খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

০৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

পেঁয়াজ নিয়ে নয় ছয়

অভ্যন্তরীণ চাহিদা মেটানোসহ অতি বৃষ্টি ও বন্যার কারণে প্রতিবেশী দেশ ভারত পেঁয়াজ রপ্তানি বন্ধের ঘোষণা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই আটঘাট বেঁধে একেবারে মাঠে নেমে পড়েন পেঁয়াজের দেশীয় আড়ৎদার, আমদানিকারক, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীরা। একে রীতিমতো ব্ল্যাকমেল তথা জনসাধারণকে প্রায় জিম্মি করে ব্যবসা করা ছাড়া আর কি বলা যায়? অথচ প্রায় প্রতিদিনই বিভিন্ন দেশের  সীমান্ত দিয়ে স্থল ও নৌপথে দেশে ঢুকছে শত-শত টন পেঁয়াজ। 
পেঁয়াজের অভ্যন্তরীণ মজুতও সন্তোষজনক। সরকার নিজেই বলেছে, দেশে প্রায় তিন লাখ টন পেঁয়াজ মজুত আছে, যা দিয়ে আগামী ৫০-৫৫ দিন চলার কথা। অথচ পেঁয়াজের দাম এক লাফে বেড়ে ৮০ থেকে রাতারাতি হয়েছে ১৩০ টাকা প্রতি কেজি। এমতাবস্থায় অভ্যন্তরীণ চাহিদা নিরূপণসহ বাজার নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ ও বাস্তবায়ন জরুরি হয়ে পড়েছে। এর পাশাপাশি দেশেই বাড়াতে হবে আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থাসহ পেঁয়াজের চাষাবাদ। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় এক্ষেত্রে গবেষণা কার্যক্রমসহ এগিয়ে আসতে পারে।
জরুরি পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার টিসিবির মাধ্যমে ট্রাকসেলে পেঁয়াজ বিক্রির সিদ্ধান্ত নিলেও বাজারে এর ইতিবাচক প্রভাব নেই। অতঃপর জরুরিভিত্তিতে পেঁয়াজ আমদানির চেষ্টা চলছে মিয়ানমার, চীন, মিসর ও তুরস্ক থেকে। অসাধু ব্যবসায়ী ও মজুতদারদের কারসাজিতে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না কিছুতেই। দেশে প্রতি মাসে পেঁয়াজের গড় চাহিদা এক লাখ ২০ হাজার টন। শীত মৌসুমে চাহিদা কিছু বেশি থাকে। এর ৬০ শতাংশ মেটানো যায় স্থানীয় উৎপাদন থেকে। বাকি ৪০ শতাংশ পেঁয়াজের চাহিদা মেটানো হয় প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করে। দেশে প্রতিবছর পেঁয়াজের চাহিদা কম-বেশি ২৪ লাখ টন। উৎপন্ন হয় ১৮ লাখ টন। অতিরিক্ত চাহিদা মেটাতে হয় প্রধানত ভারত এবং আংশিক মিয়ানমার থেকে আমদানি করে। তবে বাস্তবতা হলো, ব্যবসায়ী মহল যদি আন্তরিক হন এবং সদিচ্ছা পোষণ করেন তাহলে আপাতত অভ্যন্তরীণ মজুত থেকে পেঁয়াজ ছেড়ে দিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিতে পারেন। কেন না, এই পেঁয়াজ তারা আমদানি করেছেন আগের দামে। অপ্রিয় হলেও সত্য যে, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে সেই সততা ও নীতি-নৈতিকতার যথেষ্ট অভাব রয়েছে।
দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির নানা কারণের মধ্যে অন্যতম হলো দুর্বল বাজার মনিটরিং, অসাধু আমদানিকারক, উৎপাদক, পরিবেশক, সরবরাহকারী, পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ী, অকার্যকর টিসিবি সর্বোপরি ট্যারিফ কমিশন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ও রাজস্ব বোর্ডের মধ্যে আদৌ কোন সমন্বয় না থাকা। যে কারণে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ অধিকার এবং সংরক্ষণ বরাবরই উপেক্ষিত থেকে যাচ্ছে। সিন্ডিকেট তথা মুুষ্টিমেয় ব্যবসায়ী চক্রের বাজারে একচেটিয়া নিয়ন্ত্রণ ও মুনাফা লুটে নেয়ার কথা প্রায়ই উচ্চারিত হয়। এফবিসিসিআই, খুলনা চেম্বারসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো খুবই শক্তিশালী এবং সরকারের ওপর তাদের প্রভাব-প্রতিপত্তিও অস্বীকার করা যায় না। জাতীয় সংসদের ব্যবসায়ীরাই সংখ্যাগরিষ্ঠ। ফলে ভোক্তা ও ক্রেতাস্বার্থ এক রকম উপেক্ষিত ও অনালোচিতই থাকছে। সরকার তথা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে এক্ষেত্রে কঠোর মনোভাব নিয়ে অগ্রসর হতে হবে বাজার মনিটরিং ও দ্রব্যমূল্য আপাতত সরকারের করণীয়, পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণসহ উদ্ভূত পরিস্থিতি সামাল দিতে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ