খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বিসর্জনে ফুলতলায় যুবকের মৃত্যু

‘দুর্গতিনাশিনী’ ফিরলেন কৈলাসের দেবালয়ে

নিজস্ব প্রতিবেদক ও ফুলতলা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫৫:০০

ষষ্ঠী তিথিতে বেলতলায় ‘আনন্দময়ীর’ নিদ্রাভঙ্গের বন্দনায় বাঙালি হিন্দুর যে উৎসবের সূচনা হয়েছিল, তার সাঙ্গ হল বিজয়া দশমীতে দেবী প্রতিমার বিসর্জনে।  ‘দুর্গতিনাশিনী’ দেবী দুর্গা ‘বাবার বাড়ি বেড়ানো’ শেষে এক বছরের জন্য ফিরে গেলেন ‘কৈলাসের দেবালয়ে’;  সমাপ্তি হল বাঙালি হিন্দুর সবচেয়ে বড় পার্বণ শারদীয় দুর্গোৎসবের আনুষ্ঠানিকতার।
মণ্ডপে মণ্ডপে এ উৎসবের সূচনা হয়েছিল দশ দিন আগে, মহালয়ার মধ্য দিয়ে। মঙ্গলবার সকালে বিজয়া দশমীতে ‘বিহিত পূজা’ আর ‘দর্পণ বিসর্জনে’ দুর্গা পূজার শাস্ত্রীয় সমাপ্তি হয়। খুলনায় বিকাল থেকে রাত পর্যন্ত হয় প্রতিমা বিসর্জন।
ভৈরব ও রূপসা নদী সংলগ্ন ঘাটগুলো ঘিরে র‌্যাব, পুলিশ ও নৌ-পুলিশের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ও সদস্যরাও নদীতে অবস্থা নেন বলে জানান স্থানীয় প্রশাসন।
সনাতন ধর্মের বিশ্বাস অনুযায়ী, মহালয়ার দিন ‘কন্যারূপে’ ধরায় আসেন দশভূজা দেবী; বিসর্জনের মধ্য দিয়ে তাকে এক বছরের জন্য বিদায় জানানো হয়। তার এই ‘আগমন ও প্রস্থানের’ মাঝে আশ্বিন মাসের শুক্লপক্ষের ষষ্ঠী থেকে দশমী তিথি পর্যন্ত পাঁচ দিন চলে দুর্গোৎসব।
এবার সপ্তমী, অর্থাৎ দেবীর আগমনের দিন শনিবার এবং ফেরার দিন মঙ্গলবার হওয়ায় শাস্ত্রমতে দুর্গা এবার এসেছেন ঘোটকে বা ঘোড়ায় চেপে, একই বাহনে তিনি ফিরছেন।
পঞ্জিকা বলছে, দুর্গার ঘোড়ায় চড়ে এলে বা গেলে তার ফল হয়- ‘ছত্রভঙ্গস্ততরঙ্গমে’। অর্থাৎ সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংসারিক ক্ষেত্রে অস্থিরতা, বিশৃঙ্খলা, অরাজকতা, দুর্ঘটনা, অপমৃত্যুর শঙ্কা।
মৃত্যু :  প্রতিমা বিসর্জনে বন্ধুদের সাথে উৎসব করতে গিয়ে ট্রলার থেকে ভৈরব নদে পড়ে সলিল সমাধি ঘটেছে মোঃ হৃদয় হোসেন শেখ (১৮) নামে এক এসএসসি পরীক্ষার্থীর। এ ঘটনা ঘটে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ফুলতলার শিকিরহাট ঘাটে। সে ফুলতলার পয়গ্রামের ডাঃ উমেদ আলী শেখের বাড়ীর ভাড়াটিয়া জহুরুল ইসলাম জনি শেখের পুত্র ও ফুলতলার রি-ইউনিয়ন হাই স্কুলের ছাত্র।  
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, গতকাল বিকালে হৃদয় হোসেন খান তার বন্ধুদের সাথে প্রতিমা বিসর্জন উৎসবে ট্রলার নিয়ে ভৈরব নদে শিকিরহাট ঘাটে নামে। বিকাল আনুমানিক সাড়ে ৫টার দিকে দুটি ট্রলারের মধ্যকার সংঘর্ষে ৩ বন্ধু নদীতে পড়ে যায়। তার অপর ২ বন্ধু সাতরে উঠে আসলেও হৃদয় শেখে’র সন্ধান মেলেনি। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস খুলনা সদর (নূর নগর) এর ডুমুরিরা এসে তল্লাসী চালিয়ে রাত পৌনে ৯টার দিকে হৃদয় শেখের মৃত দেহ উদ্ধার করে। ফায়ার সার্ভিস’র সদর ষ্টেশন ডিএডি মোঃ ইকবাল বাহার বুলবুল বলেন, দুর্ঘটনা কবলিত ট্রলার যাত্রীদের দেখিয়ে দেয়া স্থানে গিয়ে ৪ ডুবুরীর অনুসন্ধ্যানে হৃদয় শেখের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উদ্ধারকৃত লাশ ফুলতলা থানা পুলিশ মর্গে প্রেরণের প্রস্তুতি নিচ্ছিল। মর্মান্তিক এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে।   
এদিকে প্রতিমা বিসর্জনের আগে মণ্ডপগুলোতে চলে সিঁদুর খেলা আর আনন্দ-উৎসব। হিন্দু সধবা নারীরা প্রতিমায় সিঁদুর পরিয়ে দেন একই সাথে নিজেরাও একে অন্যকে সিঁদুর পরিয়ে দেন। চলে মিষ্টিমুখ, ছবি তোলা আর ঢাকের তালে তালে নাচ-গান।
হিন্দু ধর্মালম্বীদের বিশ্বাসে-বোধনে ‘অরুণ আলোর অঞ্জলি নিয়ে আনন্দময়ী মা উমাদেবীর আগমন ঘটে। টানা পাঁচ দিন মৃন্ময়ীরূপে মণ্ডপে মণ্ডপে থেকে আজ ফিরে যাবেন কৈলাশে স্বামী শিবের সান্নিধ্যে। দেবী বিসর্জনের পর সেখান থেকে শান্তিজল এনে তা রাখা হবে মঙ্গলঘটে। এ বছর খুলনায় ৯৯৮টি মন্ডপে হয়েছিল এই উৎসব। খুলনা মহানগরীর ৮ থানায় ১২৯টি মন্ডপ ছিল। এর মধ্যে রয়েছে সদর থানায় ২৫টি, সোনাডাঙ্গা থানায় ১১টি, খালিশপুর থানায় ১১টি, দৌলতপুর থানায় ২২টি, খানজাহান আলী থানায় ১১টি, হরিণটানা থানায় ছয়টি, লবণচরা থানায় ১০টি এবং আড়ংঘাটা থানায় ৩৩টি।
অপরদিকে, জেলার ৯ উপজেলায় ছিল ৮৬৯টি মন্ডপ। এর মধ্যে বটিয়াঘাটায় ১১৮টি, দাকোপ ৮৩টি, রূপসায় ৭৩টি, তেরখাদায় ১০৪টি, দিঘলিয়ায় ৬০টি, ফুতলায় ৩২টি, ডুমুরিয়ায় ১৯৬টি, পাইকগাছায় ১৪৯টি ও কয়রায় রয়েছে ৫৪টি মন্ডপ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ