খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

খুলনা নগর ও জেলায় সভাপতি-সম্পাদক পদে আগ্রহী ১৭

আসন্ন আ’লীগের সম্মেলনে পরিচ্ছন্ন ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতৃত্ব চায় তৃণমূল  

আল মাহমুদ প্রিন্স | প্রকাশিত ০২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫০:০০

আওয়ামী লীগের বিভাগীয় প্রতিনিধি সভায় জেলা ও মহানগর আওয়ামী লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণের পর নেতা-কর্মীদের মধ্যে চলছে আগ্রহ বেড়েছে। আগামী ৭ ডিসেম্বর নগর এবং ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে। এদিকে  নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ ঘোষণা হওয়ায় ব্যস্ত সময় পার করছেন পদপ্রত্যাশী সম্ভাব্য প্রার্থীরা। ইতোমধ্যে নগর ও জেলা আওয়ামী লীগে সভাপতি সম্পাদক পদে ১৭ প্রার্থীর নাম শোনা যাচ্ছে। তবে পরিচ্ছন্ন ত্যাগী ও কর্মীবান্ধব নেতা চায় তৃণমূল নেতা-কর্মীরা। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৪ সালের ২৯ নভেম্বর নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক সভাপতি এবং আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। প্রায় বছর দুয়েক পরে ২০১৬ সালের ৪ সেপ্টেম্বর নগর আওয়ামী লীগের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। অপরদিকে, ২০১৫ সালের ২৬ ফেব্র“য়ারি জেলা আ’লীগের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। সম্মেলনে শেখ হারুনুর রশীদ সভাপতি এবং এস এম মোস্তফা রশিদী সুজা সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ২৭ নভেম্বর পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। 
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী ৭ ডিসেম্বর নগর আওয়ামী লীগের সম্মেলনের তারিখ নির্ধারণ হলেও জেলা আ’লীগের সম্মেলনের তারিখ এখনো নির্ধারণ হয়নি। তবে আগামী ৪ অক্টোবর জেলা আ’লীগের বর্ধিত সভায় সম্মেলনের দিনক্ষণ ঠিক হতে পারে। কারণ আগামী ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা আ’লীগের সম্মেলন সম্পন্ন করতে ইতোমধ্যে কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ নির্দেশনা দিয়েছেন। 
সূত্র জানায়, নগর আ’লীগের সভাপতি সিটি মেয়র আলহাজ্ব তালুকদার আব্দুল খালেক দীর্ঘদিন ধরে নগরের হাল শক্ত হাতে ধরে রেখেছেন। আসন্ন নগর সম্মেলনে সভাপতি পদে বর্তমান সভাপতির বিকল্প প্রার্থী না থাকায় এ পদে তিনিই একমাত্র প্রার্থী হবেন এমন আশা করছেন নেতা-কর্মীরা। বর্তমানে নগর আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সাবেক সংসদ সদস্য আলহাজ্ব মিজানুর রহমান মিজান। শোনা যাচ্ছে তিনিও সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে সম্ভাব্য প্রার্থী তালিকায় আরও ৭ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। এসব প্রার্থীরা হলেন নগর আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা, নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদ, নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম ও আবুল কালাম আজাদ কামাল, সদর থানা আ’লীগের সভাপতি এড. মোঃ সাইফুল ইসলাম, দৌলতপুর থানা আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী, নগর আ’লীগ নেতা এবং সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম।    
এদিকে কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে জেলা আওয়ামী লীগের সম্মেলন করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ লক্ষে আগামী ৪ অক্টোবর দলীয় কার্যালয়ে জেলার বর্ধিত সভা আহ্বান করা হয়েছে। সভায় সম্মেলনের দিনক্ষণ ধার্য করা হবে বলে দলীয় সূত্রে জানা গেছে। দলীয় সূত্র জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে জেলা সভাপতি পদে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান শেখ হারুনুর রশীদ। এবারও তিনি এ পদে প্রার্থী হবেন বিষয়টি মোটামুটি নিশ্চিত। তবে সভাপতি পদে জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এড. এম এম মুজিবর রহমানও প্রার্থী হতে পারেন। এছাড়া সাধারণ সম্পাদক পদে শোনা যাচ্ছে ৬ জনের নাম। এরা হলেন, জেলা ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী, যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু, জেলা সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ কামরুজ্জামান জামাল, জেলা সাংগঠনিক সম্পাদক মোঃ আকতারুজ্জামান বাবু এমপি, বটিয়াঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি ও উপজেলা চেয়াম্যান আশরাফুল আলম খাঁন ও সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস।
নগর আ’লীগের যুগ্ম-সম্পাদক এমডিএ বাবুল রানা বলেন, ‘দলের দুঃসময়ে সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ছিলাম। ১৯৮৪ সালে ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে আ’লীগে যোগদান করেছি। তিনি আরও বলেন, দলের কমিটমেন্ট পালন করাই আমার কাজ। দলের নীতি-নির্ধারকরা যদি আমাকে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত করেন তাহলে আমি আমার দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করবো।’
নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক আহমেদ বলেন, ‘দলীয় প্রধান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা যাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেবেন সেটিই সঠিক। তিনি আরও বলেন, দলের দুর্দিনে আমি রাজপথে লড়াই-সংগ্রাম করেছি। দীর্ঘদিন ধরে খুলনায় ছাত্রলীগের রাজনীতি করেছি। পরবর্তীতে যুবলীগ থেকে আ’লীগের রাজনীতিতে এসেছি। বর্তমানে নগর আ’লীগের কমিটিতে সাংগঠনিক পদে দায়িত্ব পালন করছি।’ 
নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটি ঐতিহ্যবাহী সংগঠন। নগর আ’লীগের সম্মেলনে যারা নতুন নেতৃত্বে আসবে তারা যেন মাদক, সন্ত্রাস ও দুর্নীতিমুক্ত থাকে। নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ কামাল বলেন, ‘আমি মাঠপর্যায় থেকে উঠে এসেছি। ওয়ালে চুনকাম করেছি। ’৮৪ সালে সরকারি মজিদ মেমোরিয়াল সিটি কলেজ ছাত্রসংসদের এজিএস ও ’৯৩ সালে জেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হই। পরবর্তীতে নগর ছাত্রলীগের সভাপতির দায়িত্ব পেয়েছি। এরপর সোনাডাঙ্গা থানা আ’লীগের সভাপতি এবং সর্বশেষ নগর আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘যাদের নামে কোনো ক্লেম নেই এবং পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব তাদেরকেই নেতৃত্বে আনা হোক।’ সদর থানা আ’লীগের সভাপতি এড. মোঃ সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘তৃণমূল পর্যায়ে যারা দলের দুর্দিনে পাশে ছিলেন, যারা পরিচ্ছন্ন ও দায়িত্বশীল এবং কর্মীবান্ধব এমন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনা হোক।’ দৌলতপুর থানা আ’লীগের সভাপতি সৈয়দ আলী বলেন, ‘দুর্দিনে যারা দলের জন্য আন্দোলন করেছে এবং পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিত্ব তাদের নেতৃত্বে আনা হোক। তিনি আরও বলেন, পরিচ্ছন্ন ব্যক্তিদের নেতৃত্বে আনলে দলের ভাবমূর্তি অক্ষুন্ন থাকবে।’
সাবেক ছাত্রলীগ ফোরাম খুলনার আহ্বায়ক শেখ মোঃ জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘৯৬ এর পূর্বে এবং বর্তমানে যারা আ’লীগ করছে তাদের মধ্যে যারা পরিচ্ছন্ন, কর্মীবান্ধব, যাদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ নেই এবং আলোকিত মানুষ তাদেরকেই নেতৃত্বে আনা হোক। তিনি আরও বলেন, যারা প্রধানমন্ত্রীর মুখ উজ্জ্বল রাখতে পারবে তাদের হাতে  নেতৃত্ব দেয়া হোক। আমি প্রধানমন্ত্রীর আদর্শের একজন কর্মী হতে চাই।’    
এদিকে জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি এড. এম এম মুজিবর রহমান সময়ের খবরকে বলেন, ‘যারা ন্যায়-নীতি সম্বলিত, পরিচ্ছন্ন এবং দলের দুর্দিনে সময় দিয়েছেন তাদের হাতে নেতৃত্ব তুলে দেয়া হোক।’ জেলা আ’লীগের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক এড. সুজিত অধিকারী বলেন, ‘আমি চাই পরিচ্ছন্ন ও কর্মীবান্ধব নেতা। কর্মীবান্ধব নেতা না হলে তৃণমূল কর্মীদের দুঃখ-কষ্ট বুঝবে না। যারা পরীক্ষিত কর্মী, পরিচ্ছন্ন ও স্বচ্ছ তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হোক।’ জেলা আ’লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান সরফুদ্দিন বিশ্বাস বাচ্চু বলেন, ‘কর্মীবান্ধব নেতা চাই। তিনি জেলা আ’লীগের সম্মেলনে সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী বলে জানান। জেলা আ’লীগের সিনিয়র সাংগঠনিক সম্পাদক সাবেক ছাত্রনেতা মোঃ কামরুজ্জামান জামাল বলেন, ‘যে নেতৃত্ব আগামী দিনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রেখে প্রত্যন্ত গ্রামে-গঞ্জে কাজ করতে পারবে এমন নেতৃত্ব আমি চাই। প্রধানমন্ত্রীর যেন কোনো বদনাম না হয় এমনই নেতৃত্ব আমি আশা করছি।’ বটিয়াঘাটা উপজেলা আ’লীগের সভাপতি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আশরাফুল আলম খাঁন বলেন, ‘যারা তৃণমূল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের দুঃখ-কষ্ট বোঝে তাদেরকেই আগামী দিনে নেতৃত্বে আনা হোক।’ সাবেক জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি অসিত বরণ বিশ্বাস বলেন, ‘যারা দল নিয়ে সব সময় ভাবেন এবং দলের জন্য সময় দিতে পারবেন তাদেরকে নেতৃত্বে আনা হোক। পরিচ্ছন্নদের নেতৃত্বে আনলে দলের ভাবমূর্তি বাড়বে।’


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ









জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

জাতীয় পার্টিতে ভাঙনের সুর!

২৪ জুলাই, ২০১৯ ০০:৩৩





ব্রেকিং নিউজ