খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২১ নভেম্বর ২০১৯ | ৬ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ডুমুরিয়ার আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ  নূরুদ্দীন-আল-মাসুদের ইন্তেকাল

ডুমুরিয়া প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪৭:০০

ডুমুরিয়ার আ’লীগ নেতা অধ্যক্ষ  নূরুদ্দীন-আল-মাসুদের ইন্তেকাল

ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বানিয়াখালি মাওলানা ভাসানী মহাবিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ নূরুদ্দীন-আল-মাসুদ গত মঙ্গলবার রাত ১১টায় ইন্তেকাল করেছেন (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন...আমরা তো আল্লাহর  এবং আমরা আল্লাহর কাছেই ফিরে যাবো)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। মৃত্যুকালে তিনি খুলনা পাবলিক কলেজের শিক্ষক স্ত্রী, এক ছেলে ও দুই মেয়েসহ অসংখ্য সমর্থক গুণগ্রাহী রেখে গেছেন। গতকাল বুধবার সকাল ১০টায় বয়রা পাবলিক কলেজ মাঠে তার প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। সকাল সাড়ে ১১টায় ডুমুরিয়া উপজেলা জামে মসজিদের সামনে দ্বিতীয় জানাজা ও সেখান থেকে তার মরদেহ বানিয়াখালি কলেজ মাঠে নেয়া হয়। দুপুর ২টার পর সেখানে তৃতীয় জানাজা শেষে গ্রামের বাড়ি সেনপাড়ায় মায়ের কবরের পাশে তাকে দাফন করা হয়। 
পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ বছর যাবৎ অধ্যক্ষ নূরুদ্দীন দূরারোগ্য কিডনি রোগে ভুগছিলেন। তার মধ্যে ৩ বছর ধরে ব্যয়বহুল ডায়লাইসিস (রক্ত পরিশুদ্ধকরণ) চলছিল। তাছাড়া তিনি ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত ছিলেন। গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে নগরীর বয়রাস্থ বাড়িতে হঠাৎ তিনি স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। কিছু সময়ের মধ্যে তাকে একটি বে-সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
অধ্যক্ষ নূরুদ্দীন-আল-মাসুদ দৌলতপুর বিএল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে পড়াকালে ছাত্র ইউনিয়নের রাজনীতি করতেন। পরে এলাকায় ফিরে সিপিবি’র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন। ১৯৯০ সালে তিনি সিপিবি’র ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হন। ১৯৯২ সালে ওই পার্টির সিদ্ধান্তে শরাফপুর ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে নির্বাচন করে বিজয়ী হন। সেই থেকে টানা ৩ মেয়াদে ২০১১ সাল পর্যন্ত সুনামের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পরপরই নূরুদ্দীন-আল-মাসুদ ১৯৯৩ সালে উপজেলার অবহেলিত-অনগ্রসর দক্ষিণাঞ্চল তথা শরাফপুর-বানিয়াখালি এলাকার শিক্ষা বিস্তারে নিজের বাবা’র জমি দিয়ে বানিয়াখালি বাজারের পাশেই ‘বানিয়াখালি মাওলানা ভাসানী কলেজ’ প্রতিষ্ঠা করেন। পরে তিনি আওয়ামী লীগে যোগ দেয়ার পর ২০০৪ সালের সম্মেলনে ডুমুরিয়া উপজেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরে ২০১৫ সালের সম্মেলনেও তিনি সাধারণ সম্পাদক পুনঃনির্বাচিত হন। 
ডুমুরিয়া উপজেলা জামে মসজিদে জানাজা’র আগে মরহুমের প্রতি গভীর শোক ও পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বক্তব্য দেন, খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ, ডুমুরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি নারায়ণ চন্দ্র চন্দ এমপি, পাইকগাছা উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী মোহাম্মদ আলী, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপি’র আহ্বায়ক মোল্লা মোশারফ হোসেন মফিজ। উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ নেতা মোস্তফা কামাল খোকন, শোভা রাণী হালদার, আনোয়ার ইকবাল মন্টু, আনন্দ মোহন বিশ^াস, সরদার আবু সাঈদ, শেখ নাজিবুর রহমান, শেখ হেফজুর রহমান, শাহনেওয়াজ হোসেন জোয়াদ্দার, সরদার আবু সালেহ, খান আবু বক্কার, সরদার আব্দুল গনি, ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ, ভাইস-চেয়ারম্যান গাজী আবদুল হালিম, সরদার জাকির হোসেন,  জি এম ফারুক হোসেন, কাজী আলমগীর হোসেন, মোল্লা সোহেল রানা, এস এম জাহাঙ্গীর আলম, খান শাকুর হোসেন, রবিউল ইসলাম রবি, প্রতাপ রায়, খান নজরুল ইসলাম, প্রভাষক গোবিন্দ ঘোষ, খান আবুল বাসার, মাসুদ রানা প্রমুখ। 
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ