খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

চিতলমারীর দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির সংকট

চিতলমারী প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১০ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

চিতলমারীর দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানির সংকট

বাগেরহাটের চিতলমারী উপজেলার প্রায় দুই শতাধিক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের টিউবয়েল ও পানির ফিল্টার দীর্ঘদিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। ফলে ওইসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। তাই শিক্ষা প্রতিষ্ঠান গুলো চলাকালীন সময়ে কমপক্ষে ৩১ হাজার শিক্ষার্থী পানির অভাবে তৃষ্ণা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
উপজেলা প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, এখানে ১৯৩টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তার মধ্যে ৪টি কলেজ। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩১ টি ও নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১ টি এবং আলিয়া মাদ্রাসা ৭ টি। সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ১১১ টি। কিন্ডরগার্ন্ডেন ২৩ টি, স্বতন্ত্র ইবতেদায়ী ৩ টি, উচ্চ মাদ্রাসা সংলগ্ন ৭টি ও এনজিও পরিচালিত একটি স্কুল রয়েছে। এরমধ্যে কলেজে’র শিক্ষার্থী ১ হাজার ৬০০ জন। মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও আলিয়া মাদ্রাসায় শিক্ষার্থীর ১২ হাজার। প্রাথমিক পর্যায়ে জরিপকৃত শিক্ষাথীর সংখ্যা ১৭ হাজার ৮৭৯ জন। এসব শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অধিকাংশ টিওবয়েল গুলোর মাথা (হেড) চুরি হয়ে গেছে অনেক আগেই। বাকিগুলো অকেজো হয়ে পড়ে আছে দীর্ঘদিন ধরে। তা ছাড়া পানির ফিল্টার গুলোও নষ্ট হয়ে ধংসস্তুপে পরিণত হয়েছে। আর যে গুলো ঠিক আছে তার বেশীর ভাগই আর্সেনিক যুক্ত। তাই দিনের পর দিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলাকালীন সময়ে প্রায় ৩১ হাজার শিক্ষার্থী পানির অভাবে তৃষ্ণা মেটাতে ব্যর্থ হচ্ছে।
উপজেলা জন স্বাস্থ্য প্রকৌশলীর দপ্তর সূত্রে জানা গেছে, এ উপজেলায় ১৭৭ টি গভীর ও ১ হাজার ৮৮২ টি অগভীর নলকূপ রয়েছে। এর শতকরা ৮০ ভাগ নলকূপের পানিতে রয়েছে অতিমাত্রায় আর্সেনিক। যার ফলে এসব পানি পান করার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। সুরশাইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অমিত বিশ্বাস, অরিণ গোলদার, সুরাইয়া আক্তার, তারিফ শেখ, তানজিল শেখ ও সাদিয়া আক্তার জানায়, তাদের স্কুলের কল অনেক আগেই নষ্ট হয়েছে। খারার পানির প্রয়োজনে তাদের আশেপাশের বাড়ি গুলোতে যেতে হয়। 
কুরমনি  গ্রামের অভিভাবক রেজাউল দাড়িয়া, বুদ্ধ দেব বসু ও পরিমল মজুমদার জানান, স্কুলে দীর্ঘ দিন ধরে পানির সমস্যা চলে আসছে। কিন্তু সুপেয় পানির জন্য কার্যকরী কোন স্থায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি বলে তাদের অভিযোগ। 
৫৯ নং পশ্চিম কীর্ত্তনখোলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জয়ন্তী রাণী মুখার্জী জানান, তার স্কুলে কোন টিউবয়েল বা পানির ফিল্টার নেই। তাই বিশুদ্ধ পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে বাধ্য হয়ে ছেলে-মেয়েরা এবাড়ি ওবাড়ি ছুটে বেড়ায়।
চিতলমারী সরকারি এস এম মডেল উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রমেন্দ্র নাথ মল্লিক জানান, তার বিদ্যালয়ে ৮১২ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। তাদের জন্য সুপেয় কোন পানির ব্যবস্থা না থাকায় ছাত্র-ছাত্রীরা অস্বাস্থ্যকর পানি পান করছে। বিষয়টি নিয়ে খুবই সমস্যায় আছেন শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ আমিনুল ইসলাম জানান, বিশুদ্ধ পানি শিক্ষার্থীর জন্য অপরিহার্য। তাই বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তবে মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ মফিজুর রহমান মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিভিন্ন কলেজ ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে তথ্য সংগ্রহ করে সে গুলো সমাধানের জন্য বিষয়টি উপর মহলে জানানো হচ্ছে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ