছিল আমার কাছে বিনীত (আম্বিয়া : ৯০)”।
(৪) দো’আর সময় নিজের দরিদ্রতা প্রকাশ করা, নিজের দুর্বলতা ও মুছীবতের কথা উল্লেখ করে দোয়া করা ঃ হযরত আইয়ুব (আঃ) যখন দুরা রোগ্য ব্যধিতে আক্রান্ত হলেন, তখন তিনি তাঁর অসুস্থতার কথা উল্লেখ করে আল্লাহর কাছে দোয়া করেন এভাবে, “স্মরণ করুন আইয়ুবের কথা, যখন তিনি তাঁর পালন কর্তাকে আহ্বান করে বলেছিলেন, আমি দুঃখ-কষ্টে পতিত হয়েছি এবং আপনি দয়াবানদের চাইতেও সর্বশ্রেষ্ঠ দয়াবান (আম্বিয়া : ৮৩)”। হযরত যাকারিয়া (আঃ) দোয়া করে ছিলেন এভাবে- “আর যাকারিয়ার কথা স্মরণ করুন, যখন সে তার পালন কর্তাকে আহ্বান করেছিল, হে আমার পালনকর্তা! আমাকে একা রেখোনা, তুমি তো উত্তম ওয়ারিছ (আম্বিয়া : ৮৯)”।
(৫) গুণাহের কথা স্মরণ করা : মহান আল্লাহ্ তায়ালার দরবারে দোয়া করার সময় নিজের গুনাহের কথা স্মরণ করবে ও লজ্জিত হয়ে দোয়া করবে। যেমন সাইয়্যেদুন ইস্তিগফারে রাসূল (সাঃ) শিখিয়েছেন। “হে আল্লাহ্! তুমি আমার প্রভু, তুমি ছাড়া কোন ইলাহ নেই। তুমি আমাকে সৃষ্টি করেছ! আমি তোমারই বান্দা! আমি যথাসাধ্য তোমার সাথে কৃত ওয়াদা পালনে বদ্ধপরিকর। আমি যা করেছি তার খারাপ প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য তোমার আশ্রয় চাই। তুমি আমাকে যেসব নেয়ামত দিয়েছ তা স্বীকার করি। আমি আমার অপরাধও স্বীকার করি। অতএব, আমাকে মাফ কর”।
(৬) নেক আমলের মাধ্যমে দোয়া করা : এ খানে ঐ প্রসিদ্ধ হাদিসটি উল্লেখযোগ্য, যে হাদিস বর্ণিত হয়েছে যে, একবার তিনজন লোক কোন গুহায় অটিকা পড়ে যায়, তখন তারা তাদের জীবনের উল্লেখযোগ্য নেক আমলের দ্বারা প্রার্থনা করতে লাগলেন। প্রথমজন পিতা-মাতার খেদমতের কথা। দ্বিতীয়জন ব্যভিচার থেকে বেঁচে থাকার কথা। তৃতীয় জন আমানত রক্ষা করার কথা উল্লেখ করে বলেন। “হে আল্লাহ্! আমি যদি তোমারই সন্তোষটি লাভের জন্য এ কাজ করে থাকি, তবে আমাদের এ বিপদ থেকে মুক্তি দাও। তার পর আল্লাহ্ তাদের ডাকে সাড়া দেন ও বিপদ থেকে রক্ষা করেন, সূত্র : (বুখারী- মুসলিম- ২৭৪৩, রিয়াবুছ ছালেহীন- ২/১২)”।
(৭) যাদের দোয়া কবুল হয় : পিতা-মাতার দোয়া রোযাদারের ইফতারির সময়ের দোয়া মজলুমের দোয়া, ন্যায়পরায়ন শাসকের দোয়া, আল্লাহ্র ওলীগনের দোয়া, হাজীগনের বাড়ি ফেরার দোয়া, মুসাফিরের দোয়া, অসুস্থ ও বিপদগ্রস্থ লোকের দোয়া, এক মুসলমান অন্য মুসলমানের জন্য যে দোয়া করে।
পরিশেষে বলা যায় যে, মহান আল্লাহর দরবারে কোন প্রকার হারাম ভক্ষনকারী দোয়া করলে সেই দোয়া কখন কবুল হবে না এবং অবৈধ পথে সম্পদ অর্জনকারীর জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না।  হালাল খানা খেয়ে মহান আল্লাহ্ তায়ালাকে ডাকতে পারি, আল্লাহ্ তায়ালা আমাদের সেই তাওফিক দান করুন। আমিন, ছুম্মা আমিন।
লেখক : বিশিষ্ট মুফাসসিরে কোরআন ও প্রভাষক, ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগ, মাতৃভাষা ডিগ্রী কলেজ, শরণখোলা, বাগেরহাট।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

২৪ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:০০

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

শরীয়ত ও প্রচলিত সামাজিক কুসংস্কার

১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০০:৩০



আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

আল-কুরআনে মৌমাছি ও মধু বিজ্ঞান 

২০ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০০:৩৯



ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

ফাতেহা-ই-ইয়াজদাহম  ৯ ডিসেম্বর

২৮ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫



বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

বিশ্ব ইজতেমার তারিখ ঘোষণা

২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৮



ব্রেকিং নিউজ












খুলনায় অস্থির চালের বাজার

খুলনায় অস্থির চালের বাজার

২৫ জানুয়ারী, ২০২০ ০১:১৫