খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হোন

০১ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০:০০

সড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর হোন

দেশের সড়ক-মহাসড়কগুলোতে ‘চাঁদাবাজির মহোৎসব’ চলছে। প্রতিদিন দেশের মহাসড়কগুলোয় কমপক্ষে ২৩ লক্ষ ৩৯ হাজার টাকা চাঁদা আদায় হচ্ছে, বছর হিসাবে যার পরিমাণ অন্যূন ৮৫ কোটি ৩৭ লক্ষ ৬৯ হাজার টাকা। পরিবহন মালিক-শ্রমিক ছাড়াও মহসড়কের কোনো কোনো স্থানে পৌরকর ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠা উন্নয়নের নামে প্রতিদিন আদায় করা হচ্ছে মোটা অঙ্কের অর্থ। চাঁদাবাজির এ চিত্র শুধু মহাসড়কগুলোর। দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলার অভ্যন্তরের বিভিন্ন সড়কে চাঁদাবাজির ব্যাপকতা আরও বেশি। হাইওয়ে পুলিশের এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। বিষয়টি উদ্বেগজনক।
দেশে চাঁদাবাজি, দখলবাজি ও টেন্ডারবাজির জন্য দায়ী মূলত রাজনীতির বর্তমান ধারা, এতে কোনো সন্দেহ নেই। লেজুড়বৃত্তির রাজনীতির কারণে কোনো দল ক্ষমতাসীন হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের সমর্থিত বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের দৌরাত্ম মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। এ আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা হয় অস্ত্র ও পেশিশক্তি দ্বারা। দেখা যাচ্ছে, চাঁদাবাজরা সরকারি দলের নেতা-কর্মী ও ক্যাডার হওয়ায় প্রচলিত আইন ও নিয়মের তোয়াক্কা না করে নিজেদের খেয়ালখুশি মতো চাঁদাবাজি করে চলেছে। দুঃখজনক হল, পরিবহন সেক্টরে চাঁদাবাজির কারণে রাস্তায় চলাচলকারী অগণিত যাত্রী প্রতিদিন চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে সৃষ্টি হচ্ছে নানারকম প্রতিবন্ধকতা।
চাঁদাবাজির কারণে পণ্যমূল্য বৃদ্ধির অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজি বন্ধে ২০১৫ সালের শেষদিকে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশ কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে চিঠি দেয়া হয়েছিল। চিঠিতে কাজ কতটা হয়েছে, তা তো হাইওয়ে পুলিশের প্রতিবেদনেই স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে।
আমরা মনে করি, জনস্বার্থ রক্ষায় চাঁদাবাজির মতো অন্যায় ও অনৈতিক কর্মকান্ড অনতিবিলম্বে রোধ করা প্রয়োজন। আর কালক্ষেপণ না করে সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজিসহ সব ধরনের অরাজকতা শক্তহাতে নির্মূলের পদক্ষেপ নিতে হবে। দেশে অধিকংশ চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটছে ক্ষমতাসীন দলের নেতা-কর্মী ও ক্যাডার বাহিনীর ছত্র-ছায়ায়। কাজেই রাজনৈতিক নেতৃত্বের উদ্যোগ ও আন্তরিকতা ব্যতীত শুধু আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাস নির্মূল করা সম্ভব নয়। অঙ্গসংগঠনগুলোর বেআইনি কর্মকান্ড বন্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর দায়িত্বও কম নয়। কেউ বেআইনি কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে তার বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া দরকার সংগঠন থেকেও। পরিশেষে বলতে চাই, সারা দেশের সড়ক-মহাসড়কে চাঁদাবাজির সঙ্গে যুক্তদের গ্রেফতার ও আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করতে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি সরকার দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবে, এটাই আমাদের প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ