খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

কন্যাশিশুর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো দরকার

০৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

কন্যাশিশুর প্রতি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পাল্টানো দরকার

কন্যাসন্তান বা ছেলেসন্তান জন্ম দেয়া একজন মায়ের বা বাবার ইচ্ছাকৃত কোনো বিষয় নয়। কিন্তু অবাক বিষয় হচ্ছে এই নারীদেরই কন্যাশিশু জন্ম দেয়ার কারণে শারীরিক ও মানসিক অত্যাচারের মুখোমুখি হতে হয়। আমাদের দেশে প্রতি পদক্ষেপে মেয়েদেরকে মোকাবিলা করতে হবে বাধা বিপত্তি। একটু বড় হলেই রাস্তা-ঘাটগুলো তার একাকি চলার জন্য ক্রমেই বিপদসংকুল হয়ে ওঠে। রাস্তায় লুকিয়ে থাকে মুখোশ পরা হিংস্র মানুষের দল। এরকম পশুসম মানুষে আমাদের সমাজটা ভরে উঠছে। এটা আমাদের জন্য বড় ধরনের দুর্ভাগ্য।
একটা সময় আমাদের দেশে ছেলে আর মেয়েতে ছিল বিস্তর বিভেদ। অনেক পরিবারে মেয়ে জন্ম হলে যেন পরিবারে আনন্দিত হওয়ার বদলে কপালে চিন্তার ভাঁজ দেখা যেত। মেয়েদের ক্ষেত্রে ছিল পদে পদে নিষেধাজ্ঞা। তাদের ঘরের বাইরে বের হওয়া ও লেখাপড়ার সুযোগ ছিল কম। সে অবস্থা থেকে মুক্তি দিতে বেগম রোকেয়া কামালের মতো মহীয়সী নারীরা এগিয়ে এসেছেন। তারা দেখিয়েছেন পুরুষের পাশাপাশি মেয়েরাও সমান অবদান রাখতে পারে। আজ যোগ্যতার সঙ্গে পুরুষের পাশাপাশি নারীরা বিশ্ব রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতিসহ সর্বক্ষেত্রে সমান ভূমিকা পালন করে চলেছে। সেই সঙ্গে এগিয়েছে মানুষের ধ্যান-ধারণা, চিন্তা-চেতনা। কিন্তু আজও আমরা পারিনি সমাজে ছেলে-মেয়ের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে। আজও সমাজের অনেক জায়গায় কন্যাশিশু জন্ম নেয়ার কারণে স্ত্রীকে লাঞ্ছনার শিকার হতে হয়। এটা আমাদের অনেকের হীনমানসিকতার ব্যাপার।
আমাদের সমাজে প্রচলিত বিশ্বাসে ছেলে বড় হলে চাকরি করবে আর মেয়ে বড় হলে বিয়ে দিয়ে শ্বশুরবাড়ি পাঠাতে হবে। এই চিন্তা-চেতনা থেকে কি আজও আমরা বের হতে পেরেছি। আমাদের উচ্চবিত্ত পরিবারগুলোতে যদিও ধারণার পরিবর্তন ঘটেছে কিন্তু নিম্নমধ্যবিত্ত অনেক পরিবারেই বিয়ে দিয়ে দেয়াই যেন মেয়ের চূড়ান্ত পরিণতি একথা জন্মের পর থেকেই মনে মনে ঠিক করে রাখা হয়। বাল্যবিয়ে আজও আমাদের দেশের উন্নয়নের পথে সবচেয়ে বড় বাধা। বাল্যবিয়ে কন্যাশিশুর অধিকার ও সুযোগকেই হরণ করে না বরং তার নারী হয়ে ওঠার ক্ষেত্রে ঝুঁকি তৈরি করে। শহরের অবস্থা কিছুটা পাল্টালেও গ্রামের চিত্র কিন্তু ভালো নয়। গ্রামের মেয়েদের ক্ষেত্রে দেখা যায় ক্লাস সেভেন, এইট থেকেই বিয়ে দেয়ার তোড়জোড় শুরু হয়। মেয়েদের বোঝা হিসেবে গ্রহণ করার মানসিকতা আজও অভিভাবকরা ত্যাগ করতে পারেনি। ফলে অনেক মেধাবী কন্যাশিশুকেই অসময়ে বিয়ের পিঁড়িতে বসিয়ে মেধা বিকাশের সুযোগটাই হত্যা করা হয়। কাজেই এটাই আমাদের সামনে এখন চ্যালেঞ্জ।
আমরা মনে করি, এ অবস্থা থেকে মুক্তি পেতে হলে কন্যাশিশু তথা নারীদের উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত হতে হবে। যে কোনো মূল্যেই বাল্যবিয়ে রোধ করতে হবে। এক্ষেত্রে শুধু রাস্ট্র নয় সমাজের প্রত্যেককে এগিয়ে আসতে হবে। তবে একটি পরিবারে মা-বাবার দায়িত্বই সর্বাধিক। কারন  নিজে না বদলালে অন্যকে বদলানোর উপদেশ দিয়ে লাভ নেই। ছেলেকে যেমন মানুষ করার, শিক্ষিত করার লক্ষ্য নিয়ে বাবা-মা বড় করে, মেয়েকেও ঠিক একই চিন্তা-ভাবনায় বড় করা উচিত। ছেলে বা মেয়ে না বরং সন্তান মানুষ করা, তাকে সমাজে প্রতিষ্ঠিত করাই বড় কথা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ