খুলনা | মঙ্গলবার | ২২ অক্টোবর ২০১৯ | ৬ কার্তিক ১৪২৬ |

বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য রোধে উদ্যোগ নিন

২৩ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০০:০০:০০

বিশ্ববিদ্যালয়ে নৈরাজ্য রোধে উদ্যোগ নিন

দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে অসন্তোষ সৃষ্টির পেছনে মূলত কাজ করছে দু’টি ইস্যু। একটি হলো সরকার সমর্থক ছাত্র সংগঠন ছাত্রলীগের অন্তঃকোন্দল, আরেকটি উপাচার্য সংক্রান্ত জটিলতা। প্রতিপক্ষ কোনো সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ না থাকায় দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দখলদারিত্ব কায়েম রয়েছে। ছাত্রলীগের এই এককাধিপত্য প্রকারান্তরে তাদের নিজেদের জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিপক্ষ সংগঠনের সরব উপস্থিতি না থাকায় ছাত্রলীগ নেতারা নিজেদের ব্যক্তিগত প্রভাব বিস্তারে দলের প্রতিদ্বন্ধীদের সঙ্গে সংঘাতে লিপ্ত হচ্ছেন। উত্তপ্ত করে তুলছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ। বিষয়টি ক্ষমতাসীন দলের জন্য অশনিসংকেত। 
গত শুক্রবার ইসলামী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে ক্যাম্পাস থেকে বিতাড়িত করেছেন দলের প্রতিপক্ষ গ্র“পের কর্মীরা। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ও বহিরাগতদের নিয়ে ক্যাম্পাসে প্রবেশ করেন রাকিব। জিয়া হল মোড়ে জড়ো হন রাকিবের কর্মীরা। রাকিবের ক্যাম্পাসে ঢোকার বিষয়টি ছাত্রলীগের প্রতিপক্ষ গ্র“পের কর্মীরা জানতে পেরে দেশীয় অস্ত্র লাঠিসোঁটা নিয়ে হল থেকে বের হন। তারা মিছিল করে ক্যাম্পাস থেকে বের করে দেন সাধারণ সম্পাদককে। এর আগে ৪০ লক্ষ টাকার বিনিময়ে সাধারণ সম্পাদক হয়ে আসার অডিও ফাঁস হলে ক্যাম্পাসে রাকিব-পলাশ কমিটিকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করেন ছাত্রলীগ নেতা-কর্মীরা। এ ঘোষণার পর শুক্রবারই প্রথম ক্যাম্পাসে  প্রবেশ করেন রাকিব। এদিকে গত শনিবার থেকে গোপালগঞ্জে উপাচার্যের পদত্যাগ দাবিতে আমরণ অনশন কর্মসূচি ও আন্দোলন অব্যাহত রেখেছেন শিক্ষার্থীরা। পরিস্থিতি আরও অবনতি রোধে কর্তৃপক্ষ শনিবার অনির্দিষ্টকালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করেছেন। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়েও অসন্তোষ চলছে ছাত্রলীগ ও উপাচার্য জটিলতায়।
দেশের পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোয় উপাচার্য নিয়োগে যোগ্যতার বদলে দলবাজি নিয়ামক হয়ে ওঠায় এমন অনেকে এই মর্যাদাপূর্ণ পদে আসছেন যাদের এমন মর্যাদা ধারণ করার ব্যক্তিত্ব নেই। ছাত্র রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধদের বদলে পেশিশক্তির পূজারিদের হাতে ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠনের দখল চলে যাওয়ায় ঐতিহ্যবাহী ছাত্র সংগঠনটি তাদের সুনাম ধরে রাখতে পারছে না। আমরা মনে করি, পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে সুস্থ পরিবেশ চাইলে বিদ্যমান নৈরাজ্যের অবসান ঘটাতে হবে। চালাতে হবে লাগাতার শুদ্ধি অভিযান। যোগ্যদের জন্য উপাচার্য পদ উন্মুক্ত করাও বাঞ্ছনীয়।
 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ







আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

আবরার হত্যার বিচার হবে তো?

১৪ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:০০







ব্রেকিং নিউজ