খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি

২৫ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি বন্ধে আদালতের নির্দেশনা দ্রুত বাস্তবায়ন জরুরি

একজন মানুষ যখন কোনো রোগে আক্রান্ত হয় তখন তিনি স্বাভাবিকভাবে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। চিকিৎসক রোগ নির্ণয় করে সেই রোগীকে দেন প্রয়োজনীয় ওষুধ। রোগী রোগ সারাতে ফার্মেসিতে গিয়ে কিনে নেন ওষুধ। কিন্তু রোগীকে বোকা বানিয়ে ফার্মেসিগুলো দিয়ে দেন মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ। সেই মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খেয়ে রোগী ভালো হওয়ার পরিবর্তে আরও অসুস্থ হয়ে পড়েন। কখনো কখনো মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ খাওয়ার কারণে মৃত্যু মুখেও পতিত হন। দুঃখজনক হলেও এটা আমাদের দেশের বাস্তবতা। সেই বাস্তবতা আরও সামনে আসে যখন স্বয়ং ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তা বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ আছে বলে তথ্য দেন।
রাজধানীর ৯৩ শতাংশ ফার্মেসিতে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি হয়। প্রায় সাড়ে তিন মাস পূর্বে গত ১০ জুন এমনই উদ্বেগজনক তথ্য সবার সামনে নতুন করে নিয়ে আসে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। নিয়মিত বাজার তদারকির ছয় মাসের প্রতিবেদন বিষয়টি উঠে আসে। শিক্ষিত জনগোষ্ঠীর এই শহর মানে রাজধানীর ফার্মেসিগুলোর যখন এমন অবস্থা তখন সারা দেশের ফার্মেসিগুলোতে কত ধরনের অনিয়ম হয়ে থাকে, তা সহজেই অনুমান করা যায়।
গত ১৮ জুন হাইকোর্ট মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ এক মাসের মধ্যে বাজার থেকে জব্দ ও ধ্বংস করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আদেশ দেন। পাশাপাশি এসব ওষুধ বিক্রি, সরবরাহ ও সংরক্ষণে জড়িতদের শনাক্ত করতে কমিটি গঠনের নির্দেশ দেয়া হয়েছিল। আদেশ বাস্তবায়ন করে স্বাস্থ্য সচিব এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তর, ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তর ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলেছিলেন আদালত। কিন্তু এর প্রায় কয়েক মাস পার হলেও এ বিষয়ে কোনো অগ্রগতি চোখে পড়েনি। উল্টো কয়েকদিন পর পরই দেশের বিভিন্ন স্থানে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির খবর আমাদের সামনে অস্বস্তির খবর হিসেবে আসে।
আমাদের দেশে শাকসবজি, মাছ-মাংস, দুধ, মশলা থেকে ফলমূল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় প্রায় সব খাদ্যে যেন ভেজালই এখন অনিবার্য। কেউ যদি মনে করেন এসব ভেজাল খাদ্য খেয়ে অসুস্থ হলে ওষুধ খেয়ে সুস্থ হবেন, সেখানেও অপেক্ষা করছে ভয়ানক বিপদ। কারণ ভেজালের তালিকায় বাদ নেই জীবনদায়ী ওষুধও। যা আমাদের মতো সাধারণ মানুষের জন্য সত্যিই ভয়ঙ্কর খবর। দুঃখজনক হলেও সত্য শহর থেকে শুরু করে গ্রামগঞ্জে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের ছড়াছড়ি। অক্ষরজ্ঞানহীন মানুষজন না জেনে এসব মরণ জিনিস কিনে নিয়ে যাচ্ছে প্রতিকারের আশায়। উল্টো প্রতিকার না হয়ে, ধাবিত হচ্ছে মৃত্যুর কোলে। আমাদের দেশে ১৯৭৪ সালের বিশেষ ক্ষমতা আইনের ২৫ (গ)-এর ১ (ঙ) ধারায় খাদ্য এবং ওষুধে ভেজাল মেশালে বা বিক্রি করলে অপরাধী ব্যক্তির মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা ১৪ বছর কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। আইনের খাতায় এমন শাস্তির বিধান থাকলেও আমরা কখনো শুনিনি খাদ্যে ভেজাল বা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রির অপরাধে কারো মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়েছে। আমরা মাঝে মাঝে যা দেখি তা হলো মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে ভেজালকারীকে আর্থিক দণ্ড দেয়া হয়। জরিমানার অঙ্কটা এতটাই কম হয় যে, অপরাধী তাৎক্ষণিক সেই টাকা পরিশোধ করে কিছুদিন বিরতি দিয়ে আবারও মহাআনন্দে বলা যায় প্রায় দ্বিগুণ উৎসাহে ভেজাল খাদ্য বিক্রির মহোৎসবে মেতে ওঠেন। ১৯৭৪ সালে সেই আইন হলেও বর্তমান সময়ে বিশেষ করে গত দুই যুগ ধরে এ দেশে খাদ্যে ভেজাল মেশানোর মাত্রা বেড়ে গেছে আশঙ্কাজনকভাবে। বিশেষ করে মেয়াদোর্ত্তীণ ওষুধ বিক্রির খবর আমাদের সবার মনে ভয় ধরিয়ে দেয়। আমরা মনে করি, শুধু ওষুধ নয়, মেয়াদোত্তীর্ণ প্রতিটি পণ্যই ভোক্তার স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। তাই এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে। সহজ কথায় এখন আদালতের নিদের্শনা বাস্তবায়ন করলেই আমরা এ ক্ষেত্রে প্রতিকার পেতে পারি। তাই সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত এ বিষয়ে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেয়া।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ