খুলনা | বুধবার | ২৩ অক্টোবর ২০১৯ | ৮ কার্তিক ১৪২৬ |

Shomoyer Khobor

মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীদের দ্বন্দ্বের জের

পাইকগাছার বাঁকা বাজারের শতাধিক দোকান ভাঙচুর, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা

পাইকগাছা প্রতিনিধি | প্রকাশিত ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ ০১:২৮:০০

পাইকগাছার বাঁকা বাজারের শতাধিক দোকান ভাঙচুর, ক্ষুব্ধ ব্যবসায়ীরা


পাইকগাছার প্রস্তাবিত শহিদ মালেক মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম সংলগ্ন জায়গায় অবস্থিত বাঁকা বাজারের শতাধিক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভাঙচুর করা হয়েছে। গতকাল বুধবার ভোরে স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ বিভিন্ন ব্যবসায়ীর দোকান ভেঙে দিলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। পরে ইউপি চেয়ারম্যান ও ক্যাম্প পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করেন। এ ঘটনায় ব্যবসায়ীরা মারত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তবে মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নেতৃবৃন্দ বলছেন, তাদের জায়গায় জোর করে ব্যবসায়ীরা দীর্ঘদিন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। 
রাড়–লী ইউপি চেয়ারম্যান ও বাঁকা বাজার কমিটির সভাপতি আলহাজ্ব আব্দুল মজিদ গোলদার জানান, বাজারের মূল কেন্দ্রে এক বিঘার মত সরকারি জায়গা (মাঠ) রয়েছে। স্বাধীনতার পূর্ব থেকে ওই জায়গায় ঈদের জামাত ও সভা-সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়ে আসছে। স্বাধীনতার পর এলাকাবাসী ওই জায়গার উপর স্থানীয় শহিদ মুক্তিযোদ্ধার নামে শহিদ মালেক মেমোরিয়াল স্টেডিয়াম নামকরণ করেন। এরপর থেকে ওই জায়গার উপর বাজার গড়ে ওঠে। এলাকার অসংখ্য ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী সবজি, মাছ, মাংস, পান-সুপারীসহ বিভিন্ন পণ্যের দোকান দেয়। রাড়–লী ইউনিয়ন মুক্তিযোদ্ধা সংসদ উপজেলা নির্বাহী অফিস থেকে উক্ত জায়গার ৩৫ শতক মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে একসনা বন্দোবস্ত নেয়। ইজারা নেওয়ার পর থেকে মুক্তিযোদ্ধা ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কিছুটা বিরোধ সৃষ্টি হয়। এরই জের ধরে গতকাল বুধবার ভোরে মুক্তিযোদ্ধা সবুর সরদারের নেতৃত্বে লোকজন উক্ত জায়গার উপর গড়ে ওঠা অসংখ্য দোকান ঘর ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ভেঙে দেয়। এতে শতাধিক ব্যবসায়ী ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয় এবং ঘটনাস্থলে উত্তেজনাকর পরিস্থিতি তৈরি হয়। খবর পেয়ে আমি নিজেই ঘটনাস্থলে গিয়ে ক্যাম্প পুলিশের সহায়তায় পরিস্থিতি স্বাভাবিক করি এবং বিষয়টি স্থানীয় সংসদ সদস্য ও উপজেলা চেয়ারম্যানকে অবহিত করি। প্রতিবন্ধী ব্যবসায়ী রফিকুল ইসলাম জানান, ২৭ বছর এ জায়গার উপর মাছের ব্যবসা করে পরিবার পরিজন নিয়ে সংসার চালাচ্ছি। দোকান ঘরটি ভেঙে দেওয়ায় আমি চরম ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। আব্দুর রাজ্জাক জানান, আমি ১৪ বছর যাবৎ ব্যবসা করে আসছি। উল্লিখিত জায়গাসহ গোটা বাঁকা বাজার ইজারা প্রদান করা হয়। ব্যবসায়ীরা ইজারাদারকে প্রতিদিন নিয়মিত খাজনা দিয়ে ব্যবসা করে আসছে। 
বাজার কমিটির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মাজেদ গাজী জানান, পূর্ব থেকেই কোন অবহিত না করে গতকাল বুধবার ভোরে হঠাৎ করে সবুরসহ কয়েকজন ব্যক্তি বাজারের সব দোকানপাট ভেঙে তছনছ করে দেয়। এতে অসংখ্য ব্যবসায়ীর চরম ক্ষতি হয়। শত শত ব্যবসায়ীদের বিকল্প কোন ব্যবস্থা না করে ভাঙচুর করায় তাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এ ব্যাপারে সাবেক উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার শেখ শাহাদাৎ হোসেন বাচ্চু জানান, ওটা কোন হাটের জায়গা না, হাট হবে পেরিফেরি জায়গায়। মূলতঃ ৩৫ শতক সম্পত্তি শহিদ মুক্তিযোদ্ধার নামে স্টেডিয়াম করার লক্ষে রাড়–লী মুক্তিযোদ্ধা সংসদের নামে ডিসিআর নেওয়া হয়। এলাকার কিছু লোকজন উক্ত জায়গা জোরপূর্বক দখল করে রেখেছিল। তাদের খাট, চৌকি ও দোকানের চালা সরানো হয়েছে। সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও মুক্তিযোদ্ধা আবুল কালাম আজাদ জানান, মুক্তিযোদ্ধাদের জায়গা দখল করা ব্যবসায়ীরা দীর্ঘ দিন ব্যবসা পরিচালনা করে আসছিল। তাদেরকে অনেকবার স্থান ত্যাগ করা জন্য বলা হলেও তারা সেখান থেকে যায়নি। সে কারনে এ জটিলতার সৃষ্টি হয়েছে। তিনি অনতিবিলম্বে ব্যবসায়ীদের একটি জায়গা নির্ধারণ করে দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট দাবি জানান। 


পাঠকের মন্তব্য (০)

লগইন করুন




আরো সংবাদ














ব্রেকিং নিউজ

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

প্রখ্যাত সুফিসাধক খানজাহান (রহঃ)

২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০০:৪১