খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর উদ্যোগ নিন 

০২ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি মোকাবেলায় কার্যকর উদ্যোগ নিন 

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত কারণে পৃথিবীর ভবিষ্যৎ নিয়ে রেড অ্যালার্ট জারি করেছে জাতিসংঘের বিজ্ঞানীদের একটি প্যানেল। আইপিসিসি বা জলবায়ু পরিবর্তন-বিষয়ক আন্তর্জাতিক প্যানেলের বিজ্ঞানীরা তাদের এক বিশেষ রিপোর্টে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন যে, মানুষের নানা কর্মকান্ডের পরিণতিতে অতীতের যে কোনো সময়ের চাইতে এখন দ্রুত হারে সমুদ্র পৃষ্ঠের উচ্চতা বাড়ছে এবং বরফ গলছে। এই কারণে বিভিন্ন প্রজাতির জীবজন্তু তাদের আবাসস্থল বদল করছে। পৃথিবীর মেরু অঞ্চলে বরফের আচ্ছাদন বিলীন হয়ে যাচ্ছে। এতে বাড়ছে কার্বন নিঃসারণের মাত্রা। এর আগে জলবায়ু পরিবর্তন সংক্রান্ত যেসব রিপোর্ট ও ভবিষ্যদ্বাণী করা হয়েছে, এই রিপোর্টে পরিস্থিতি তার চেয়েও ভয়াবহ ও বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এজন্য জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় রাজনীতিকদের ওপর জনগণের চাপ বাড়াবার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
আইপিসি রিপোর্টটি এমন সময়ে প্রকাশ হল, যখন বিশ্বনেতারা জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের ৭৪তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছিলেন। জলবায়ু পরিবর্তনজিনত নেতিবাচক প্রভাব মোকাবিলায় বিশ্বনেতারা চুক্তিতে উপনীত হলেও চুক্তি বাস্তবায়নে অগ্রগতি তেমন নেই বললেও চলে। বিজ্ঞানীরা এই জন্যই কি বারংবার হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে চলেছেন? আইপিসিসির প্রধান রিপোর্ট প্রণেতা ড. জ্যঁ পিয়েরে গাত্তুসো মনে করেন, বিভিন্ন দিক হতে ঝুঁকির কারণে ব্লুু প্ল্যানেট এখন মহাসংকটে। বিশেষ করে নিচু জায়গাগুলিতে সাগরের উচ্চতা বাড়ার পরিণতি হবে মহাভীতিকর। পৃথিবীতে বর্তমানে ৭০ কোটি মানুষ এইরকম নিচু উপকূলীয় এলাকায় বসবাস করে। এর মধ্যে শুধু অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশ রয়েছে এমন নয়, অনেক উন্নত দেশও এর ক্ষতির শিকার হবে। যেমন বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির কারণে নিউ ইয়র্ক বা সাংহাইয়ের মতো বিত্তশালী নগরগুলোও ঝুঁকিতে পড়বে। বিজ্ঞানীরা বলছেন, সাগরে তাপমাত্রা বাড়ার ফলে আবহাওয়া যে দিন দিন বিপজ্জনক আচরণ করছে, তা সামুদ্রিক ঝড় বা জলোচ্ছ্বাস বৃদ্ধির মাধ্যমেও উপলব্ধি করা যাচ্ছে। একই সঙ্গে প্রাণী কুলের আবাসস্থল পরিবর্তনের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেও তা স্পষ্ট হচ্ছে।
পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় যে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা প্রকাশ করা হচ্ছে, তার মধ্যেও অনেক বিশ্বরাজনীতির গন্ধ পাওয়া যায়। উন্নয়নশীল দেশগুলি বিশ্ব উষ্ণতা বৃদ্ধির জন্য প্রধানত শিল্পোন্নত দেশগুলিকে দায়ী করে ক্ষতিপূরণ দাবি করছে। অন্যদিকে উঠতি অর্থনীতির দেশ ও উন্নয়নশীল বিশ্বের দেশগুলির শিল্পোন্নত দেশে পরিণত হবার প্রচেষ্টাকে নিরৎসাহিত করা হচ্ছে। আসলে জলবায়ু পরিবর্তনের জন্য আমরা সকলেই কমবেশি দায়ী। বলা হয়, দারিদ্র্য নিজেও দূষণ সৃষ্টিকারী।
পৃথিবীতে জলবায়ু পরিবর্তন নূতন কোনো বিষয় নয়। নবি হজরত নূহ (আঃ) এর সময় মহাপ্লাবনে গোটা পৃথিবীই ডুবে গিয়াছিল। এই ভাবে বড়ো বড়ো প্রাকৃতিক দুর্যোগ-দুর্বিপাক বিভিন্ন সময় ধরে চলে আসছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে অস্তিত্বের ঝুঁকিতে আছে বাংলাদেশ। এজন্য এখানকার দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকাকে উপদ্রুত এলাকা বলে ঘোষণা করা দরকার। এ ছাড়া স্থায়ী ভেড়ীবাঁধ নির্মাণ ও রক্ষণাবেক্ষণে বিশেষ বরাদ্দ দেওয়া প্রয়োজন। এইসব এলাকায় বিশুদ্ধ খাবার-পানীয় সরবরাহের পাশাপাশি সুন্দরবন ও এর জীববৈচিত্র্য রক্ষা করা আবশ্যক। পাশাপাশি আমরা যদি সচেতন হই, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণগুলি চিহ্নিত করে প্রতিহত করি, তা হলে প্রাকৃতিক বিপর্যয় কম দেখা দিবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ