খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৭ কার্তিক ১৪২৬ |

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  সেবার মান বাড়ান

২৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে  সেবার মান বাড়ান

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে সাফল্যের নজির নতুন নয়। শিশু ও মাতৃমৃত্যুর হার হ্রাস, কমিউনিটি ক্লিনিক প্রতিষ্ঠাসহ নানা ক্ষেত্রে রহিয়াছে ব্যাপক অবদান। এই অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ দেশি-বিদেশি নানা পুরস্কার ও সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। টিকা প্রদানে বাংলাদেশের অসামান্য সাফল্যের স্বীকৃতিতে তাকে ‘গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন এ্যান্ড ইমিউনাইজেশন’ নামক একটি সংস্থা ‘ভ্যাকসিন হিরো’ পুরস্কার প্রদান করেছেন। এই সাফল্যগুলি এমনিতেই আসেনি। সেখানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সেরও অবদান রয়েছে। তবে আমাদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে এমন কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে, অধিকতর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হলে তার আশু সমাধান জরুরি। যেমন, সামান্য অনেক অসুখের জন্য এখন বিভাগীয় বা রাজধানী ঢাকায় রোগীদের আসতে হয়। জরুরি অনেক চিকিৎসা আজকাল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে পাওয়া যায় না। এখানে ডাক্তার না থাকার বিষয়টি তো বহুল আলোচিত। এভাবে দূরে চিকিৎসা গ্রহণ করতে গিয়ে পথিমধ্যে অনেক মুমূর্ষু রোগী মৃত্যুবরণ করে। অথচ উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে উন্নত মানের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত না করতে পারলে প্রধানমন্ত্রীর ঘোষিত গ্রামকে শহরে রূপান্তরিত করা কঠিন হয়ে পড়বে।
উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে শয্যা বাড়ছে বটে, কিন্তু সেবার মান বৃদ্ধি করতে পারছি না। জনসংখ্যা বৃদ্ধির কারণে বিভিন্ন হাসপাতালে শয্যা বাড়ার সিদ্ধান্তটি সাধুবাদযোগ্য। কিন্তু শুধু শয্যা বাড়লেই চলবে না, এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি এবং চিকিৎক, নার্সসহ টেকনিশিয়ান নিয়োগ দিতে হবে। এই সকল কাজে কালক্ষেপণের কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে জটিল পরিস্থিতি তৈরি হচ্ছে। যেমন, হাসপাতালের শয্যা সংখ্যা ৩১ হতে ৫০-এ উন্নীত করার পর চাহিদা অনুযায়ী যন্ত্রপাতি ক্রয় করা হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তা চালাবার উপযুক্ত লোক নাই। ফলে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে হচ্ছে অন্যত্র এবং জনগণের স্বাস্থ্য খাতে ব্যয় বাড়ছে। কোথাও কোথাও এক্সরে মেশিন, এ্যাম্বুলেন্স ইত্যাদি বিকল হয়ে পড়ে রয়েছে। যথাসময়ে মেরামত করা হচ্ছে না। ইসিজি, আলট্রাসনোগ্রাফ প্রভৃতি মেশিন নষ্টের কারণে বেসরকারি হাসপাতালগুলির পোয়াবারো হচ্ছে। তাদের কেউ কেউ স্বাস্থ্যসেবার নামে মানুষকে জিম্মি করে বাণিজ্য করছে। 
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, সারাদেশে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স রয়েছে ৪২৪টি। তার মধ্যে ৩২০টি ৫০ শয্যাবিশিষ্ট। অবশিষ্ট ৯৩টি কমপ্লেক্স ৩১ ও ১১টি ১০ শয্যাবিশিষ্ট এবং দেশের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলিতে মোট শয্যা ১৮ হাজার ৯৯৩টি। এই সকল শয্যার বিপরীতে পর্যাপ্ত ডাক্তার-নার্স, টেকনিশিয়ান, কর্মকর্তা-কর্মচারী অবশ্যই নিয়োগ দিতে হবে। কোনো কিছুই রাতারাতি হয় না। তাই ধীরে ধীরে হইলেও সম্পন্ন হোক, তবে এমন ধীরে নয়, যার জন্য অপেক্ষা করতে হয় বছরের পর বছর। এই ব্যাপারে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা সিভিল সার্জনদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করা আবশ্যক। এই বিষয়ে ইতোমধ্যে যে টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে, তাহার সদস্যদেরও সক্রিয় হতে হবে। মনে রাখতে হবে, দেশের সবচাইতে বেশি মানুষ চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করে থাকেন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে। সুতরাং এই স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলির অধিকতর উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধি একান্ত কাম্য।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ