খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

অকাল বন্যার কবল থেকে বাচতে গঙ্গার শুষ্ঠু পানি বন্টন জরুরী

১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

অকাল বন্যার কবল থেকে বাচতে গঙ্গার শুষ্ঠু পানি বন্টন জরুরী

অভিন্ন নদীর পানি নিয়ে বাংলাদেশের মানুষের ক্ষোভ বহু পুরানো। এটি সবচেয়ে বেশি উচ্চারিত হয় গঙ্গা নদীর ওপর নির্মিত ফারাক্কা বাঁধকে ঘিরে। শুকনা মৌসুমে এই বাঁধের স্লুইজ গুলো বন্ধ করে দিয়ে পানি আটকে দেয় ভারত। বর্ষা মৌসুমে বাঁধের স্লুইজ গুলো খুলে পানি ছেড়ে দেয় বাংলাদেশের দিকে। এবারও তার ব্যত্যয় ঘটেনি। ফলে পদ্মায় পানি বিপদসীমা ছুঁই ছুঁই। মানুষের মতো পশুর জীবনও বিপন্ন। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বহু মানুষ লিখছেন, এবার যে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে, তার জন্যও ভারতই দায়ী। শুকনা মৌসুমে ফারাক্কা বাঁধের মাধ্যমে যেভাবে পানি আটকে রাখা হয়, তা বর্ষা মৌসুমেও করা হলে বাংলাদেশে এতটা বন্যা হতো না। কিন্তু গঙ্গা চুক্তিতে এমন বিধান তো আসলে নেই। চুক্তিতে শুকনা মৌসুমের অল্প পানি ‘ন্যায়সংগতভাবে’ ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা বাংলাদেশ-ভারত করেছে। কিন্তু বর্ষা মৌসুমে বেশি পানির বোঝা দুই দেশ ন্যায়সংগতভাবে বহন করবে এমন কোনো বিধান নেই গঙ্গা চুক্তিতে। সমস্যাটা রয়েছে বাংলাদেশ-ভারতের চুক্তিগুলোতে। যে কারনে অকালে ডুবছে বাংলাদেশ।
১৯৭৭ সাল থেকে ১৯৯৬ সাল পর্যন্ত যতোগুলো চুক্তি হয়েছে, তাতে দুই দেশের মধ্যে বছরে মাত্র পাঁচ মাসের (জানুয়ারি থেকে মে মাস) পানি ভাগভাগির কথা বলা হয়েছে। ভরা মৌসুমের পানি অতিকায় প্রকল্পের মাধ্যমে ধরে রেখে বন্যার প্রকোপ কমানো এবং তা শুকনা মৌসুমে ব্যবহার করার চিন্তাও এসব চুক্তিতে ছিল। কিন্তু প্রকল্পটির ধরন কি হবে, কোথায় এটি হবে এবং এতে নেপালকে সংযুক্ত করা হবে কি না, এসব বিরোধে এটি আর বাস্তবায়িত হয়নি। ফলে ভরা মৌসুমে ফারাক্কা পয়েন্ট দিয়ে অবাধে আসা বন্যার তোড় অনেক বেশি বহন করতে হচ্ছে বাংলাদেশকে।ইতোমধ্যে পদ্মা নদীতে পানি বাড়ায় ডুবে গেছে বসতবাড়ি। পোষা ছাগল নিয়ে নৌকায় আশ্রয় নিয়েছে কয়েকটি পরিবার। এটি ঠিক যে ফারাক্কা ব্যারাজ নির্মিত না হলেও ভরা মৌসুমের এই পানি বাংলাদেশেই আসত। কিন্তু এটি তখন হতো প্রাকৃতিকভাবে। বহু বছর ধরে শুকনা মৌসুমে গঙ্গা থেকে কম বা খুবই কম পানি পেয়ে বাংলাদেশের নদীকেন্দ্রিক ভূপ্রকৃতি ও জীববৈচিত্রের বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এই ক্ষতিটা ফারাক্কা বাঁধ না থাকলে হতো না। বর্ষা মৌসুমে বাংলাদেশে পদ্মা ও এর শাখা নদীগুলোর গতিপথ, স্রোত ও গভীরতা তখন প্রাকৃতিকভাবেই নির্ধারিত হতো। প্রকৃতিকে নিজের মতো চলতে দিলে বন্যায় ক্ষতির চেয়ে লাভই হয়তো বেশি হতো বাংলাদেশের।
ভারত-বাংলাদেশ গঙ্গা চুক্তিগুলোর বড় সমস্যা হচ্ছে চুক্তির ধারাগুলো অববাহিকাভিত্তিক নয়। বর্তমানে পৃথিবীর অধিকাংশ অঞ্চলে নদীকে যৌথ সম্পদের মতো বিবেচনা করে অববাহিকার সব রাষ্ট্র মিলে সমন্বিতভাবে এর উন্নয়ন, ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনা করে থাকে। লক্ষ্য থাকে যেকোনো দেশকে বড় ক্ষতি থেকে রক্ষা করা, নদীর পানির টেকসই ব্যবহার করা এবং নদীটির ও এর প্রতিবেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য বজায় রাখা। ভারত-বাংলাদেশ ১৯৯৬ সালের চুক্তিতে এর বহু কিছুই করা হয়নি। এতে নেপালকে রাখা হয়নি, এমনকি উত্তর প্রদেশ ও বিহারে গঙ্গার পানি ব্যবহারকে সমন্বিত করা হয়নি। এসব রাজ্য ও পশ্চিমবঙ্গে গঙ্গার পানি একতরফা ব্যবহারের পর লেজের অংশে থাকা অবশিষ্ট পানি ভাগাভাগি করার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই পানি বাংলাদেশের চাহিদার তুলনায় নিদারুণভাবে কম।
ভারতের প্রতি বাংলাদেশের মানুষ ভবিষ্যতে আরও অভিযোগ করবে। তার মধ্যে কখনো কখনো হয়তো অতিরঞ্জন থাকবে। কিন্তু এটা বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে সরকারের অতিরঞ্জনের স্বাভাবিক প্রতি-বয়ান। এর জন্য মানুষ দায়ী না, দায়ী ভারত-বাংলাদেশের নীতিনির্ধারকেরা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ