খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

ইলিশ ধরায় আইনি নিষেধাজ্ঞার  পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি

১১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ইলিশ ধরায় আইনি নিষেধাজ্ঞার  পাশাপাশি জনসচেতনতাও জরুরি

গত ৯ অক্টোবর থেকে আগামী ৩০ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিন ইলিশ ধরা নিষিদ্ধ করেছে সরকার। এ সময়ে ইলিশের আহরণ, পরিবহন, মজুত, বাজারজাতকরণ, ক্রয়-বিক্রয় ও বিনিময় নিষিদ্ধ থাকবে। কিন্তু জেলেরা এই নির্দেশ কতটুকু মানছে, সেটা দেখার বিষয়। প্রতি বছরই দেখা যায়, সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কতিপয় অতি লোভি জেলে বিভিন্ন নদীতে কারেন্ট জালের মাধ্যমে মা ইলিশ ধরছে। অনেক স্থানে প্রশাসন অভিযান চালিয়ে এসব জাল ধরে পুড়িয়ে বিনষ্টের পাশাপাশি করছে জেল জরিমানা। এরপরও এসব অতিলোভীদের থামানো যাচ্ছে না। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। 
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী , এ সময়ে ৮০ শতাংশ মা ইলিশ ডিম ছাড়ে। একটি বড় ইলিশ ২৩ লাখ পর্যন্ত ডিম ছাড়তে পারে। আর এই ডিম পাড়ে মূলত মিঠা পানিতে। তাই আশ্বিনের পূর্ণিমার চার দিন আগে এবং পূর্ণিমার পর ১৮ দিন মোট ২২ দিন দেশের উপকূলীয় অঞ্চল, নদীর মোহনাসহ যেসব জেলা ও নদীতে ইলিশ পাওয়া যায়, সেখানে মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। মৎস্য বিভাগের গবেষণা অনুযায়ী ইলিশের মূল উৎপাদন কেন্দ্র ছয়টি অভয়াশ্রম হচ্ছে, উত্তর-পূর্বে চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার শাহেরখালী থেকে হাইতকান্দী, দক্ষিণ-পূর্বে কক্সবাজারের কুতুবদিয়া উপজেলার উত্তর কুতুবদিয়া পয়েন্ট, উত্তর-পশ্চিমে ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার উত্তর তজুমদ্দিন-সৈয়দ আশুলিয়া পয়েন্ট, দক্ষিণ-পশ্চিমে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার লতাচাপলী পয়েন্ট এবং বরিশালের আড়িয়াল খাঁ, নয়াভাঙ্গুনী ও কীর্তনখোলার আংশিক। ইলিশ অভয়াশ্রমের বেশিরভাগ চাঁদপুর, বরিশাল, ভোলা, পটুয়াখালী ও পিরোজপুর জেলা সংলগ্ন নদ-নদীগুলো। তাই নিষেধাজ্ঞা কার্যকরে বরিশাল বিভাগ ও চাঁদপুর জেলাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছে মৎস্য অধিদপ্তর। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ মাছ রক্ষা অবশ্যই জরুরি একটি পদক্ষেপ। এ সময় এই ডিমওয়ালা মাছগুলোকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই দরকার।  এ ক্ষেত্রে কঠোরতা আরোপের প্রয়োজন রয়েছে। বিগত কোনো কোনো বছর প্রজনন মৌসুম যথাযথভাবে শনাক্ত করার ক্ষেত্রে গলদ থাকার ফলে সংরক্ষণের সময় পার হওয়ার পরও ঝাঁকে ঝাঁকে ডিমওয়ালা মাছ ধরা পড়তে দেখা গেছে।
প্রজনন সময়ে জেলেদের ইলিশ আহরণ থেকে পুরোপুরি বিরত রাখা অতীতে কখনোই সম্ভব হয়নি। এ সময়ে জেলেদের জন্য বিকল্প আয়ের ব্যবস্থা না করা হলে, তাদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখা সম্ভব হবে কিনা, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাবে। আমরা মনে করি, এই ২২ দিন মাছ ধরার ওপর নির্ভরশীল দেশের উপকূলীয় এলাকার কয়েক লাখ জেলের জন্য বিকল্প আয়ের বা আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করা খুবই দরকার। এ ছাড়া দরকার এ ব্যাপারে গণসচেতনতা তৈরি করা। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তৎপরতার পাশাপাশি স্থানীয় সচেতন মানুষের নজরদারি নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষা ও জাটকা রক্ষার পদক্ষেপ পুরোপুরি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রুপালি ইলিশের সুদিন আমাদের হাতছাড়া হবে না। এর জন্য ইলিশ আহরণকারী, ব্যবসায়ী, ভোক্তা সবার সচেতন ও সংযমী ভূমিকা প্রত্যাশি।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ





বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

বিশ্ব ডায়াবেটিস দিবস আজ

১৪ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০


ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

ঘূর্ণিঝড়ে ঢাল হলো সুন্দরবন

১২ নভেম্বর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ