খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

ই-পাসপোর্ট সেবা যথাসময়ে চালু হোক

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

ই-পাসপোর্ট সেবা যথাসময়ে চালু হোক

তথ্যপ্রযুক্তিতে উন্নত ও সমৃদ্ধ তথা ডিজিটালাইজড বাংলাদেশ বিনির্মাণে বর্তমান সরকার অন্তরিক ও অঙ্গীকারবদ্ধ। এই প্রক্রিয়ারই অন্যতম একটি অপরিহার্য অংশ ই-পাসপোর্ট। ই-পাসপোর্ট সেবা বেশ আগে থেকেই চালু হওয়ার তথ্য জানানো হয়েছিল সরকারের পক্ষ থেকে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, বারবার সময় নির্ধারণ করা সত্ত্বেও ই-পাসপোর্ট সেবা চালু করা যায়নি। এর আগে কয়েক দফা তারিখ পরিবর্তনের পর সেপ্টেম্বরে চালুর কথা থাকলেও সম্ভব হয়নি। তবে আশার কথা আগামী ডিসেম্বরেই বাংলাদেশে ই-পাসপোর্ট চালু হতে যাচ্ছে। বুধবার সন্ধ্যায় সচিবালয়ে অর্থনৈতিক বিষয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ও সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এ কথা বলেন অর্থমন্ত্রী। বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ কমিটিকে জানিয়েছেন যে, এটি ডিসেম্বরের পরে যাবে না। ডিসেম্বরের মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী এটি নিজে উদ্বোধন করবেন। ডিসেম্বরের মধ্যেই জনগণ ই-পাসপোর্ট পাবেন।’
২০০৮ সাল থেকে উন্নত দেশগুলোতে ই-পাসপোর্ট চালু হয়েছে। আমাদের দেশে এমআরপির যাত্রা শুরু হয় ২০১০ সালে। যাহোক, দেরিতে হলেও ই-পাসপোর্ট চালু হওয়া ইতিবাচক বৈকি। প্রধানমন্ত্রী ২০১৬ সালের ২৪ এপ্রিল পাসপোর্ট সেবা সপ্তাহ উদ্বোধনের সময়ে ই-পাসপোর্ট চালুর বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছিলেন। এ লক্ষে ২০১৮ সালের ১৯ জুলাই ঢাকায় জার্মানির সরকারি প্রতিষ্ঠান ভেরিডোস জেএমবিএইচের সঙ্গে ডিআইপির ই-পাসপোর্ট সংক্রান্ত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। ওই বছরের ডিসেম্বরেই অত্যাধুনিক এ পাসপোর্ট গ্রাহকের হাতে তুলে দেয়ার কথা জানায় ডিআইপি। কিন্তু যন্ত্রপাতি সেটআপসহ বিভিন্ন ছোটখাটো সমস্যা, সফটওয়্যার ও যন্ত্রপাতি সেটআপে কিছু ত্র“টি ধরা পড়ায় তা সম্ভব হয়নি। ই-পাসপোর্ট কার্যকর করতে প্রকল্পের আওতায় জার্মানি থেকে ৫০টি ই-গেট আসার কথা রয়েছে তবে এখন পর্যন্ত এসেছে মাত্র তিনটি। এগুলো হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্থাপন করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হচ্ছে। ই-পাসপোর্ট বিতরণ করা হলেও দেশের বিমান ও স্থলবন্দরগুলোতে ই-গেট স্থাপন শেষ করা না গেলে এর সুফল মিলবে না। ই-পাসপোর্টের মেয়াদ বয়স অনুপাতে ৫ ও ১০ বছর হবে। তবে ই-পাসপোর্ট চালু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এমআর পাসপোর্ট বাতিল হবে না। কিন্তু কারও পাসপোর্টের মেয়াদ শেষ হয়ে গেলে তাকে এমআরপির বদলে ই-পাসপোর্ট নিতে হবে। বর্তমানে বই আকারে যে পাসপোর্ট আছে, ই-পাসপোর্টেও একই ধরনের বই থাকবে। তবে বর্তমান পাসপোর্টের বইয়ের শুরুতে ব্যক্তির তথ্যসংবলিত যে দু’টি পাতা আছে, ই-পাসপোর্টে তা থাকবে না। সেখানে থাকবে পালিমারের তৈরি একটি কার্ড। এই কার্ডের মধ্যে থাকবে একটি চিপ। সেই চিপে পাসপোর্টের বাহকের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। ই-পাসপোর্টের সব তথ্য কেন্দ্রীয়ভাবে সংরক্ষিত থাকবে ‘পাবলিক কি ডাইরেকটরি’তে (পিকেডি)। আন্তর্জাতিক এই তথ্যভান্ডার পরিচালনা করে ইন্টারন্যাশনাল সিভিল এভিয়েশন অর্গানাইজেশন (আইসিএও)। ইন্টারপোলসহ বিশ্বের সব বিমান ও স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষ এই তথ্যভান্ডারে ঢুকে তথ্য যাচাই করতে পারে। ই-পাসপোর্টের বাহক কোনো দেশের দূতাবাসে ভিসার জন্য আবেদন করলে কর্তৃপক্ষ স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে আবেদনকারীর তথ্যের সঙ্গে পিকেডিতে সংরক্ষিত তথ্য যাচাই করে আবেদন গ্রহণ করে বইয়ের পাতায় ভিসা স্টিকার কিংবা বাতিল করে সিল দিয়ে দেয়। স্থল ও বিমানবন্দরের ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষও একই পদ্ধতিতে পিকেডিতে ঢুকে ই-পাসপোর্টের তথ্য যাচাই করে থাকে। এটি এক অত্যাধুনিক প্রক্রিয়া ও পদ্ধতি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হলে আগমন ও বহির্গমন প্রক্রিয়া আরও সহজ ও দ্রুততম হবে। লম্বা লাইনে দীর্ঘক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকতে হবে না। এর পাশাপাশি জাল ও ভুয়া পাসপোর্টের দৌরাত্মও হ্রাস পাবে। যাত্রী হয়রানি কমবে। ই-পাসপোর্ট চালু হলে বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান হবে ১২০তম। এর মাধ্যমে বাংলাদেশে ডিজিটাল ব্যবস্থার আরও এক ধাপ উন্নতি সাধিত হবে। বাংলাদেশিরা বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ঝামেলাবিহীনভাবে ভ্রমণ করতে পারবেন। সুতরাং এতে নাগরিকরাও যে অধিক উপকৃত হবেন, তা বলাই বাহুল্য। যথাসময়ে ই-পাসপোর্ট সেবা চালু হয়ে সব অপেক্ষার অবসান ঘটুক-এটাই সবার প্রত্যাশা।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ