খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

তথ্য অধিকার আইনে মানুষের  ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করা জরুরী

৩০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

তথ্য অধিকার আইনে মানুষের  ন্যায্য সেবা নিশ্চিত করা জরুরী

মানুষের মৌলিক অধিকার অনেকটাই সংকুচিত হয়ে পড়েছে দেশে। যে কারণে মানুষ রাষ্ট্রের কাছ থেকে তার প্রাপ্য সেবাগুলো পাচ্ছে না। আধুনিক রাষ্ট্রের একটি কাজ হল মানুষকে করের বিনিময়ে সেবা প্রদান করা। এ সেবা দিতে হলে বর্তমান অবস্থার অবশ্যই উন্নতি ঘটাতে হবে। আর এ জন্য সর্বাগ্রে দরকার সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা। তথ্য অধিকার দিবস উপলক্ষে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) একটি রিপোর্ট প্রকাশ করেছে। এ রিপোর্টে বলা হয়েছে, দেশের ৮৯ শতাংশ মানুষ ঘুষ ছাড়া সেবা পান না আর দুর্নীতির শিকার ৭৫ ভাগ মানুষ কোথাও কোনো অভিযোগও করেন না। ২৫ ভাগ মানুষ অভিযোগ করেন বটে, তবে তারাও মনে করেন অভিযোগ করলেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায় না। টিআইবির প্রতিবেদনটি উদ্বেগজনক বটে। 
বস্তুত দুর্নীতি, বিশেষত ঘুষের সংস্কৃতির কারণে দেশের মানুষ তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। শুধু তাই নয়, নিজেদের বঞ্চনার কথা মানুষ নীরবে সহ্য করে থাকেন। কারণ তারা যাদের কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন তারাও দুর্নীতিমুক্ত নন। এমনকি মানুষ বিপদে পড়লে পুলিশের সাহায্যপ্রার্থী হতেও কুণ্ঠাবোধ করে থাকেন। কারণ তারা মনে করেন পুলিশের কাছে গেলে ঝামেলা আরও বাড়তে পারে। এমন অবস্থা একটি দেশের জন্য কখনোই সুখকর হতে পারে না। এই পরিস্থিতির উন্নতি ঘটাতে হবে অবশ্যই। আর এ জন্য শুধু বিচার ব্যবস্থাই যথেষ্ট নয়। শুধু বিচার দিয়ে দেশে সুশাসন প্রতিষ্ঠা করা যায় না। সুশাসনের জন্য আরও জরুরি হচ্ছে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা।
দেশে তথ্য অধিকার আইন আছে বটে, তবে এ আইন সম্পর্কে জানেন মাত্র ২৫ শতাংশ মানুষ, অথচ দুর্নীতি প্রতিরোধের সঙ্গে তথ্য জানার বিষয়টির রয়েছে বড় ধরনের সম্পর্ক। তথ্য অধিকার আইন সম্পর্কে যারা জানেন তারাও তথ্য জানার আগ্রহ সত্ত্বেও তা জানতে পারেন না। তথ্য পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হচ্ছে খোদ তথ্য কমিশনই। মানুষ তথ্য কমিশনে গিয়ে নানাভাবে হয়রানির শিকার হয়ে থাকেন। আমরা মনে করি, তথ্য পাওয়ার অধিকারকে সুরক্ষা দেয়ার সঙ্গে দুর্নীতি প্রতিরোধের বড় সম্পর্ক থাকায় এ দিকটায় সংশ্লিষ্টদের বিশেষ নজর দেয়া উচিত। তথ্য অধিকার আইনে বেসরকারি খাতের তথ্য পাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা তথ্য অধিকার আইনের একটি বড় দুর্বলতা। এ দুর্বলতাও কাটিয়ে উঠতে হবে।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ