খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরারের ফেসবুক স্ট্যাটাস দেশপ্রেমে ঠাঁসা

নিজস্ব প্রতিবেদক | প্রকাশিত ০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫০:০০

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) মেধাবী শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদের ফেসবুক স্ট্যাটাসগুলোতে গভীর স্বদেশ প্রেমের চিত্র ফুটে উঠেছে। গত রবিবার দিবাগত রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি ছাত্রাবাসে তাকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়। অভিযোগ উঠছে, সম্প্রতি ভারত-বাংলাদেশ চুক্তি সম্পর্কিত স্ট্যাটাস দেয়ায় তাকে পিটিয়ে হত্যা করেছে ছাত্রলীগের কতিপয় নেতা। ঘটনাটি গত দু’দিন ভার্চ্যুয়াল জগতে রেকর্ড পরিমাণ ভাইরাল হয়েছে। খোঁজ পড়েছে নিহত আবরার ফাহাদের ফেসবুক প্রোফাইলে, কি লিখতেন এই মেধাবী শিক্ষার্থী? যার জন্য তাকে জীবন দিতে হলো। আবরার ফাহাদ নামের ফেসবুক আইডিতে পরখ করে দেখা গেছে- স্বদেশ প্রেমে ঠাঁসা তার স্ট্যাটাসগুলো।
খুলনা বিভাগের উত্তর-পশ্চিমের সর্বশেষ জেলা কুষ্টিয়ার কৃতি সন্তান আবরার ফাহাদ গত ১৬ আগস্ট বিবিসি বাংলায় ‘ভারত-ভাগের নাটকীয় ঘটনাবলী, তরুণ শেখ মুজিবুর রহমানের বয়ানে’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটির লিঙ্ক শেয়ার করে লিখেছেন, “পাকিস্তান ভাঙার প্রকৃত কারণ মনে হয় ৪৬-৪৭ এর এই ঘটনাগুলো। ৪৭ এর পর পাকিস্তান বেঈমানী করেছে, এ দেশের ৭ কোটি মানুষের সাথে আর আগে করেছে পশ্চিমবাংলা আর আসামের ৬ কোটি মুসলমানের সাথে। খুব সহসায় হয়তো বা তা দৃশ্যমান হবে।” একই দিনের আরেক স্ট্যাটাস ছিল, ‘কাশ্মীরেও আছে এমন এক টুকরো গ্রাম, যার নাম বাংলাদেশ!’ শিরোনামে। তার আগে ১১ আগস্ট ‘কাশ্মীর নিয়ে পোস্ট দেয়ায় বাংলাদেশী গ্রেফতার’ শিরোনামে দৈনিক ইনকিলাবে প্রকাশিত সংবাদ শেয়ার করে লিখেছেন, ‘কলকাতার দাদারা কিন্তু আপনাগো ওপর ক্ষেপবো’। আবার, ২৫ আগস্ট ডেইলি স্টারের বাংলা ভার্সনে প্রকাশিত ‘রোহিঙ্গারা ফুটবল, বাংলাদেশ খেলার মাঠ, চীন মূল খেলোয়াড়’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদটি শেয়ার করে আবরার। রসিক আবরার ২১ সেপ্টেম্বর দৈনিক নয়াদিগন্তে প্রকাশিত ‘বিয়ে করতে শতাধিক কনেযাত্রী গেলো বরের বাড়ি’ শিরোনামের খবরটি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আমিও ইতিহাস গড়তে চাই’। ২৮ সেপ্টেম্বর আবরার ফাহাদ লিখেছিলেন, ‘একটা সময় ভাবতাম অনেক উচ্চশিক্ষিত একটা মেয়ে বিয়ে করব। তার অনেক গুণ থাকবে। কিন্তু একদিন আমি বুয়েটে চান্স পাইলাম। অতঃপর হলের ডাইনিং এ খাইতে গেলাম। এখন আমার একটাই ইচ্ছা- আমার বউ রান্না করতে পারলেই হবে।’ আর ৩০ সেপ্টেম্বর লিখেছিলেন, ‘কে বলে হিন্দুস্তান আমাদের কোন প্রতিদান দেয় না। এই যে ৫০০টন ইলিশ পাওয়া মাত্র ফারাক্কা খুলে দিছে। এখন আমরা মনের সুখে পানি খাবো আর বেশি বেশি ইলিশ পালবো। ইনশাল্লাহ আগামী বছর এক্কেবারে ১০০১টন ইলিশ পাঠাবো।’
যা গত ৫ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৫টায় সর্বশেষ স্ট্যাটাসটি পোষ্ট করেন আবরার। তাতে লিখেছেন, ‘এক. ৪৭ এ দেশভাগের পর দেশের পশ্চিমাংশে কোন সমুদ্রবন্দর ছিল না। তৎকালীন সরকার ৬ মাসের জন্য কলকাতা বন্দর ব্যবহারের জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করল। কিন্তু দাদারা নিজেদের রাস্তা নিজেদের মাপার পরামর্শ দিছিলো। বাধ্য হয়ে দুর্ভিক্ষ দমনে উদ্বোধনের আগেই মংলা বন্দর খুলে দেয়া হয়েছিল। ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে আজ ইন্ডিয়াকে সে মংলা বন্দর ব্যবহারের জন্য হাত পাততে হচ্ছে। ২. কাবেরি নদীর পানি ছাড়াছাড়ি নিয়ে কানাড়ি আর তামিলদের কামড়াকামড়ি কয়েকবছর আগে শিরোনাম হয়েছিল। যে দেশের এক রাজ্যই অন্যকে পানি দিতে চাই না সেখানে আমরা বিনিময় ছাড়া দিনে দেড়লাখ কিউবিক মিটার পানি দিব। ৩. কয়েকবছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে উত্তর ভারত কয়লা-পাথর রপ্তানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দিব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব। হয়তো এসুখের খোঁজেই কবি লিখেছেন- “পরের কারণে স্বার্থ দিয়া বলি/ এ জীবন মন সকলি দাও/ তার মত সুখ কোথাও কি আছে/ আপনার কথা ভুলিয়া যাও।”
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ