খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

কলারোয়ায় বেত্রাবতী নদীর উপরে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে লোকজন

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ০৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

কলারোয়ায় বেত্রাবতী নদীর উপরে জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে চলাচল করছে লোকজন

সাতক্ষীরার কলারোয়া উপজেলার কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালচাতর ও কুশোডাঙ্গা গ্রামের সংযোগস্থলে বেত্রাবতী নদীর উপরে বাঁশের সাঁকোটা মরণ ফাঁদে পরিনত হয়েছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন শতশত স্কুল, কলেজগামী ছেলে-মেয়েদের এই জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়ে কাজীরহাট, কলারোয়াসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়ালেখা করতে যেতে হয়। স্থানীয় এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে এখানে একটি পাকা ব্রীজ নির্মাণের দাবি জানিয়ে আসলেও তাদের সেই দাবি এখনো জনপ্রতিনিধিদের আশ্বাসের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়ে গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কলারোয়া উপজেলার ১০নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের গোয়ালচাতর ও কুশোডাঙ্গা গ্রামের সংযোগস্থলে বেত্রাবতী নদীর উপরে একটি বাঁশের সাকো রয়েছে। গোয়ালচাতর ও কুশোডাঙ্গা থেকে উপজেলা সদর, হাট বাজারসহ বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাতায়াতের সুবিধার জন্য স্থানীয় ভাবে দীর্ঘদিন আগে এই বাঁশের সাকোটি নির্মাণ করা হয়। কিন্তু প্রয়োজনীয় সংষ্কারের অভাবে বর্তমানে ওই সাকোটি চলাচলের একেবারে অনুপযোগি হয়ে পড়েছে। সাকোর এক মাথার পাটাতন ভেঙ্গে নদীর মধ্যে পড়ে গছে। ভাঙ্গা এই বাঁশের সাকো দিয়ে জীবনের ঝুকি নিয়ে শিক্ষার্থীসহ অন্যান্য লোকজন তাদের মালামাল নিয়ে চলাচল করছে। যে কোন মুহুর্তে সাকোটি ভেঙ্গ গিয়ে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে। ফলে ঘটতে পারে জীবনহানির মত ঘটনা।
কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের সাবেক মেম্বর স্থানীয় পারকুপি গ্রামের নুর ইসলাম জানান, বেত্রাবতী নদীর উপরের বাঁশের সাকোটির একপাশের পাটাতন ভেঙ্গে পড়ায় জীবনের ঝুকি নিয়ে মানুষ চলাচল করছে। দীর্ঘদিন সংষ্কার না করায় সাকোটি চলাচলের অনপযোগি হয়ে পড়েছে। যে কারনে কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের উৎপাদিত কৃষি পন্য বাজারে নেওয়ার জন্য এই এলাকার চার থেকে পাঁচটি গ্রামের কৃষকদের অনেক সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। এই স্থানে একটি ব্রীজ খুবই প্রয়োজন। 
তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে আরো বলেন, এখানে বর্তমান সংসদ সদস্য, সাবেক কয়েকজন সংসদ সদস্যসহ প্রায় সকলস্তরের জনপ্রতিনিধিগন একটি ব্রীজ নির্মাণের প্রতিশ্র“তি দিয়ে গেলেও বাস্তবে কিছুই দেখি না। তাঁরা শুধু আশ্বাস দিয়ে গেছেন। তিনি এখানে দ্রুত ব্রীজটি নির্মাণের জন্য বর্তমান সংসদ সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহর সুদৃষ্টি কামনা করেন।
কলারোয়া উপজেলার ১০নং কুশোডাঙ্গা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আসলামুল ইসলাম বলেন, নিয়োমের কিছু জটিলতা থাকায় এখানে ব্রীজ নির্মাণ করা যাচ্ছে না। গোয়ালচাতর ও কুশোডাঙ্গা গ্রামের সংযোগস্থলে বেত্রাবতী নদীর উপরে ওই বাঁশের সাকোর দুই মাথায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) এর কোন রাস্তা নেই। যে কারনে সরকারি অর্থ দিয়ে ব্রীজ নির্মাণ করা একটু সমস্যা হচ্ছে। তার পরও আমরা চেষ্টা করছি। বেশ কয়েকদিন আগে স্থানীয় এমপি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিলাম। জরাজীর্ন বাঁশের সাকোটি তাঁকে দেখিয়েছি। তিনি আমাদেরকে কথা দিয়েছেন। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।
কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম লাল্টু জানান, বেত্রাবতী নদীর উপরে ওই বাঁশের সাঁকোটা তেমন জন গুরুত্মপূর্ণ নয়। সাকোটি স্থানীয়ভাবে নির্মাণ করা ছিল। তবে সেটির অবস্থা এখন খুবই নাজুক। আমি নিজে গিয়ে সাকোটি দেখে এসেছি। লোকজন ঝুকি নিয়ে চলাচল করছে। ওই এলাকার শিক্ষার্থী ও ব্যবসায়ীসহ সাধারণ মানুষের চলাচলের সুবিধার জন্য দ্রুত গোয়ালচাতর ও কুশোডাঙ্গা গ্রামের সংযোগস্থলে বেত্রাবতী নদীর উপরের ওই বাঁশের সাকোটি সংষ্কারের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ