খুলনা | বৃহস্পতিবার | ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২০ | ১৪ ফাল্গুন ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

‘রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে’

ক্ষতিকর প্রকল্প বাংলাদেশে সুবিধা ভারতের : সুলতানা 

খবর প্রতিবেদন | প্রকাশিত ০৬ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০৯:০০

সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির আহ্বায়ক এড. সুলতানা কামাল বলেছেন, স্বাধীনতার আগে সকল সুযোগ সুবিধা যেত পশ্চিম পাকিস্তানে আর শোষণ হতো পূর্ব পাকিস্তান, যত ক্ষতিকর প্রকল্প হতো পূর্ব পাকিস্তানে। তেমনিভাবে বাংলাদেশে যত ক্ষতিকর প্রকল্প তা যৌথভাবে করছে ভারত। সেটা করতে যে পণ্য ব্যবহৃত হবে তা হতে হবে ভারতীয়। এবং সমস্ত সুযোগ-সুবিধাও নিয়ে যাবে ভারত। এই জায়গায় মনে হয় চিন্তা-ভাবনার সময় এসেছে। গতকাল শনিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটি আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
ইউনেস্কোর ৪৩তম সভার সুপারিশ বাস্তবায়ন, সুন্দরবনের পাশে রামপালসহ সব শিল্প নির্মাণ প্রক্রিয়া বন্ধ এবং সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কৌশলগত পরিবেশ সমীক্ষা সম্পন্ন করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন আয়োজন করে সংগঠনটি।
ভারত আমাদের পাশে না থাকলে স্বাধীনতা যুদ্ধ যেভাবে শেষ হয়েছে সেভাবে শেষ করা সম্ভব হতো না জানিয়ে মানবাধিকারকর্মী সুলতানা কামাল বলেন, কিন্তু কথা হলো, সেটার পরিবর্তে আজকে বাংলাদেশকে একটা বাজারের জায়গা বানিয়েছে তারা (ভারত)। শিল্প কারখানার জায়গা বানিয়ে তারা নিজেদের স্বার্থ গুছিয়ে নেবে এ বিষয়টা কিন্তু আমাদের চিন্তা ভাবনা করতে হবে। তিনি বলেন, মানবাধিকারকর্মী হিসেবে আমি দায়িত্ব নিয়ে বলছি, এটা সবচেয়ে সস্তা শ্রমের দেশ। যেনতেন ভাবে মানুষকে তাদের জায়গা জমি থেকে উচ্ছেদ করে এই ধরনের প্রকল্প তৈরি করা হচ্ছে। আমাদের এই বিষয়ে দায়িত্ব আছে নাড়াচাড়া দেওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি আরও বলেন, সরকার ভুল অবস্থান থেকে সরে এসে রামপাল প্রকল্প বাতিল করুক। বনবিরোধী সব স্থাপনা উৎখাত করে প্রাকৃতিক চরিত্রকে সংরক্ষণ করে বিজ্ঞানসম্মত প্রক্রিয়ায় কয়লার বিকল্প উপায়ে বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরি করা হোক। সম্প্রতি জানা গেছে, রামপাল প্রকল্প নির্মাতা ভারতীয় কোম্পানি এনটিপিসি তাদের নিজ দেশে সব কয়লা বিদ্যুৎ প্রকল্প স্থগিত করেছে। ইকোনমিক টাইমস পত্রিকার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এনটিপিসি আগামী পাঁচ বছর কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ উৎপাদনে যাবে না। কারণ তারা কার্বন তৈরির দায় কমাতে চায়। বরং এনটিপিসি গুজরাটে বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম সৌর শক্তি পার্ক তৈরি করতে ২৫ হাজার কোটি রুপি খরচ করছে। অথচ এই প্রতিষ্ঠান প্রবল গণআপত্তির মুখে বাংলাদেশে কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র তৈরিতে পিছপা হচ্ছে না। এটা তাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন ও ডাবল স্ট্যান্ড (দ্বৈতনীতি) আচরণ।
সুলতানা কামাল বলেন, ইউনেস্কোর ৪৩তম সভায় বিশ্ব ঐতিহ্য সুন্দরবনের দুরবস্থা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মূলত সুন্দরবন নিরাপদ ও ভালো রাখার ব্যাপারে আমাদের সফলতা নিয়ে ইউনেস্কোর ৪১তম সভায় কিছু নেতিবাচক সঠিক পর্যবেক্ষণ ছিল। বাংলাদেশের যেসব বিষয়ে দায়িত্ব ছিল বা করণীয় ছিল তা গত জুনে ৪৩তম সভায় প্রতিবেদন আকারে দাখিল করা হয়। কিন্তু ওই সভায় কমিটি সন্তুষ্ট হয়েছে বলে মনে হয়নি। কারণ ২০১৭ সালের কাজগুলো সম্পন্ন করতে তাগাদা দেওয়া হয়েছে। আগামী ডিসেম্বরের মধ্যে ইউনেস্কোর পর্যবেক্ষণ দল সরেজমিনে দেখতে সুন্দরবনে আসবে। আর বাংলাদেশকে ২০২০ সালের ফেব্র“য়ারির মধ্যে কৃতকাজের প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। আগামী বছর এই সময় প্রতিবেদন মূল্যায়ন করা হবে। সেই সভায় সরকারের কাজে কমিটি সন্তুষ্ট না হলে আগামী বছরই সুন্দরবন আবারও বিপদাপন্ন ঐতিহ্য তালিকায় চলে যেতে পারে যা দেশ ও জনগণের জন্য অযোগ্যতা, ব্যর্থতা, দুঃখজনক, লজ্জার ও অপমানের একটি বিষয় হবে।
সংগঠনের পক্ষে তিনি দাবি জানিয়ে বলেন, অবিলম্বে সুন্দরবনে রামপাল বিদ্যুৎ প্রকল্প বাতিল করতে হবে। বাংলাদেশের সমুদ্র উপকূল জুড়ে সব কয়লা বিদ্যুৎকেন্দ্র বাতিল করে বিকল্প জ্বালানি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে হবে। সুন্দরবনের বাফার জোন করে বনের কাছাকাছি সব কলকারখানা ও এলপিজি কারখানা বন্ধ করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন সুন্দরবন রক্ষা জাতীয় কমিটির সদস্য সচিব ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সাধারণ সম্পাদক ডাঃ মোঃ আব্দুল মতিন, কমিটির সদস্য রুহীন হোসেন প্রিন্স ও শরীফ জামিল প্রমুখ।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ












ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

ক্রিকেটার মিরাজের বাসায় চুরি

২৭ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০০:৪৬