খুলনা | সোমবার | ১৮ নভেম্বর ২০১৯ | ৪ অগ্রাহায়ণ ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

সেফটি ট্যাংকি ও ড্রেনের ওপর স্থাপনা

কেসিসি’র তিন ওয়ার্ডে জমি দখলের মহোৎসব !

এন আই রকি | প্রকাশিত ০১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৫০:০০

খুলনা সিটি কর্পোরেশন (কেসিসি) এলাকার মধ্যে অবৈধ খাল দখলমুক্ত করার কাজ চলছে জোর গতিতে। তবে নগরীর তিনটি ওয়ার্ডে রাস্তা, ড্রেন এবং সেফটি ট্যাংকি দখল করে একাধিক অবৈধ স্থাপনা তৈরির মধ্যদিয়ে জমি দখলের মহোৎসব চলছে। কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান কোন ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। তবে কর্তৃপক্ষের দাবি আগামী শীত মৌসুমেই এসব এলাকায় উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হবে। 
সম্প্রতি কেসিসি’র উদ্যোগে অভিযান চালিয়ে ঝুপড়ি ও অস্থায়ী কিছু স্থাপনা অপসারণ করা হলেও তা কিছুদিনের মধ্যে আবারও আগের রূপে ফিরে আসে। এলাকাবাসীর দাবি, জবর দখল করে থাকা রাস্তা ও ড্রেন স্থায়ীভাবে উচ্ছেদ করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও বিপদের সময় ফায়ার সার্ভিস ও এ্যাম্বুলেন্স অনেক রোডেই প্রবেশ করতে পারে না। ফলে দুর্ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বাড়ে। স্থায়ীভাবে অবৈধ দখলমুক্ত হলে হাজার হাজার মানুষ উপকৃত হবে। 
অনুসন্ধানে জানা যায়, নগরীর খালিশপুর থানা এলাকার ১০, ১১ এবং ১২নং ওয়ার্ডে রাস্তা ও ড্রেনের জমি দখল করে স্থাপনা করা হয়েছে। নগরীর ১০নং ওয়ার্ডের চিত্রালী বিআইডিসি রোড, ১৭নং রোডের আটকে পড়া পাকিস্তানি এলাকা, ২৬নং রোডের মানষী বিল্ডিং, পৌর সুপার মার্কেট, ২৬৩নং রোড, পিপলস মোড়ের মসজিদেও পাশের রোড, ২৬৫নং রোড, ২৭৪নং রোডে দখলের পরিমাণ সব থেকে বেশি। পাশাপাশি এই ওয়ার্ডটির প্রায় ডজন খানেক সেফটি ট্যাংকি পুরোটাই দখলে রয়েছে। ১১নং ওয়ার্ডের ২৪২, ১০৭, ১৪৪ এবং ১০৪ নং রোডসহ একটি সেফটি ট্যাংকি দখলে। পাশাপাশি ১২নং ওয়ার্ডের ৭টি সেফটি ট্যাংকিসহ দখল রয়েছে হাউজিং বাজার, ১২৪, ১২৬, ১৩১ ও ১২২নং রোডের বিভিন্ন অংশে। এসব এলাকায় বছরের পর বছর অবৈধ দখলদার থাকার কারণে রাস্তা অনেক সরু হয়ে গেছে। অনেক ড্রেন বন্ধ হয়ে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। কেসিসির সেফটি ট্যাংকির চিহৃ মেলাটাই কঠিন হয়ে পড়েছে। রাস্তা ও ড্রেনের জমি দখল করে দোকান, ঝুপড়ি ঘর, অফিস, বাগান, নার্সারীসহ একাধিক স্থাপনা তৈরী করা হয়েছে। 
এ ব্যাপারে এস্টেট অফিসার নুরুজ্জামান তালুকদার জানান, নগরীর ১০, ১১ এবং ১২নং ওয়ার্ডে যে পরিমাণ দখলে রয়েছে, তা আর কোন ওয়ার্ডে নেই। এসব ওয়ার্ডের বেশিরভাগ রাস্তা, ড্রেন ও সেফটি ট্যাংকি দখল করে দোকান, ঝুপড়ি ঘর, অফিসসহ বিভিন্ন স্থাপনা করা হয়েছে। চলতি বছরেও কয়েক দফা এসব এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঝুপড়ি ঘর উচ্ছেদ করা হয়েছে। তবে বড় ও স্থায়ী স্থাপনা উচ্ছেদের জন্য কয়েক দফা মাইকিং করা হলেও কাজ হয়নি।   
খুলনা সিটি কর্পোরেশনের মেয়র তালুকদার আব্দুল খালেক এ প্রতিবেদককে বলেন, খালিশপুর এলাকায় রাস্তা সংস্কারের কাজ করার জন্য উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। আর বেশ কিছু রাস্তা দখলে রয়েছে। এ বিষয়ে হাউজিং কর্পোরেশনের সাথে আলোচনাও হয়েছে। তাদের কাছে ম্যাপও চাওয়া হয়েছে। ম্যাপ পাওয়ার পর দখলের বাস্তব চিত্র পাওয়া যাবে। তবে আগামী শীতেই সংশ্লিষ্ট এলাকায় দখলদার উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ