খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশে বক্তারা

ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে

খবর বিজ্ঞপ্তি | প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:৫৫:০০

ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিতরা সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর নির্যাতন চালাচ্ছে

ছাত্র ইউনিয়নের খুলনা বিভাগীয় সমাবেশে বক্তারা বলেছেন, দেশে গণতন্ত্রের লেশমাত্রও অবশিষ্ট নেই। রাতের অন্ধকারে ভোট ডাকাতির মাধ্যমে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত থেকে সকল খাতের ন্যায় বিশ্ববিদ্যালয়-কলেজগুলোও চর দখলের ন্যায় দখল করে সাধারণ শিক্ষার্থীদের উপর চালাচ্ছে অমানবিক নির্যাতন। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তল্পীবাহক, অযোগ্য দালাল ভিসি নিয়োগ করে শিক্ষার্থীদের মত প্রকাশের অধিকারকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। সরকারি দলের ছাত্র সংগঠনের ক্যাডার এমনকি বহিরাগতদের দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অপমান-অপদস্ত-লাঞ্ছনা-মারপিট নিত্যনৈমিত্তিক ব্যাপার। দেশটি সন্ত্রাসী-মস্তান-চাঁদাবাজ-লুটেরাদের দখলে। এদের দমনে মাঝে মাঝে আইওয়াশ দেখা গেলেও প্রকৃত অর্থে এ ব্যবস্থাকে প্রতিষ্ঠিত করা হচ্ছে।
রবিবার বিকেল ৪টায় নগরীর শহিদ হাদিস পার্কে ৫৭তম শিক্ষা দিবস উপলক্ষে কেন্দ্রীয় কর্মসূচির অংশ হিসেবে খুলনা বিভাগীয় ছাত্র সমাবেশে বক্তারা এসব কথা বলেন। বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন খুলনা বিভাগীয় সমন্বয় কমিটির উদ্যোগে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। 
এর আগে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে জাতীয় ও দলীয় পতাকা উত্তোলন এবং পরে দলীয় সঙ্গীত পরিবেশন করা হয়। ছাত্র ইউনিয়ন জেলা সংসদের সভাপতি ছাত্রনেতা উত্তম রায়ের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে প্রধান অতিথি ছিলেন সিপিবির কেন্দ্রীয় কমিটির অন্যতম সম্পাদক সরদার রুহিন হোসেন প্রিন্স। আরও বক্তৃতা করেন যশোর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারী অধ্যাপক অভিনু কিবরিয়া ইসলাম, ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি মেহেদী হাসান নোবেল, তাহসিন মল্লিক, বেলাল হোসেন বিদ্যা, ঝিনাইদহ জেলা সভাপতি আরিফুল ইসলাম মিটুল, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক জি এফ সাদিক প্রমুখ। সমাবেশের পর নগরীতে একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি বের হয় এবং দুই পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। 
সমাবেশে বক্তারা বলেন শিক্ষাকে চূড়ান্তভাবে পণ্যে পরিণত করা হয়েছে। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ছাত্র ও ছাত্রনেতা নামধারী সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে। শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ খুবই অপ্রতুল। বাজেটে শিক্ষাখাতে যাও বরাদ্দ দেয়া হয় তার মধ্যে রয়েছে শুভঙ্করের ফাঁকি। এর একটি বড় অংশ চলে যায় সামরিক শিক্ষাখাতে। সাধারণ শিক্ষাখাতে যৎসামান্য। কিন্তু দেশের পঁচানব্বই ভাগ শিক্ষার্থী সাধারণ শিক্ষায় শিক্ষিত হয়। জন্মলগ্ন থেকে সার্বজনীন বৃত্তিমূলক শিক্ষার দাবিতে ছাত্র ইউনিয়ন অদ্যাবধি লড়াই সংগ্রাম অব্যাহত রাখলেও সব সরকারই এক্ষেত্রে প্রায় সমান উদাসীন। কোটি কোটি শিক্ষিত যুবক বেকার, কিন্তু তাদের কর্মসংস্থানের কোন উদ্যোগ নেই বললেই চলে। 
বক্তারা বলেন, দেশের অভ্যন্তরে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ভুলুণ্ঠিত। কেউ ক্ষমতায় এসে ইতিহাস বিকৃত করে, কেউ করে খতিকরণ। মহান মুক্তিযুদ্ধ শুধু বিশেষ কোনো দল বা গোষ্ঠী করেনি, এতে আপামর জনসাধারণের প্রগতিশীল অংশ যেমন অংশ গ্রহণ করেছে, তেমনি ছাত্র ইউনিয়ন-ন্যাপ-কমিউনিস্ট পার্টি যৌথ গেরিলাবাহিনী গঠন করে এবং আন্তর্জাতিকভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা আদায় করে গৌরবোজ্জ্বল ভূমিকা পালন করে। কিন্তু দুঃখজনকভাবে মুক্তিযুদ্ধে নেতৃত্বদানকারী দলও তা সচেতনভাবে এড়িয়ে যায়।
বক্তারা শিক্ষা সমস্যা ভিত্তিক লড়াই-সংগ্রামে সাধারণ ছাত্রসমাজকে ছাত্র ইউনিয়নের সাথে থাকার আহ্বান জানান।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১