খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

অভয়নগরে মহাসড়কে ৩ চাকার যান চলাচল বন্ধ করায় এলাকাবাসীর ভোগান্তী বেড়েছে

অভয়নগর প্রতিনিধি | প্রকাশিত ০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ২৩:০০:০০

অভয়নগরে মহাসড়কে ৩ চাকার যান চলাচল বন্ধ করায় এলাকাবাসীর ভোগান্তী বেড়েছে

অভয়নগর থানা ও নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা গত কয়েক দিনে যৌথ অভিযান চালিয়ে যশোর- খুলানা মহাসড়ক থেকে তিন চাকার সকল ধরনের যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে সড়কে বিকল্প যানবাহন না থাকায় ভোগান্তীর শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী। এতে শত শত চালক বেকার হয়ে পড়ায় তারা এলাকার সকল সংযোগ সড়কে তিন চাকার যানবাহন চলাচলের ওপর ধর্মঘট পালন করে। তারা মানববন্ধন ও স্মারক লিপি দেয়ার কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
জানা গেছে, সড়কে দুর্ঘটনা এড়াতে হাইকোর্টের নির্দেশ বাস্তবায়ন করছে অভয়নগর থানা ও নওয়াপাড়া থানা পুলিশ। গত ২৭ সেপ্টেম্বর থেকে মহাসড়ক থেকে তিন চাকা ব্যাটারী চালিত ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, আলম সাধু, মাহেন্দ্র সহ সকল ধরনের যানবাহনের ওপর চলছে অভিযান। অভিযানে বন্ধ হয়ে যাওয়া যানবাহনের চালকেরা বেকার হয়ে পড়ায় অনির্দিষ্ট কালের ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে। তারা এলাকার সংযোগ সড়কে চলাচলকারি তিন চাকার যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। এতে উপজেলার গ্রাম গুলোতে মালামাল পরিবহন ও যাতায়তে মারাত্মক ভোগান্তি শিকার হচ্ছে এলাকাবাসী।
চালকদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, অভয়নগরে প্রায় ১৩ হাজারের মত ব্যাটারী চালিত ভ্যান, রিকশা, ইজিবাইক, ইঞ্জিনচালিত নসিমন, করিমন, আলম সাধু, মাহেন্দ্র রয়েছে। এ পর্যন্ত অভয়নগর থানা এবং নওয়াপাড়া হাইওয়ে থানা পুলিশ শতাধিক যান আটক করা হয়েছে বলে চালকদের নেতারা জানিয়েছে। নেতারা বলছেন, আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকলেও দেশের সর্বত্র থ্রি হুইলার গাড়ি চলছে। কোথাও হয়রানি করা হচ্ছে না। শুধুমাত্র অভয়নগরে আমাদের উপর খবরদারি করা হচ্ছে। এখানে সব জায়গায় ডাইভারসন রোডও নাই। বাধ্য হয়ে তারা ধর্মঘটের ডাক দিয়েছেন। এদিকে উপজেলার সর্বত্র থ্রি হুইলার না চলায় যাত্রী দুর্ভোগ বেড়েছে। উপজেলার  চলিশিয়া গ্রামের দূর্গাপদ দাস বলেন, রাস্তায় ভ্যান, অটোরিকশা না পেয়ে আমি সকালে বাড়ি থেকে তিন কিলোমিটার পথ হেটে নওয়াপাড়া বাজারে এসেছি। ফুলতলার দক্ষিণদিহি গ্রামের লিটন পালের পরিবারের লোকজনসহ গতকাল অভয়নগর উপজেলার ধোপাদী গ্রামের আত্মীয় বাড়ি বেড়াতে যাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ‘হঠাৎ করে ইজিবাইক না চলায় শেষ মুহূর্তে আর তারা আসতে পারিনি বলে জানালেন ধোপাদী গ্রামের নিত্যানন্দ পাল। ধোপদী গ্রামের আব্দুল খালেক বলেন, আমি নওয়াপাড়া বাজার থেকে গ্রামে দোকানের মালামাল নিয়ে যাওয়ার জন্য কোন যানবাহন পাইনি। তাই মাল কিনতে এসে খালি হাতে ফিরে যেতে হচ্ছে আমাকে। রাজঘাট গ্রামের ইজি বাইক চালক রবিউল ইসলাম জানান, সুদে করে টাকা ধার নিয়ে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দিয়ে একটি ইজিবাইক কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে ৫ হাজার টাকা তার কিস্তি দিতে হয়। বাইক চালানো বন্ধ করে দেয়ায় আমার পরিবার পথে বসেছে। বুইকারা গ্রামের নূর ইসলাম বলেন, ৪৫ হাজার টাকা সুদে করে ধার নিয়ে ইজি ভ্যান কিনেছি। প্রতি সপ্তাহে ২ হাজার ৬শ’ টাকা কিস্তি দিতে হয়। প্রতিদিন যা আয় হতো খেয়ে পড়ে ভালই চলে যাচ্ছিলো। কিন্তু গাড়ি চালাতে না দেয়ায় আমি সংসার চালাবো কেমনে তা ভেবে পাচ্ছি না। 
অভয়নগর ইজিবাইক সমিতির সভাপতি কামরুল ইসলাম বলেন, পুলিশ আমাদেরকে মহাসড়কে উঠতেই দিচ্ছে না। এ পর্যন্ত শতাধিক গাড়ি আটক করা হয়েছে। আমাদের দাবী যেহেতু দেশের সর্বত্র থ্রি হুইলার চলছে। আমাদেরও চলতে দেয়া হোক। ভ্যান শ্রমিক নেতা লিটন হোসেন জানান, আমার শ্রমিকেরা বেকার হয়ে পড়েছে। আমারা বৃহস্পতিবার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে জেলা প্রশাসক বরাবর স্মারক লিপি প্রদান এবং মানববন্ধন করবো। অভয়নগর থানার অফিসার ইনচার্য মোঃ তাজুল ইসলাম বলেন, জেলা পুলিশ সুপারের নির্দেশে আমি অভিযান চালিয়ে মহাসড়কে সকল প্রকার তিন চাকা বিশিষ্ট যানবাহন বন্ধ করে দিয়েছি। তিনি নির্দেশ দিলে আমি যানবাহন ছেড়ে দেবো।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ