খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে হলে তল্লাশি হবে : প্রধানমন্ত্রী

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৪:০০

ভারতের কাছে গ্যাস বিক্রির চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বাংলাদেশ এলপিজি রপ্তানি করবে, প্রাকৃতিক গ্যাস নয়; এ নিয়ে ভুল বোঝাবুঝিরও কোনো অবকাশ নেই। গতকাল বুধবার বিকেলে গণভবনে এক সংবাদ সম্মেলনে ভারতের সঙ্গে করা চুক্তি নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। 
শেখ হাসিনা বলেন, “আমরা বিদেশ থেকে এলপিজি এনে প্রক্রিয়াজাত করে ভারতে রপ্তানি করব। এটা প্রাকৃতিক গ্যাস নয়।” দেশে প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রকৃত মজুদ কত, তা না জেনে রপ্তানি করার কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলেও তিনি আশ্বস্ত করেন। 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এলপিজি বাংলাদেশে উৎপাদিত হয় না, বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। গ্যাস উত্তোলনের সময় বাই প্রডাক্ট হিসেবে এলজি পাওয়া যায়। “ত্রিপুরায় যে গ্যাসটা দিচ্ছি তা আমদানি করা এলপিজি, বটল গ্যাস। অন্য পণ্য যেমন আমরা রপ্তানি করি, ঠিক তেমন। এটা নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কিছু নেই।” সাম্প্রতিক ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র সফরের অভিজ্ঞতা জানাতে প্রধানমন্ত্রীর এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের স্বার্থ শেখ হাসিনা বিক্রি করে দেবে এটা কখনও হতে পারে না।” তিনি বলেন, “যারা এর বিরোধিতায় সোচ্চার মানে, বিএনপি, ২০০১ সালের কথা মনে করিয়ে দিতে চাই। আমেরিকা গ্যাস বিক্রির জন্য বলেছিল, আমি বলেছিলাম দেশের চাহিদা মিটিয়ে আমরা তারপর বিক্রি করব। যে কারণে ২০০১ সালে আমরা ক্ষমতায় আসতে পারিনি। আর যারা গ্যাস বিক্রি করে দিচ্ছে বলছে, তারাই গ্যাস দেবে বলে মুচলেকা দিয়ে ক্ষমতায় এসেছিল।”
শেখ হাসিনা বলেন, ‘তিস্তা নিয়ে আলোচনা অব্যাহত আছে। তিস্তা ছাড়াও আরও সাতটি নদী নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। আসামের এনআরসি নিয়ে অসুবিধা হয়নি। এটা নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।’ ভারতে সফরে গিয়ে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে বৈঠকে তিস্তা পানিবণ্টন চুক্তি ও এনআরসি নিয়ে কতটা আশ্বস্ত হলেন একজন সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে এ উত্তর দেন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রী এ সময় আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী মোদির কাছে আমি আসামের এনআরসি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ পর্যন্ত অসুবিধা হয়নি, আর হওয়ারও কথা নয়। তাহলে যেখানে অসুবিধাই হয়নি সেখানে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু দেখি না।’
ভারতের ত্রিপুরা রাজ্যের সঙ্গে ফেনী নদীর পানি বণ্টন চুক্তি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘যে চুক্তিটা হয়েছে সেটা তাদের খাবার পানির জন্য। তারা যখন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তোলে, সেটার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়ে। তাই নদী থেকে সামান্য পানি দিচ্ছি। কেউ যদি পানি পান করতে চায়, আর আমরা না দেই, সেটা কেমন দেখা যায়?’
এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বলেন তো ফেনী নদীর উৎপত্তিস্থল কোথায়? এটা খাগড়াছড়িতে। এটা বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী একটা নদী। এর ৯৪ কিলোমিটার সীমান্তে, ৪০ কিলোমিটার বাংলাদেশের ভেতরে। সীমান্তবর্তী নদীতে দুই দেশেরই অধিকার থাকে। যে চুক্তিটা হয়েছে, সেটা ত্রিপুরাবাসীর খাবার পানির জন্য। তারা যখন আন্ডারগ্রাউন্ড থেকে পানি তোলে, সেটার প্রভাব আমাদের দেশেও পড়ে। তাই নদী থেকে সামান্য পানি দিচ্ছি। সব জায়গায় আমরা নিজেদের স্বার্থ রক্ষা করেছি। যেটুকু পানি নিয়েছে, ততটুকু আমাদের অংশে পড়েছে বলেই চুক্তি করেছি।’ 
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বুয়েট শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে যারা ‘পিটিয়ে পিটিয়ে অমানবিকভাবে’ হত্যা করেছে, তাদের কঠিনতম শাস্তি হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “কেউ যদি কোনো অপরাধ করে, সে কোন দল, কী করে না করে, আমি কিন্তু সেটা দেখি না। আমার কাছে অপরাধী অপরাধীই। আমরা অপরাধী হিসেবেই দেখি।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এ নৃশংসতা কেন? এই জঘন্য কাজ কেন? এদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিচ্ছি। যতরকমের উচ্চ শাস্তি আছে সেটা দেওয়া হবে। কোন সন্দেহ নেই। দল-টল বুঝি না। অপরাধের বিচার হবেই।”
আ’লীগের কেউ এ ধরনের ঘটনা ঘটাবে, তা কখনোই মেনে নেবেন না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ঘটনা জানার পর তিনি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকে বলেছেন, জড়িতদের যেন বহিষ্কার করা হয়। এখানে আমি বিবেচনা করব না কিসের ছাত্রলীগ। অপরাধী অপরাধীই। অন্যায় করেছে, সে অন্যায়কারী। তার বিচার হবে। কারও দাবি-টাবির অপেক্ষায় থাকি না। আগেই আমি নির্দেশ দিয়ে দিয়েছি। গ্রেফতার হয়েছে।”
‘ফুটেজ সংগ্রহে বাধা দিল কারা?’ : সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বুয়েটে যে ঘটনা ঘটেছে। এই ঘটনা খুব সকাল বেলা জানার সঙ্গে সঙ্গে  পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছিলাম আলামত সংগ্রহ করার জন্য। সাথে সাথে এটাও বলেছিলাম যে সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করতে। তারা সেখানে পৌঁছে যায়। আলামত সংগ্রহ করে এবং সিসিটিভি ফুটেজগুলো দীর্ঘসময় ধরে সংগ্রহ করে। “যখন পুলিশ সিসি ক্যামেরা থেকে ফুটেজ হার্ডডিস্কে নিয়ে আসছে তখন তাদেরকে ঘেরাও করা হল। তাদেরকে ফুটেজ নিয়ে আসতে দেওয়া হবে না। আইজিপি যোগাযোগ করল, বলল, ‘আমাদের লোকদের আটকে রেখে দিয়েছে। আলামত নিয়ে আসতে দিচ্ছে না’।”
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ফুটেজগুলো আনতে দেবে না কেন? তারা বলছে, ফুটেজগুলো পুলিশ নষ্ট করবে। পুলিশ গেছে আলামত সংগ্রহ করতে। ডেডবডির যাতে পোস্টমর্টেম  হয়, সে ব্যবস্থা করা হল। ছাত্ররা নামার আগেই সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া কোন রুম, কোথায়, কারা ছিলো যেটাকে পারো সবকটাকে ধরে এ্যারেস্ট করো। যে কটাকে হাতে পেয়েছি সবগুলোকে এ্যারেস্ট করা হয়েছে।“
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “কে ছাত্রলীগ, কে ছাত্রদল কে, কী করে আমি সেটা বিবেচনা করিনি। আমি বিবেচনা করেছি অন্যায়ভাবে একটা বাচ্চা ছেলে ২১ বছরের ছেলে পিটিয়ে পিটিয়ে কি অমানবিক! “পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন। বাইরে অত ইনজুরি নেই, সমস্ত ইনজুরি ভিতরে। শেখ হাসিনা বলেন, “স্বাভাবিকভাবে এটা সন্দেহের বিষয়। এরা কারা? হ্যাঁ, ক্ষমতায় থাকলে অনেকে দল করতে আসে। কিছু লোকতো আছে পার্মানেন্ট গভর্মেন্ট পার্টি। এরকম কিছু থাকে। যারা এ ধরনের ঘটনা ঘটায় তারা আমার পার্টির এটাতো আমি কখনোই মেনে নেব না। আমি সঙ্গে সঙ্গে ছাত্রলীগকে ডেকেছি। সবগুলোকে বহিষ্কার করতে বলেছি। পুলিশকে বলেছি এ্যারেস্ট করতে। ”
ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের বিপক্ষে : আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর বুয়েট শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ থেকে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের যে দাবি উঠেছে, তা নাকচ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে তিনি বলেছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হিসেবে বুয়েট তাদের ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে পারে।
এক প্রশ্নের জবাবে শেখ হাসিনা বলেন, আর একটা ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি উঠাবে যে ছাত্র রাজনীতি ব্যান। আমি নিজেই যেহেতু ছাত্র রাজনীতি করে এসেছি। সেখানে আমি ছাত্র রাজনীতি ব্যান বলব কেন?”
বাংলাদেশে ছাত্র আন্দোলনের উজ্জ্বল ইতিহাস তুলে ধরে তা কলুষিত করার জন্য সামরিক শাসকদের দায়ী করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হলে তল্ল¬াশি করা হবে : শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হলগুলোতে উচ্ছৃঙ্খলতা, অনিয়ম বের করতে তল¬াশি (সার্চ) চালানো হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি  বলেন, ‘আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী সংস্থাকে বলব, যখন এই ঘটনা একটা জায়গায় ঘটেছে সেখানে এক রুম নিয়ে বসে জমিদারি চাল চালানো, তাহলে প্রত্যেকটা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা দরকার। কোথায় কি আছে না আছে খুঁজে বের করা এবং এ ধরনের কারা মাস্তানি করে বেড়ায়, কারা এই ধরনের ঘটায় সেটা দেখা।’ 
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সামান্য টাকায় সিট ভাড়ায় একেকজন রুমে থাকবে আর তারপর সেখানে বসে এই ধরনের মাস্তানি করবে আর সমস্ত খরচ বহন করতে হবে জনগণের ট্যাক্সের পয়সা দিয়ে। সেটা কখনো গ্রহণযোগ্য না। সারাদেশের প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, প্রতিটি হল সব জায়গায় সার্চ করা হবে এবং দেখা হবে সেই নির্দেশ দিয়ে দেব।’
তল্ল¬াশি চালানোর ব্যাপারে শেখ হাসিনা সাংবাদিকদের সহযোগিতা চেয়ে বলেন, ‘কোথায় অনিয়ম, উচ্ছৃঙ্খলতার মতো কর্মকাণ্ড কারা করছে। কোনো দল-টল আমি বুঝি না।’
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









১০ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১০৪

১০ মাসে ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১০৪

২২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:২৭





ব্রেকিং নিউজ