খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

উপাচার্যের পদত্যাগের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত : সংহতি প্রকাশ গোপালগঞ্জ আ’লীগের 

মারধরের পর এবার বঙ্গবন্ধু বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্দোলনকারীদের হুমকি

খবর ডেস্ক | প্রকাশিত ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:১৫:০০

গোপালগঞ্জ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণার পরও ভিসি ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের পদত্যাগের দাবিতে চতুর্থ দিনেও আন্দোলন চালিয়ে যান শিক্ষার্থীরা। অন্যদিকে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উপর হামলার পর এবার আন্দোলন থেকে সরে যেতে ভয়ভীতি দেখানোর অভিযোগ উঠেছে। পরিস্থিতি উত্তাল থাকায় ক্যাম্পাসসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষের নির্দেশ অমান্য করে হল ত্যাগ না করে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিয়ে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। 
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য সমর্থিত শিক্ষকরা তাদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে দাঁড়ানোর কথা বলছেন। তা না হলে তাদের সার্টিফিকেট আটকে রাখা এবং ক্লাস ও পরীক্ষার সময় ‘দেখে নেওয়ার’ হুমকি দিচ্ছেন।
বহিরাগতদের হামলার পর উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা, অজানা আতঙ্ক আর হুমকির মুখে তারা আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন বলে জানান। এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ ও কামনা করেছেন তারা।
এদিকে সংহতি প্রকাশ করেছেন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা। গতকাল রবিবার দুপুরে জেলা আ’লীগ সভাপতি ও জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান চৌধুরী এমদাদুল হক ও সাধারণ সম্পাদক মাহাবুব আলী খানের নেতৃত্বে বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা ক্যাম্পাসে এসে সংহতি প্রকাশ করেন।
পরে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে জেলা আ’লীগ নেতারা বলেন, ‘আমরা মনে করি এটা শিক্ষার্থীদের ন্যায্য আন্দোলন। তাই আমরা তাদের সঙ্গে সংহতি প্রকাশ করতে ক্যাম্পাসে এসেছি। আশা করবো, শিক্ষার্থীরা কোনও হিংসাত্মক আন্দোলন করবে না। শান্তিপূর্ণভাবে তারা আন্দোলন করবে।
আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে তারা বলেন, হাই কমান্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তাদের নির্দেশ দিয়ে পাঠিয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিদেশ থেকে আসার পর এ ব্যাপারে তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে। ওই সময় পর্যন্ত শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করার পরামর্শ দেন তারা।
এ সময় এক নেতা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন প্রত্যাহারের অনুরোধ জানালে শিক্ষার্থীরা তা প্রত্যাখ্যান করে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
এ সময় জেলা আ’লীগের সহ-সভাপতি শেখ রুহুল আমিন, গোপালগঞ্জ পৌর মেয়র কাজী লিয়াকত আলী লেকু, সদর উপজেলা আ’লীগ সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিটু, টুঙ্গিপাড়া উপজেলা চেয়ারম্যান সোলায়মান বিশ্বাস, জেলা যুবলীগের সভাপতি জি এম সাহাবউদ্দিন আযম ও সাধারণ সম্পাদক এমবি সাইফ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আব্দুল হামিদসহ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
আন্দোলন চলাকালে সমাবেশে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কৃত ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী সম্রাট বিশ্বাস বলেন, “২০১৬ সালে আমিসহ চারজনকে প্রথম তিন বছরের জন্য স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। এ নিয়ে ভিসি আমার বাবার সঙ্গে দুর্ব্যবহার ও তাকে অপমান করেন। পরে আমরা হাই কোর্টে রিট করে ছাত্রত্ব ফিরে পাই।”
তিনি আরও বলেন, “সিএসই’র শিক্ষার্থী অর্ঘ বিশ্বাস অসুস্থ থাকায় ক্লাসে ৫৮ ভাগ উপস্থিত ছিল। তাই তাকে পরীক্ষা দিতে বাধা দেয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। অর্ঘর অভিভাবকরা তাকে পরীক্ষায় বসানোর অনুরোধ করতে ভিসির কাছে যান। কিন্তু ভিসি তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করে তাদের অপমান করেন। এটি সহ্য করতে না পেরে অর্ঘ আত্মহত্যা করে।”
ভিসি নাসির উদ্দিনকে স্বৈরাচারী উল্লেখ করে সম্রাট বলেন, তিনি বিশ্ববিদ্যালয়কে দুর্নীতি, অনিয়ম, অন্যায়, অত্যাচার, নির্যাতন ও লুটপাটের কারখানায় পরিণত করেছেন। তিনি কথায় কথায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করেন। এছাড়া নিয়ম লঙ্ঘন করে নিজের পছন্দের শিক্ষকদের বিভাগীয় চেয়ারম্যান নিয়োগ দিয়ে আসছেন।
এছাড়া ভিসি বিরোধী প্রায় শিক্ষকদেরই শোকজ করে মানসিক নির্যাতন করা হয়। এ বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসির ছত্রছায়ায় শিক্ষার্থীদের ওপর এর আগেও হামলার ঘটনা ঘটেছে বলেও সম্রাটের অভিযোগ।  
তিনি বলেন, “এবার হামলার পর শিক্ষার্থীরা ফুঁসে উঠেছে। আগে তারা ভয়ে কথা বলত না। এখন মুখ খুলতে শুরু করেছে। ভিসির পতন না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে। সরকার তদন্ত কমিটি গঠন করে তদন্ত করলে আমাদের কাছে যে তথ্য-উপাত্ত আছে তাতেই ভিসি ফেঁসে যাবেন।”
গোবরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিকুর রহমান চৌধুরী টুটুল বলেন, “আমার ইউনিয়নে এ বিশ্ববিদ্যালয় অবস্থান। আমি এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবক “
শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাহতদের হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন, এ ঘটনায় তার ইউনিয়নের কেউ জড়িত নেই। ফের বহিরাগতরা শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার চেষ্টা করা হলে ইউনিয়নবাসীদের সঙ্গে নিয়ে তা প্রতিহত করা হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের সহকারী অধ্যাপক শামস্ আরা খান বলেন, “শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করছে। তাদের ওপর বহিরাগতরা যাতে হামলা করতে না পরে সে বিষয়টি আমরা পর্যবেক্ষণ করছি। তবে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে আন্দোলন থেকে সরে যাওয়ার হুমকি দেওয়ার বিষয়টি আমার জানা নেই।” 
অন্যদিকে ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর ড. মোঃ বশির উদ্দিনের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের সবশেষ পরিস্থিতি নিয়ে কথা হলে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা আগের মতোই আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। তাদের সঙ্গে সমঝোতার চেষ্টা চালানো হলেও তারা আমাদের সঙ্গে কোনো কথা বলতে রাজি হয়নি। 
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর বহিরাগতদের হামলার ঘটনাকে ন্যাক্কারজনক উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এ বিষয়ে ইইই বিভাগের ডিন প্রফেসর ড. আব্দুর রহিমকে প্রধান, আইন বিভাগের ডিন আব্দুল কুদ্দুছ মিয়াকে সদস্য সচিব ও ড. সামচুল আরেফিনকে সদস্য করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তারা আগামী পাঁচদিনের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিল করবেন।
তিনি আরও বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে হল ছাড়ার অফিস আদেশ থাকলেও শিক্ষার্থীরা কিন্তু হলে অবস্থান করছেন। আসলে আমরা তাদের রাগাতে চাই না। একটা শান্তিপূর্ণ সহঅবস্থান চাই আমরা। 
আন্দোলনের বিষয়ে জানতে চাইলে উপাচার্য খোন্দকার নাসির উদ্দিন বলেন, “শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগতভাবে ডেকে নিয়ে শিক্ষকরা আন্দোলন থেকে সরে যেতে হুমকি দিচ্ছেন না। এমনটি হওয়ার সুযোগ নেই।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিস্থিতি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়,  শিক্ষামন্ত্রী, স্থানীয় সংসদ সদস্য, শিক্ষা মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন, জেলা আওয়ামী লীগ, যুবলীগ ও ছাত্রলীগকে জানানো হয়েছে। এছাড়া এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানের চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।
তবে সর্বশেষ খবর অনুযায়ী আন্দোলনকারী শির্ক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আবারও হামলার আশঙ্কায় ভীত সন্ত্রস্ত্র হয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ছেড়ে চলে গেছেন। যারা ক্যাম্পাসের বাইরে ছিলেন তারাও অনেকে যার যার গ্রামের বাড়িতে চলে যাচ্ছেন বলে বিভিন্ন সূত্র থেকে জানা গেছে।
শেকৃবির মানববন্ধন : জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কার ও হয়রানির ঘটনায় জড়িতদের শাস্তি, আন্দোলনরত অবস্থায় শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার, ভিসির পদত্যাগ, সাংবাদিকতার পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং সাংবাদিক শামস জেবিনের ওপর হামলায় জড়িতদের শাস্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শেকৃবি) সাধারণ শিক্ষার্থীরা। এ সময় বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসিরউদ্দিনকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
রবিবার দুপুর ১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বশেমুরবিপ্রবি উপাচার্য ড. খোন্দকার নাসির উদ্দিনের কুশপুত্তলিকা দাহ করেন শিক্ষার্থীরা।
জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর নামে প্রতিষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিক ও সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়ে মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা বলেন, উপাচার্য বাইরের সন্ত্রাসী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা চালায়, তার (উপাচার্য) এ পদে থাকার কোনো যোগ্যতা নেই। অবিলম্বে এই অযোগ্য উপাচার্যকে অপসারণ করে তাকে বিচারের আওতায় আনতে হোক।
পরে বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. কামালউদ্দিন আহাম্মদের কাছে প্রতিবাদলিপি প্রদান করেন শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি।
প্রসঙ্গত, গত ১১ সেপ্টেম্বর আইন বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী ও ক্যাম্পাস সাংবাদিক ফাতেমা-তুজ-জিনিয়াকে সাময়িক বহিষ্কারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। পরে জিনিয়ার বহিষ্কারাদেশ তুলে নেওয়াসহ আরও কয়েকটি দাবি কর্তৃপক্ষ মেনে নিলেও ভিসির পদত্যাগের দাবিতে অন্দোলন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১