খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

গোয়েন্দা নজরদারিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট

খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

এন আই রকি | প্রকাশিত ২১ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২০:০০

খুলনায় তৎপর ৮টি গ্রুপ 

খুলনা জেলার বিভিন্ন স্থানে ৮টি (আটটি) গ্র“পের সন্ধান মিলেছে। প্রতিটি গ্র“পই ৮/১০জন সদস্য রয়েছে। এসব গ্র“পের অবস্থান বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বাইপাস সড়কের পাশ্ববর্তী এলাকায়। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শুরুর ও ছুটি হওয়ার সময়ে এবং সন্ধ্যার পর গ্র“পগুলো একত্রিত হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, ইভটিজিং, মাদক সেবনসহ বিভিন্ন অপকর্মে এসব গ্র“পর সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। এদিকে পুরাতন তিনটি গ্র“প নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে বলে প্রশাসন দাবি করছে। তারা জানিয়েছেন, জেলা ও নগরীর একাধিক গ্র“পকে নজরদারী করা হচ্ছে। সম্প্রতি সারাদেশেই মাদক বহন ও সেবন, ছিনতাই, ধর্ষণ, ইভটিজিং, রাজনৈতিক দলের হয়ে বিশৃংখলা, তুচ্ছ ঘটনায় মারামারি, খুনের মত ঘটনায় জড়িয়ে পড়ছে কিশোর ও যুবকরা। খুলনা জেলা কারাগারে বিভিন্ন অপরাধের জন্য প্রায় ২০জন কিশোর ও যুবক বন্দী রয়েছেন।
জানা যায়, নগরীর খালিশপুর পৌরসভা, পার্কের মোড়, হাউজিং বাজার ও আলমনগরে ১টি গ্র“প, রূপসা ব্রীজ ও পুরাতন রূপসা এলাকায় ১টি গ্র“প, সোনাডাঙ্গা বাসষ্ট্যান্ড- খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে নতুন রাস্তার মোড় এলাকায় ১টি গ্র“প, জিরোপয়েন্ট থেকে আফিল গেট বাইপাস সড়কে ১টি গ্র“প, বয়রা-পাবলিক কলেজ মোড়-মুজগুন্নি এলাকায় ১টি গ্র“প এবং দিঘলিয়া উপজেলার তেতুলতলা মোড়ে ১টি গ্র“প, বটিয়াঘাটা উপজেলা সদরে ১টি গ্র“প এবং ফুলতলায় উপজেলা সদরে ১টি গ্র“প রয়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রত্যেকটি গ্র“প ৮/১০জন বা এর বেশিও সদস্য রয়েছেন। এরা লেখাপড়ার পাশাপাশি বিভিন্ন সময় অপকর্মে জড়িয়ে পড়ছে। গ্র“পর সদস্যদের অনেকের আত্মীয় স্বজন রাজনীতির সাথে সর্ম্পৃক্ততা থাকার কারণে বড় অপরাধগুলো নিরবে সমাধান করা হচ্ছে। ধর্ষণ, ইভটিজিংয়ের মত বিষয়গুলো দুই পক্ষের উপস্থিতিতে মীমাংসা করা হচ্ছে। খালিশপুরের গ্র“পটির সাথে স্থানীয় পুলিশের ভাল সর্ম্পক রয়েছে। যার ফলে অনেকেই বিষয়টি জানে। কথিত রয়েছে, অনেক গ্র“প সদস্য সোর্স হিসেবেই কাজ করে। যার ফলে তাদের কাজে বাধা আসলেই তাকে পুলিশ দিয়ে ভয় দেওয়া হয়। নগরীর জিরোপয়েন্ট থেকে আফিল গেটে বাইপাস সড়কের গ্র“পটি ছিনতাই, ছুরিসহ বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম করে। বয়রা কলেজ মোড় ও মুজগুন্নি এলাকার গ্র“পটির সদস্যরা স্কুল ও কলেজে না গিয়ে বিভিন্ন স্থানে মাদক সেবন করেন। দিঘলিয়ার গ্র“পটি স্কুল ছুটির পর শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যেই বিভিন্ন অপরাধ কার্যক্রম করেন। বটিয়াঘাটার গ্র“পটি ইভটিজিং ও ধর্ষণের মত কাজের সাথে সম্পৃক্ত। র‌্যাবের তথ্যমতে রূপসা এলাকা, সোনাডাঙ্গা থেকে নতুন রাস্তা এবং ফুলতলা এলাকায় ৩টি গ্র“প রয়েছে।
এদিকে চলতি বছরের ২৯ জুন নগরীর পশ্চিম বানিয়াখামার এলাকায় স্কুল ছাত্রী এক কিশোরীকে গণধর্ষণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় তার বোন বাদি হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়, ৩ জন বখাটে যুবকের সহযোগিতায় ৬ জন যুবক তার বোনকে ধর্ষণ করে।
২০১৮ সালের ২০ জানুয়ারি প্রেম সংক্রান্ত বিরোধে খুলনা পাবলিক কলেজের সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র ফাহমিদ তানভীর রাজিনকে এলাকার ১১ জন কিশোর ছুরিকাঘাতে হত্যা করে। হত্যাকান্ডের ঘটনায় নগরীর বয়রা এলাকা থেকে মোঃ রয়েল ও মিতুল নামে ২ জনকে আটক করা হয়। তাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ ও পরবর্তীতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় গিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে ৩টি কিশোর গ্যাংয়ের সন্ধান পায় র‌্যাব। সেগুলো হচ্ছে ডেঞ্জার বয়েজ, গোল্ডেন বয়েজ ও টিপসি গ্যাং।
এ বিষয়ে নগর গোয়েন্দা শাখার উপ-পুলিশ কমিশনার বিএম নুরুজ্জামান বলেন, মহানগরে কোন নামধারী গ্যাং রয়েছে বলে তথ্য নেই। তবে একাধিক গ্র“প বা বন্ধু মহল রয়েছে। তাদের কার্যক্রম আমাদের নজরদারিতে রয়েছে। কেউ কোন কিছু করলেই সাথে সাথে আমরা ব্যবস্থা নিতে পারব।
জেলা গোয়েন্দার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোঃ আনিসুর রহমান জানান, কিশোর গ্যাং-এর অস্বিস্ত নেই। তাছাড়া ইভটিজিং, মাদকসহ বিভিন্ন বিষয়ে সচেতনতার জন্য ৯টি উপজেলায় কার্যক্রম চলছে। যতি কোন গ্র“পর সন্ধান থাকে তবে অবশ্যই তার বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
র‌্যাব-৬ এর অধিনায়ক লে: কর্ণেল সৈয়দ মোহাম্মদ নূরুস সালেহীন ইউসুফ এ প্রতিবেদককে বলেন, আগের ৩টি কিশোর গ্যাং নিস্ক্রিয় হয়ে গেছে। তাদের তথ্যমতে বর্তমানে নতুন করে ৩টি গ্র“প সক্রিয় হয়েছে। যা আমাদের নজরদারীতে। বিশেষ করে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিভিন্ন বাজার ও বাইপাস সড়কের আশেপাশে আমরা কোন গ্র“পর সন্ধান মিললেই তার ব্যাপারে খোজ খবর নিয়ে নজরদারী করছি। 

বার পঠিত

পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১